নোটিশ ছাড়াই রেলের চালক, গার্ডদের ভাতা বন্ধ

422

কল্লোল মজুমদার, মালদা : দেশজুড়ে আর্থিক মন্দার হাত ধরেই চরম সংকটে ভুগছে রেল। পরিস্থিতি অর্থ সংকটে জেরবার পূর্ব রেলের মালদা ডিভিশনের গার্ড, চালক ও সহচালকদের রানিং অ্যালাউন্স বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শুধু পূর্ব রেলের মালদা ডিভিশনই নয়, এই অ্যালাউন্স বন্ধ করা হয়েছে উত্তর রেলের দিল্লি ডিভিশনেও। একই পরিস্থিতি হাওড়া ডিভিশনেও। কোনো নোটিশ ছাড়াই এভাবে অ্যালাউন্স বন্ধ করে দেওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষোভ জমছে কর্মীদের মধ্যে।

হাওড়া ডিভিশনে চলতি মাসে কোনোরকমে ওই অ্যালাউন্স দেওয়া হলেও আগামী মাস থেকে তা বন্ধ হতে পারে বলে খবর। যদিও গত ২২ নভেম্বর হাওড়া ডিভিশনের অ্যাডিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার (অপারেশনাল) আর্থিক সংকটের কথা লিখিতভাবে জানিয়েছেন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে। লোকো রানিং স্টাফের রানিং অ্যালাউন্স এবং লিভ অ্যালাউন্সের এরিয়ার বাবদ ৭৮ কোটি টাকা চাওয়া হয়েছে। এই নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছেন কর্মীরা। ইতিমধ্যে চালক ও গার্ডরা যৌথভাবে মালদা ডিভিশনের জেনারেল ম্যানেজারের কাছে দরবার করেছেন। যদিও ডিআরএম সঠিক কোনো উত্তর দিতে পারেননি। মালদা ডিভিশনে প্রায় চার হাজার চালক, সহচালক রয়েছেন। গার্ডের সংখ্যা চার শতাধিক।

যদিও এই নিয়ে রেলকর্মীদের বাম, ডান কোনো সংগঠনের নেতারাই মুখ খুলতে চাননি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রেলগার্ডদের এক নেতা জানিয়েছেন, চলতি আর্থিক বছরে মালদা রেল ডিভিশনে গার্ড, চালকদের রানিং অ্যালাউন্স বাবদ ১১ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়। তবে এই আর্থিক বছর শেষ হওয়ার পাঁচ মাস আগেই ওই বরাদ্দের মধ্যে ১০ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা খরচ হয়ে গিয়েছে। ফলে টাকা না থাকার জন্য গত নভেম্বর মাস থেকে রানিং অ্যালাউন্স বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এতে একেক জন কর্মী গড়ে ৩০ হাজার টাকা করে কম বেতন পাচ্ছেন।

এবিষয়ে মালদা ডিভিশনের পরিচালন কমিটির সদস্য তথা তৃণমূল নেতা নরেন্দ্রনাথ তিওয়ারি বলেন, ঘটনাটি একদম সত্যি। চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে ভারতীয় রেল। গত মাস থেকে মালদা ডিভিশনের লোকো রানিং স্টাফরা রানিং অ্যালাউন্স থেকে বঞ্চিত। এই ঘটনা চরম লজ্জার। আমার মনে হচ্ছে, ভারতীয় রেলকে পুরোপুরি বেসরকারীকরণের উদ্যোগ নিয়েছে মোদি সরকার। যার প্রথম ধাপ লোকো রানিং স্টাফদের প্রাপ্য কোনো আগাম নোটিশ বা লিখিত নোটিশ ছাড়াই শুধুমাত্র মৌখিক নির্দেশেই বন্ধ করে দেওয়া হল রানিং অ্যালাউন্স। আমি এই মুহূর্তে মালদায় নেই। ফিরে গিয়ে রেলকর্মীদের স্বার্থে আন্দোলনে নামব।

এই প্রসঙ্গে বামপন্থী সংগঠন ইস্টার্ন রেলওয়ে মেনস ইউনিউয়নের জোনাল নেতা রূপাতন দাস বলেন, ইস্টার্ন রেলওয়ে মধ্যে চারটি ডিভিশন। শিয়ালদা, হাওড়া, আসানসোল ও মালদা। এরমধ্যে কোনো লিখিত নোটিশ ছাড়া লোকো রানিং স্টাফদের রানিং অ্যালাউন্স বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যা বেতনেরই একটা অংশ। অতীতে এই ঘটনা কোনোদিন ঘটেনি। আসলে কেন্দ্রীয় সরকার ভারতীয় রেলকে বিক্রি করে দিতে বিএসএনএলের ধাঁচে নিয়ে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে জামালপুর ও সাহেবগঞ্জে গার্ড, চালকরা বিক্ষোভ দেখিয়েছেন, সই সংগ্রহ শুরু করেছেন।

রূপাতন দাস বলেন, মালদায় ডিআরএমের সঙ্গে দেখা করেছেন। তিনি কর্মীদের আশ্বস্ত করতে পারেননি। তবে বলেছেন, আগামী মাস থেকে টাকা দেওয়ার চেষ্টা করবেন। যদিও আমি নিজে এই নিয়ে এক ডিপার্টমেন্টাল অফিসারের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি জানিয়েছেন, ফান্ডে টাকা নেই, শেষ হয়ে গিয়েছে। আমাদের সংগঠনের সদস্যরা কর্মবিরতির পথে যেতে অনুমতি চান। কিন্তু এখনই ওই পথে যেতে বারণ করা হয়েছে। কারণ, এই মুহূর্তে চেন্নাইয়ে আমাদের সংগঠনের সর্বভারতীয় সম্মেলন চলছে। সেখানে আলোচনার পর পরবর্তী আন্দোলনের রূপরেখা তৈরি হবে।