দেবদুলাল সাহা, হরিশ্চন্দ্রপুর : পঞ্চায়েতের উদাসীনতায় সজলধারা প্রকল্পে আর্সেনিকমুক্ত পানীয় জল সরবরাহকেন্দ্রটি এক মাস ধরে বন্ধ থাকায় জল সংকটে ভুগছে উত্তর মালদার হরিশ্চন্দ্রপুর-২ ব্লকের ভালুকা বাজারের বাসিন্দারা। পানীয় জল সংকট প্রবল আকার নিয়েছে ভালুকা গ্রাম পঞ্চায়েতের কালীতলা, নয়াটোলা, ভালুকা বাজার, মহালদারপাড়া, বাবুপাড়া ও বাঙালিপাড়া এলাকায়। সমস্যায় প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ।

পঞ্চায়েত দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৪ সালে রাজ্য সরকারের উদ্যোগে এমএসডিপি ফান্ড থেকে ১২.৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ভালুকা পুলিশ ফাঁড়ির পাশে আর্সেনিকমুক্ত পানীয় জল সরবরাহকেন্দ্রটি নির্মাণ করা হয়। এর ফলে ওই জল সরবরাহকেন্দ্র থেকে ভালুকা গ্রাম পঞ্চায়েতের ৫-৭টি গ্রাম সংসদের মানুষ আর্সেনিকমুক্ত জল পরিসেবা পেত। কিন্তু ওই পানীয় জল সরবরাহকেন্দ্রটি কী কারণে বন্ধ রয়েছে, তা নিয়ে ধোঁয়াশায় রয়েছে এলাকাবাসী। বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, এর আগে ওই এলাকার লোকজন মাসিক চাঁদা দিয়ে ওই জল সরবরাহকেন্দ্র থেকে পানীয় জল নিয়ে যেত। এখন সেটি বন্ধ থাকায় পরিস্রুত পানীয় জল না পেয়ে ফিরে যাচ্ছে এলাকার লোকজন।

- Advertisement -

স্থানীয় বাসিন্দা অমলেন্দু সাহা, প্রদীপ মহলদার, চারু মালাকাররা জানান, রাজ্য সরকার এলাকার গরিব, দুস্থ ও খেটে খাওয়া মানুষের কথা মাথায় রেখে ভালুকা পুলিশ ফাঁড়ির পাশে সরকারি জমিতে ওই আর্সেনিকমুক্ত পানীয় জল সরবরাহকেন্দ্রটি ৫ বছর আগে তৈরি করে। পাঁচ হাজারেরও বেশি মানুষ ওই পানীয় জল সরবরাহকেন্দ্র থেকে পরিসেবা পেত। ওই কেন্দ্রটির বিদ্যুৎ বিল বর্তমানে পঞ্চায়ে কর্তৃপক্ষ দিতে রাজি নয়। সরকারি প্রকল্পের জল হলেও এর আগে মোটা অঙ্কের মাসিক চাঁদা দিয়ে এলাকার মানুষ জল নিয়ে যেত। এখন বিদ্যুৎ বিলের কারণেই জল পরিসেবা বন্ধ রয়েছে। পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ ইচ্ছা করলে নিজস্ব তহবিল থেকে ওই বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে পারে। অথচ তারা সেটা করছে না। পঞ্চায়েতের উদাসীনতাতেই পানীয় জলের সংকটে ভুগছে ভালুকার বাসিন্দারা। প্রায় এক মাস ধরে পরিসেবা বন্ধ রয়েছে। পঞ্চায়েতের বসানো অধিকাংশ নলকূপ বিকল হয়ে পড়ে রয়েছে। পিএইচইর জল পানের অযোগ্য। দীর্ঘদিন ধরে পিএইচইর পাইপলাইন খারাপ থাকায় সেই নোংরা জল কেউ পান করে না। গ্রামবাসীদের পক্ষে বাজার থেকে জারের মিনারেল ওয়াটার কিনে খাওয়া সম্ভব নয়। আমরা চাই, পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ দ্রুত সমস্যার সমাধান করে এলাকায় আর্সেনিকমুক্ত পানীয় জল পরিসেবা স্বাভাবিক করুক।

ভালুকা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান মিনু মুশহর বলেন, সমস্যাটি দ্রুত সমাধান করার চেষ্টা করছি। এলাকার লোকজন যাতে দ্রুত আর্সেনিকমুক্ত জল পায় তার ব্যবস্থা করা হবে। হরিশ্চন্দ্রপুর-২-এর বিডিও প্রীতম সাহা এ প্রসঙ্গে জানান, আমি ভালুকা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের সঙ্গে এই বিষয়ে যোগাযোগ করে দেখছি, যাতে ওই আর্সেনিকমুক্ত জল সরবরাহকেন্দ্র থেকে এলাকার মানুষ দ্রুত জল পরিসেবা পায়।