দিলীপকুমার তালুকদার, বুনিয়াদপুর : টাঙনের ওপর ঝকঝক করছে নীলসাদা সেতুটা। তার ওপর দিয়ে ছুটে চলেছে অগণিত গাড়ি। কিন্তু দিন গড়িয়ে সন্ধ্যা হলেই বিপত্তি। সেতুতে তখন গাঢ় অন্ধকার। সার দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা পথবাতিগুলি যে এখন শুধুই শো-পিস। ফলে অন্ধকার ঠেলেই হেডলাইটের ভরসায় গাড়ি নিয়ে সেতু পেরোতে হয় চালকদের।

১৯৯৯-এর ২০ মার্চ বংশীহারীতে টাঙন সেতুর উদ্বোধন করেছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু। সে সময় ঠিক হয়েছিল, সেতুতে থাকা পথবাতির বিদ্যুতের বিল মেটাবে বংশীহারী পঞ্চায়েত সমিতি। কিছুদিন ঠিকঠাকই চলে। কিন্তু আচমকাই বিল মেটানো বন্ধ করে দেয় পঞ্চায়েত সমিতি। ফলে লক্ষাধিক টাকার বিল বাকি পড়ে। আর তার জেরে পথবাতিগুলির বিদ্যুৎ সংযোগ ছিন্ন করে দেয় বিদ্যুৎ বণ্টন কোম্পানি। এভাবেই চলতে থাকে বছরের পর বছর। বছর ছয়েক আগে পরিস্থিতি বদলানোর চেষ্টা করেন তৎকালীন বিডিও বনমালী রায়। সেতুতে সৌরবিদ্যুৎ চালিত পথবাতি বসান তিনি। কিন্তু রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অচিরেই সৌরবাতিগুলি বিকল হযে যায়। ফের আঁধারে ডোবে সেতু।

২০১৫-এ পঞ্চায়েত থেকে পুরসভায় উত্তীর্ণ হয় বুনিয়াদপুর। নবগঠিত পুরসভায় সে সময় প্রশাসকের দায়িত্বে ছিলেন এসডিও দেবাঞ্জন রায়। তাঁর উদ্যোগে টাঙন সেতুতে ফের বৈদ্যুতিক বাতি বসানো হয়। বিদ্যুৎ বিল মেটানোর দায়িত্ব পুরসভার ওপর বর্তায়। কিন্তু ২০১৯-এ পৌঁছে ফের অন্ধকারে মুখ লুকিয়েছে সেতু। ফলে গাড়িচালক থেকে শুরু করে পথচারীরা সমস্যায় পড়েছেন।

থানাপাড়ার বাসিন্দা সাগ্নিক সেনগুপ্ত, আলিপাড়ার বাসিন্দা বরুণ মিত্র, শেফালি রায়রা বলেন, সেতুতে পথবাতিগুলো জ্বলেই না। রাতে টাঙন সেতু দিয়ে যেতে ভয় হয়। দ্রুত আলোগুলো ঠিক করুক পুরসভা। এবিষয়ে বুনিয়াদপুর পুরসভার চেয়ারম্যান অখিল বর্মন বলেন, সমস্যাটা জানি। পুরসভার তরফে দ্রুত পদক্ষেপ করা হবে।