শিক্ষারত্ন, সেরা স্কুলের তালিকায় দক্ষিণ দিনাজপুর ব্রাত্য

সুবীর মহন্ত, বালুরঘাট : রাজ্য সরকারের শিক্ষারত্ন ও সেরা স্কুলের তালিকায় এবছরও ব্রাত্য দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা। এই জেলার কোনও স্কুল সেরার তালিকায় স্থান পায়নি। এমনকি প্রাথমিক, মাধ্যমিক, কলেজের কোনও শিক্ষকও এই পুরস্কার পাচ্ছেন না। অথচ ইউনিসেফ বা শিক্ষা দপ্তরের তরফে রাজ্যের সেরা স্কুল হিসেবে এই জেলার একাধিক স্কুল যামিনী রায় পুরস্কার পেয়েছে। এই অবস্থায় অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, তাহলে কী এই জেলার শিক্ষার মান একেবারেই নীচে নেমে গিয়েছে, না এর পেছনে কোনও রাজনৈতিক কারণ রয়েছে?

বছর ৫ সেপ্টেম্বর শিক্ষক দিবসে রাজ্যের তরফে শিক্ষারত্ন ও সেরা স্কুলের পুরস্কার দেওয়া হয়। সেইমতো এবছরও শিক্ষারত্ন ও সেরা স্কুলের জন্য জেলাভিত্তিক তালিকা পাঠানো হয়েছিল। গত শনিবার বিভিন্ন জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শকের কাছে সেই তালিকা পৌঁছতে শুরু করেছে। সেই তালিকায় ব্রাত্য রয়েছে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার নাম। এই জেলার কোনও শিক্ষক বা স্কুলের নাম নেই। এনিয়ে টানা ৪ বছর জেলার কোনও স্কুল বা শিক্ষক এই তালিকায় স্থান পাচ্ছেন না। শেষবার ২০১৬ সালে জেলার সেরা স্কুলের পুরস্কার পেয়েছিল দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার তপন ব্লকের চেঁচাই প্রাথমিক স্কুল। ইউনিসেফ ও রাজ্য সরকারের শিক্ষা দপ্তরের বিচারে ২০১৬ সালে রাজ্যের সেরা স্কুল হিসেবে যামিনী রায় পুরস্কারে প্রথম হয়েছিল হিলি চক্রের চকদাপট প্রাথমিক স্কুল, ২০১৭ সালে চেঁচাই প্রাথমিক স্কুল, ২০১৯ সালে তপনের হাসনগর প্রাথমিক স্কুল ও গঙ্গারামপুরের রায়পুর প্রাথমিক স্কুল পুরস্কৃত হয়েছিল।

- Advertisement -

যে স্কুলগুলি সেরার সম্মাননা পেয়েছিলেন, সেগুলি রাজ্য সরকারের বিচারে টানা ৪ বছর ধরে রাজ্য নয়, জেলারই সেরা স্কুলের পুরস্কার পাচ্ছে না। অথচ প্রতি বছর দক্ষিণ দিনাজপুরের শিক্ষকরা নিয়ম মেনে শিক্ষারত্নের জন্য আবেদন জানিয়ে চলেছেন। এবছর শিক্ষারত্নের জন্য আবেদন জানিয়েছিলেন দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার কুশমণ্ডির পৈনালা মহাগ্রাম প্রাথমিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক সাজেদার রহমান, গঙ্গারামপুর সদর চক্রের কাদিহাট প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক প্রত্যুষ তালুকদার, কুমারগঞ্জ চক্রের অমৃতপুর প্রাথমিক স্কুলের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক সুশান্তকুমার সরকার, খানপুর হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক সুবীর চট্টোপাধ্যায়, গঙ্গারামপুরের ইন্দ্রনারায়নপুর কলোনি হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক সুদীপ্ত সিংহ রায় ও নালন্দা হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক সমিত দাস। সেইমতো সমস্ত কাগজপত্র পরীক্ষার পরে, নির্দিষ্ট নিয়মকানুন মেনে প্রাথমিক ও হাইস্কুলের দুজন করে শিক্ষকের নাম কলকাতায় পাঠানোও হয়েছিল। কিন্তু শিক্ষারত্নের তালিকায় ব্রাত্য দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা।

এপ্রসঙ্গে চেঁচাই প্রাথমিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক পবিত্র মহন্ত জানান, পরপর ৪ বছর ধরে এই জেলার কোনও শিক্ষকই শিক্ষারত্ন পুরস্কার পাচ্ছেন না। যে কারণে শিক্ষকদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। পাশাপাশি যে স্কুলগুলি একসময় রাজ্যের সেরা স্কুল হিসাবে পুরস্কৃত হয়েছিল, তারাও এই তালিকায় আসছে না কেন তা নিয়ে প্রশ্ন জমছে। আগামীদিনে এমনটাই চলতে থাকলে সরকারি সমস্ত প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করা থেকে বিরত থাকবেন শিক্ষকরা বলে জানান তিনি। জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক মৃন্ময় ঘোষ যদিও এ নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তৃণমূল প্রভাবিত শিক্ষক সংগঠনের নেতা সুকলাল হাঁসদা বলেন, দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় প্রচুর যোগ্য শিক্ষক ও স্কুল রয়েছে। তবুও কেন সেরা তালিকায় নাম থাকছে না, তাতে বেশ অবাকই লাগছে।