গৌড়বঙ্গে ১২ বছরেও তৈরি হয়নি স্পোর্টস কমিটি

91

হরষিত সিংহ, মালদা : কলেজে ভরতির সময় খেলাধুলোর জন্য ফি হিসাবে প্রতি বছরই টাকা নেওয়া হয়। অথচ প্রতিষ্ঠার পর থেকে এক যুগে স্পোর্টসের আয়োজন হয়েছে হাতেগুনে তিন বার। ফলে সেই টাকা কোথায় খরচ হয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিভিন্ন মহল। পড়ুয়াদের অভিযোগ, গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর ১২ বছর কেটে গেলেও ইনটার কলেজ ইউনিভার্সিটি স্পোর্টস হয়েছে মাত্র তিনবার। শেষবার ২০১৩ সালে অনুষ্ঠিত হয় এই প্রতিযোগিতা। বিশ্ববিদ্যালয়ে পক্ষ থেকে এআইইউ-এ রেজিস্ট্রেশন করা থাকলেও তা নিয়মিত রিনিউয়াল করা হয় না। তাই প্রতিভা থাকলেও কলেজগুলির বহু প্রতিভাবান খেলোয়াড় জাতীয়স্তরে খেলতে যাওয়ার সুযোগ হারাচ্ছে।

এমনকি এতদিনেও বিশ্ববিদ্যালয়ে তৈরি হয়নি কোনো স্পোর্টস কমিটি। অথচ প্রতি বছর বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্তৃপক্ষ কলেজে ভরতি হওয়া পড়ুয়াদের কাছ থেকে খেলাধুলোর জন্য ২০ টাকা করে ফি নেয়। আর ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার পরেও ইনটার কলেজ স্পোর্টস না হওয়ায় সেই টাকার খরচ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলেই। গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকা কলেজ কর্তৃপক্ষগুলি জানায়, একাধিকবার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে লিখিত ও মৌখিকভাবে এবিষয়ে জানানো হয়েছে। কিন্তু এবিষয়ে এখনও কোনো উদ্যোগ নেয়নি তারা। গৌড় মহাবিদ্যালয়ে প্রিন্সিপাল অসীমকুমার সরকার জানান, বিশ্ববিদ্যালের পক্ষ থেকে ইনটার কলেজ স্পোর্টস না হওয়ায় অনেক প্রতিভাবান খেলোয়াড় খেলার সুযোগ পাচ্ছে না। কলেজে অনেক ভালো খেলোয়াড় রয়েছেন। সুযোগ পেলে তাঁরা অনেক উন্নতি করবেন। এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার লিখিত ভাবে জানিয়েছি। কিন্তু কোনো ফল পাইনি।

২০০৮ সাল থেকে পঠনপাঠন শুরু হয় মালদার গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে। এই ১২ বছরে তার বহু পরিবর্তন ঘটেছে। মালদা, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার মোট ২৬টি কলেজ রয়েছে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে অধীনে। একদম প্রথম বছর অনুষ্ঠিত হয়েছিল ইনটার কলেজ স্পোর্টস। তারপর ২০০৯ ও ২০১৩ সালে প্রতিযোগিতা করায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। কিন্তু তারপর থেকে কী কারণে আর প্রতিয়োগিতা হচ্ছে না, তার কোনো সঠিক উত্তর মেলেনি বিশ্ববিদ্যালয়ে পক্ষ থেকে। মালদা ও দুই দিনাজপুর জেলার প্রচুর খেলোয়াড় স্কুল, রাজ্য ও জাতীয় স্তরে ভালো খেলে সুনাম কুড়াচ্ছে। এছাড়া ফুটবল, খোখো, কাবাডিতেও অনেকেই ভালো খেলছে রাজ্য ও জাতীয় স্তরে।

কিন্তু সেই খেলোয়াড়রাই কলেজে ভরতি হয়ে খেলাধুলোর সুয়োগ হারাচ্ছে। রাজ্য বা জাতীয় স্তরের মতো মঞ্চে যাওয়ার সুয়োগ হারাচ্ছেন তাঁরা। ফলে তাঁদের প্রতিভা নষ্ট হচ্ছে। তাই সমস্ত কলেজগুলির পক্ষ থেকে ইনটার কলেজ প্রতিয়োগিতা নিয়মিত করানোর দাবি উঠেছে। এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য স্বাগত সেন জানান, এখন এই নিয়ে কিছু বলব না। বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। তা নিয়ে এখন ব্যস্ত আছি। সেই সমস্যার সমাধান হলে বক্তব্য দেব।