লাইন পারাপারে নিষেধাজ্ঞা রেলের, ভোট বয়কট করে প্রতিবাদ বাসিন্দাদের

62

বেলাকোবা: আগামী ১৭ এপ্রিল জলপাইগুড়ি জেলায় বিধানসভা ভোট। শেষ রবিবার যখন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল প্রচারে ব্যস্ত, ঠিক সেই সময় ভোট বয়কটের ডাক দিলেন জেলার রানীনগর ও বামনপাড়ার দু’হাজারেরও বেশি বাসিন্দা। তাঁদের বক্তব্য, নিত্যদিনের যাতায়াতের জন্য ওই দুই গ্রামের বাসিন্দাদের রেললাইন পারাপার করতে হয়। সম্প্রতি রেলের তরফে সেই রেললাইন পারাপারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। রেল কর্তৃপক্ষ বোর্ড টাঙিয়ে জানিয়েছে, রেললাইন পারাপার করলে হাজার টাকা জরিমানা এবং ছ’মাসের জেল হতে পারে। রেলের এই নোটিশের পরই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। যাতায়াতের সমস্যার জন্য একটি স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

রানীনগরের বাসিন্দাদের একাংশ জানিয়েছেন, রেললাইন পার করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রানীনগর রবীন্দ্রনাথ উচ্চবিদ্যালয়ে ভোট দিতে যেতে হবে তাঁদের। অথচ রেলের তরফে লাইন পারাপারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি, বামনপাড়ার বাসিন্দাদের একাংশ জানান, প্রতিদিনই রেললাইন পার করে স্কুল-কলেজ ও গন্তব্যস্থলে যেতে হয়। সেই রেললাইন দিয়ে পারাপারে নিষেধাজ্ঞা জানানো হয়েছে। এরপরই এই রেললাইন পারাপারের সঠিক ব্যবস্থা করার দাবি রেল দপ্তর ও জনপ্রতিনিধিদের জানানো হয়। তবে এতে সমস্যার কোনও সমাধান না হওয়ায় ভোট বয়কটের সিদ্ধান্ত নেন দুই গ্রামের বাসিন্দারা। রবিবার একটি বৈঠক করেন জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের রাজগঞ্জ বিধানসভার বেলাকোবা গ্রাম পঞ্চায়েতের দুটি বুথের দু’হাজারের বেশি বাসিন্দা। সেখানেই তাঁরা ভোট বয়কটের ডাক দেন। তিনদিনের মাথায় সমস্যা সমাধানের দাবি জানানো হয়।

- Advertisement -

গ্রামবাসীদের এই দাবিকে সমর্থন জানিয়েছেন স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য মলয় অধিকারী। এপ্রসঙ্গে গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান কমলিনী সরকার বলেন, ‘গ্রামবাসীদের দাবি খুবই যুক্তিযুক্ত। কিন্তু নির্বাচন বিধি চালু থাকার জন্য কিছু করা সম্ভব নয়।’ বিধি উঠে গেলেই জনগণকে নিয়েই তিনি সমস্যার সমাধানে অগ্রাধিকার দেবেন বলে জানান।

জলপাইগুড়ির জেলাশাসক তথা রিটার্নিং অফিসার মৌমিতা গোদরা বসু বলেন, ‘এখন নির্বাচনি কোড অফ কনডাক্ট চালু আছে সুতরাং কিছু বলা যাবে না। নির্বাচনের দিন নির্ধারিত সময় ভোটারদের ভোট দেওয়ার জন্য বুথগুলি সচল রাখা হবে।’