দিনে পথবাতি জ্বলে, রাতে অন্ধকারে ডুবে থাকে বাজার

117

তুষার দেব, দেওয়ানহাট : কোচবিহার জেলা নিয়ন্ত্রিত বাজার কমিটি (আরএমসি) বিদ্যুৎ বিল শোধ না করায় বছরখানেক ধরে দেওয়ানহাট বাজারের মূল অংশে জ্বলছে না পথবাতি। অপরদিকে, প্রযুক্তিগত সমস্যায় এখানকার সবজি বাজারে দুটি আলোকস্তম্ভে দিনে বাতি জ্বললেও রাতে ঠিকঠাক জ্বলছে না। রাতে বাজার অন্ধকারে ডুবে থাকায় দোকানের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত ব্যবসায়ীরা। আলো নিয়ে কর্তৃপক্ষের এই খামখেয়ালিপনায় তাঁরা ক্ষুব্ধ। সমস্যার সমাধানে বহুবার দরবার করেও কোনো ফল মেলেনি বলে অভিযোগ। পুজোর আগে এই সমস্যা সমাধানের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট সবাই।

আরএমসির অধীনস্থ কোচবিহার-১ ব্লকের দেওয়ানহাট বাজার। রবি ও বুধবার সাপ্তাহিক দুটি হাটকে কেন্দ্র করে এর বিশেষ পরিচিতি রয়েছে। কোচবিহার সহ পার্শ্ববর্তী আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়ি জেলা এবং অসমের বহু পাইকার ওই দুটি হাটে কৃষিজ পণ্য বেচা-কেনার জন্য আসেন। এছাড়াও অন্যান্য দিন কয়েকশো দোকানে বিপুল অঙ্কের কেনাবেচা হয়। ২০১৬ সালে তৃণমূল সরকার দ্বিতীয়বারের জন্য রাজ্যে ক্ষমতায় এলে স্থানীয় বিধায়ক তথা উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ দেওয়ানহাট বাজারের পরিকাঠামো উন্নয়নে উদ্যোগী হন। সেই উদ্যোগের অঙ্গ হিসাবে ২০১৭ সালে এই বাজারের মূল অংশে আরএমসি ১২টি পথবাতি লাগায়। পথবাতির আলোয় সুবিধা হয় ব্যবসায়ীদের। কিন্তু বছরখানেক না যেতেই ফের অন্ধকারে ডুবে যায় বাজার। আরএমসি সঠিক সময়ে বিল পরিশোধ না করায় বিদ্যুৎ দপ্তর সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় বলে সূত্রের খবর।

অপরদিকে, উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তর দেওয়ানহাট রেলস্টেশন ও পুলিশ ফাঁড়ি লাগোয়া সবজি বাজারে ২০১৮ সালে দুটি উচ্চ আলোকস্তম্ভে বাতি লাগায়। রাতেরবেলায় সবজি গাড়িতে ওঠানো-নামানোর ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের সুবিধা এবং ওই চত্বরে অসামাজিক কাজকর্ম রোধের জন্যই এই উদ্যোগ। বসানোর পর কিছুদিন ভালোভাবে চললেও কয়েকমাস যাবৎ দুটি হাইমাস্টের বাতি বেহাল হয়ে রয়েছে। দিনে জ্বললেও রাতে সেগুলি ঠিকঠাক জ্বলছে না। এতে বিদ্যুৎ অপচয়ের পাশাপাশি রাতে অন্ধকারে ডুবে থাকছে সবজি বাজার।

দেওয়ানহাট বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি রণজিৎ দেব বলেন, পথবাতি ও হাইমাস্ট বাতির বেহাল দশায় বাজারের ব্যবসায়ীদের সমস্যা হচ্ছে। ইতিপূর্বে ওই দুটি সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট মহলে একাধিকবার আবেদন জানানো হয়েছে। সম্প্রতি জেলাশাসকের দপ্তরেও এবিষয়ে আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু কোনো ফল মেলেনি। ব্যবসায়ী সমিতির সহসভাপতি অসীম কর, সম্পাদক বিধান সরকার প্রমুখ বলেন, এতবড়ো বাজারে রাতে আলো না জ্বলায় দোকানের নিরাপত্তা নি.ে তাঁরা শঙ্কিত। পুজোর আগেই তাঁরা দ্রুত সমস্যা সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।

আরএমসির কোচবিহার জেলা আধিকারিক জীবনকুমার দে বিল না মেটানোয় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার বিষয়টি মেনে নিয়েছেন। তবে পুজোর আগেই সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। দুটি হাইমাস্ট বাতির বেহাল দশা প্রসঙ্গে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ারের বক্তব্য, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। দু-একদিনের মধ্যেই সমস্যা মেটাতে পদক্ষেপ করব।