দীপংকর মিত্র, রায়গঞ্জ : নেই কোনো ছাউনি। বাধ্য হয়ে স্কুলের পাশের জমিতে খোলা আকাশের নীচেই পড়ুয়াদের খেতে হয় মিড-ডে মিল। অনেক সময় পড়ুয়াদের পাশেই ভিড় জমায গোরু, ছাগল বা কুকুর। এমন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশেই দীর্ঘদিন ধরে মিড-ডে মিল প্রকল্প চলে আসছে রায়গঞ্জ ব্লকের বড়ুয়া অঞ্চলের আটিয়াকুণ্ডি জিএসপি স্কুলে। শুধু এই স্কুলেই নয়, রায়গঞ্জ ব্লক সহ উত্তর দিনাজপুর জেলার একাধিক ব্লকের স্কুলেই মিড-ডে মিলের উপযুক্ত পরিকাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি বলে বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ উঠেছে। মিড-ডে মিলকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে প্রশাসনের শীর্ষকর্তারা মাঝেমধ্যেই বিভিন্ন স্কুলে গিয়ে পড়ুযাদের পাশে বসে মিড-ডে মিল খাচ্ছেন। কিন্তু পরিকাঠামো নিয়ে অভিযোগ থাকলেও তা দূর করতে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে দাবি একাধিক স্কুল কর্তৃপক্ষ সহ সাধারণ মানুষের।

খুদে পড়ুয়াদের বিদ্যালয়মুখী করে তুলতে মিড-ডে মিল কর্মসূচিকে সঠিকভাবে বাস্তবায়িত করতে সরকারি তরফে বিভিন্ন নির্দেশিকা রয়েছে। কিন্তু উত্তর দিনাজপুর জেলার বহু স্কুলে সুষ্ঠুভাবে মিড-ডে মিল পরিচালনার জন্য পরিকাঠামো গড়ে ওঠেনি। পড়ুয়াদের মিড-ডে মিল খাওয়ার জন্য বিদ্যালয়গুলিতে আলাদা করে ছাউনির ব্যবস্থা না থাকায় খোলা আকাশের নীচেই মিড-ডে মিল খেতে হয় খুদে পড়ুয়াদের। আবার অনেক বিদ্যালয়ে মিড- ডে মিল খাওয়ার জন্য যেতে হয় স্কুলের পাশে অন্যের জমিতে। এমনই একটি স্কুল বড়ুয়া অঞ্চলের আটিয়াকুণ্ডি শ্যামলগ্রাম প্রাথমিক বিদ্যালয়। স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী সনোতি মুর্মু বলে, স্কুলে বসে খাওয়ার মতো জায়গা নেই। তাই বাইরে গিয়ে খেতে হয়। অনেক সময় গোরু, কুকুর চলে আসে। খাওযার সময় গরম ডাল, ভাত হাত-পায়ে ছিটকে পড়ে। প্রাথমিক স্কুলের রন্ধনকর্মী সুপ্রিয়া বর্মন বলেন, দমবন্ধ করা ছোট্ট ঘরে কাঠের উনুনে রান্না করতে হয়। প্রচণ্ড গরমে রান্না করতে বেশ সমস্যা হয়। মাঝেমধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়ি। খড়ি দিয়ে রান্না করা যায় না। তাই গ্যাসের ব্যবস্থা করা হলে ভালো হয়। বিদ্যালয়ের  মিড-ডে মিলে পরিকাঠামোর সমস্যার কথা স্বীকার করেছেন প্রধান শিক্ষক সুবীর সরকার। তিনি বলেন, বিদ্যালয়ের নিজস্ব পরিকাঠামো নেই। তাই পাশের অন্যের জমিতে খোলা আকাশের নীচেই মিড-ডে মিল খেতে হয় শিশুদের। আমরা আমাদের সমস্যার কথা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যা লক্ষ্মী বর্মন বলেন, বিদ্যালয়ে জায়গা না থাকায় পাশের জমিতে খোলা আকাশের নীচে পড়ুয়ারা মিড- ডে মিল খায়। স্কুল চত্বরে অতিরিক্ত জমি না থাকায় ছাউনি তৈরি করা যায়নি।

বড়ুয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ধনেশ্বর বর্মন মিড-ডে মিলের পরিকাঠামোর অভাবের কথা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, পঞ্চায়েত থেকে কিছু করা যায় কিনা, তা খতিয়ে দেখা হবে। রায়গঞ্জের বিডিও রাজু লামা বলেন, আমরা আগে বিভিন্ন স্কুলের মিড-ডে মিলের পরিকাঠামো নিয়ে রিপোর্ট সংগ্রহ করব। তারপর যে স্কুলগুলির পরিকাঠামো নেই, সেই স্কুলগুলির নাম জেলার কাছে পাঠাব। ইতিমধ্যে জেলার বিভিন্ন স্কুলে মিড-ডে মিলের কিচেন শেডগুলির সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে। মিড-ডে মিল কর্মসূচি সফল করার জন্য বিদ্যালয়গুলির পরিকাঠামো উন্নয়নের দাবি তুলছেন শিক্ষকরা।