সামসীতে সাঁকো দিয়ে পার হতে হয় কালভার্ট

সামসী : সামসী গ্রাম পঞ্চায়েতের পিণ্ডলতলা গ্রামে প্রায় পাঁচ বছর আগে কালভার্ট তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু এখনো সেই কালভার্টের ওপর কোনো রাস্তা তৈরি করা হয়নি। এমনকি কালভার্টের দুইধারে সংযোগকারী রাস্তার কাজও স্থানীয় প্রশাসন শেষ করতে পারেনি। একটি বাঁশের মাচা তৈরি করা হয়েছে। সেই বাঁশের মাচার ওপর দিয়ে প্রতিদিন স্থানীয় বাসিন্দাদের য়াতায়াত করতে হয়। এনিয়ে এলাকার মানুষজনের মধ্যে ক্ষোভ বাড়তে শুরু করেছে। দ্রুত সমস্যা না মিটলে গ্রামবাসীদের তরফে আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে। সামসী গ্রাম পঞ্চায়েতের তরফে বলা হয়েছে, টাকার অভাবেই কাজ থমকে রয়েছে। প্রকল্প তৈরি করে পাঠানো হয়েছে। ওপরমহল থেকে টাকা বরাদ্দ করা হলেই সংযোগকারী রাস্তা তৈরি করে দেওয়া হবে।

পিণ্ডলতলার বাসিন্দা জিয়াউল হক বলেন, পাঁচ বছর আগে সামসী পঞ্চায়েতের উদ্যোগে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা খরচ করে আলাউদ্দিনের বাড়ির সামনে খাঁড়ির ওপর একটি পাকা কালভার্ট তৈরি করে দেওয়া হয়। দীর্ঘদিন ধরেই খাঁড়ির ওপর দিয়ে যাতায়াতে এলাকার মানুষের সমস্যা হচ্ছিল। তাই কালভার্টের দাবি জানানো হয়েছিল। সেই দাবি মেনেই পঞ্চায়েত কালভার্ট তৈরি করে দেয়। কিন্তু সংযোগকারী রাস্তা আজও নির্মিত হয়নি। এনিয়ে গ্রামবাসীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। ওই গ্রামের বাসিন্দা ইসাহাক আলি বলেন, সংযোগকারী রাস্তা নির্মাণের জন্য পঞ্চায়েতকে একাধিকবার বলা হয়েছে। জানানো হয়েছে ব্লক প্রশাসন, এমনকি জেলাপরিষদকেও। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। যার ফলে গ্রামবাসীরা যাতায়াত করতে গিয়ে প্রচণ্ড সমস্যার মধ্যে পড়ছেন। পিণ্ডলতলার বাসিন্দা মহম্মদ ইব্রাহিম বলেন, কালভার্টের ওপর দিয়ে বাঁশের মাচা তৈরি করে কোনোরকমে হেঁটে যাতায়াত করা য়াচ্ছে। তবে কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারে না। তাই সকলের সুবিধার্থে সংযোগকারী রাস্তাটি তৈরি করা দরকার।

- Advertisement -

স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য আবু হোরাইরা ওরফে মামুন বলেন, ওই কালভার্টের দুদিকে সংযোগকারী রাস্তা নির্মাণের জন্য গত এক বছর আগে পঞ্চায়েতের তরফে ১০০ দিনের কাজ প্রকল্পে প্রায় পাঁচ লক্ষ টাকার প্রকল্প ব্লক প্রশাসনের কাছে জমা করা হয়েছে। কিন্তু সেই প্রকল্পের কোনো জবাব এখনও আসেনি। তাই কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। প্রশাসনের তরফে টাকার অনুমোদন দিলেই সংযোগকারী রাস্তাটি তৈরি করে দেওয়া হবে। সামসী গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান শ্রবণকুমার দাস বলেন, প্রকল্পটির য়াতে অনুমোদন মেলে, সেই বিষয়ে রতুয়া-১ ব্লকের উন্নয়ন আধিকারিকের কাছে আবেদন করা হয়েছে। রতুয়-১ ব্লকের উন্নয়ন আধিকারিক সারওয়ার আলি বলেন, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে।