শেড নেই, রোদ-জল মাথায় নিয়ে পসরা সাজান বিক্রেতারা

গৌতম সরকার, কামাখ্যাগুড়ি : টানা বৃষ্টির মধ্যে মাথায় ছাতা নিয়ে সবজি বিক্রি করছেন এক মহিলা। বৃষ্টির জলে ভিজে গেলেও কিছু করার নেই। এভাবেই রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে খোলা আকাশের নীচে বসে ব্যবসা করেন কামখ্যাগুড়ি খুচরো বাজারের সবজি ব্যবসায়ীরা। তাঁদের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে জেলা পরিষদের কাছে দাবি জানালেও এই বাজারে শেড তৈরি করা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপের দাবিতে সরব হয়েছেন তাঁরা। আলিপুরদুয়ার জেলা পরিষদের সভাপতি শীলা দাসসরকার বলেন, কামাখ্যাগুড়ি বাজার সম্পূর্ণভাবে সংস্কার করা হবে। সেই সময় সবজি ব্যবসায়ীদের দাবির বিষয়টিও দেখা হবে।

কামাখ্যাগুড়ি বাজারের ধানহাটিতে প্রতিদিন সকালে ও সন্ধ্যায় কয়েকশো খুচরো সবজি ব্যবসায়ী পসরা সাজিয়ে বসেন। অনেকে রোদ-বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচতে পলিথিনের ত্রিপল টাঙান। যাঁদের পক্ষে তা সম্ভব হয় না, তাঁরা খোলা আকাশের নীচে বসেই ব্যবসা করেন। ফলে রোদ-বৃষ্টিতে নাজেহাল হন তাঁরা। তাই বাজারের এই অংশে শেড নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, মাছ, দুধ ও চিঁড়ে-মুড়ি ব্যবসায়ীরা শেডের নীচে বসে ব্যবসা করছেন। অথচ তাঁদের খোলা আকাশের নীচে বসে ব্যবসা করতে হচ্ছে। সবজি ব্যবসায়ী লক্ষ্মী দাস বলেন, বাজারে শেড নেই। এমনকি ত্রিপল লাগানোর মতো ব্যবস্থা নেই। খোলা আকাশের নীচে দোকান করি। ফলে রোদ হোক বা বৃষ্টি, খুবই নাজেহাল হতে হয় আমাদের। শেড নির্মাণ করা হলে আমাদের এই সমস্যার সমাধান হবে। ব্যবসায়ী লিটন সাহা বলেন, আমাদের জানানো হয়েছিল বাজারে শেড নির্মাণ করা হবে। দুর্গাপুজোর আগে শেডের মাপজোখ হয়েছিল। কিন্তু তারপরে কাজ একচুলও এগোয়নি।

- Advertisement -

ফল ব্যবসায়ী উত্তম দত্ত বলেন, শেড না থাকায় রোদ-বৃষ্টি থেকে বাঁচতে আমরা পলিথিনের ত্রিপল টাঙাই। কিন্তু বেশি বৃষ্টি হলে তা কাজে লাগে না। সবজি ব্যবসায়ী অমর কর জানান, মাছ, দুধ, চিঁড়ে-মুড়ি ও মাংস ব্যবসাযীরা শেডের নীচে বসেই ব্যবসা করেন। কিন্তু সবজি বাজারের কয়েকশো খুচরো ব্যবসায়ী খোলা আকাশের নীচেই বসছেন। প্রশাসনের কেউই বিষয়টি নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছে না। কামাখ্যাগুড়ি ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক বাদল সাহা জানান, খুচরো সবজি ব্যবসায়ীদের জন্য শেড নির্মাণের ব্যাপারে জেলা পরিষদকে জানানো হয়েছিল। জেলা পরিষদ শেড নির্মাণের ব্যপারে আশ্বাসও দিয়েছে।