অন্ধকারে ডুবে থাকে সেতু, বিপদের শঙ্কা

চাঁদকুমার বড়াল, কোচবিহার : দীর্ঘদিন ধরে কোচবিহারের বেশিরভাগ সেতু আলোহীন অবস্থায় রয়েছে। এর জেরে রাতের অন্ধকারে সেতুগুলি দিয়ে চলাচলে বিপদের সম্ভাবনা বাড়ছে। কেন রাতেরবেলায় এই সেতুগুলিতে আলো জ্বলে না তার উত্তর কারও কাছে নেই। পূর্ত দপ্তর এই সেতুগুলির রক্ষণাবেক্ষণের দাযিত্বে থাকলেও সেতুর আলো নিয়ে তাদের কোনো দায়দায়িত্ব নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কার উপর এই আলো জ্বালাবার দায়িত্ব রয়েছে সেই প্রশ্ন বড়ো হয়ে উঠেছে। সমস্যা মেটাতে তিনি রাজ্য পূর্ত দপ্তরে চিঠি দেবেন বলে উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ জানিয়েছেন।

কোচবিহারের তোর্ষা নদী হোক বা মানসাই নদী, ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও কোনো সড়কসেতুতেই রাতের অন্ধকারে আলো জ্বলে না। সন্ধ্যা নামলেই এই সেতুগুলি অন্ধকারে ডুবে যায়। এই পরিস্থিতিতে অন্ধকারের মধ্যেই গাড়িঘোড়া, পথচারীদের যাতায়াত করতে হয়। এর ফলে একদিকে বিপদের সম্ভাবনার পাশাপাশি অন্যদিকে অন্ধকারের মধ্যে পাল্লা দিয়ে দুষ্কর্মের আশঙ্কাও বাড়ছে। তবে এনিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তর বা প্রশাসনের কোনো মাথাব্যথাই নেই বলে অভিযোগ। সেতুতে আলো জ্বালানো হলে কে এর বিদ্যুৎ বিল মেটাবে সেই প্রশ্ন বড়ো হয়ে উঠেছে। দিনের পর দিন কেটে গেলেও এই পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি। দিনহাটা থেকে তুফানগঞ্জ, মাথাভাঙ্গা সর্বত্রই একই পরিস্থিতি। এমনকি, ব্যবহার না করার জেরে বেশকিছু সেতুর আলো ও আলোকস্তম্ভগুলি বেহাল হয়ে পড়েছে। এর জেরে বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।

- Advertisement -

কোচবিহার নাগরিক অধিকার সুরক্ষা কমিটির সভাপতি তথা পেশায় আইনজীবী রাজু রায় বলেন, ব্যবস্থা থাকলেও সেতুতে আলো না জ্বালানোর বিষয়টি কোনোমতেই মেনে নেওয়া য়ায় না। সেতুগুলি অন্ধকারে ডুবে থাকায় একদিকে যেমন দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে, অন্যদিকে নাশকতার আশঙ্কাকেও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। সমস্যা মেটাতে প্রশাসনকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে বলে রাজুবাবু দাবি জানান। পূর্ত দপ্তরের কোচবিহারের এগ্জিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার নিমাই পাল বলেন, আমরা সেতু তৈরি করলেও তাতে আলো লাগানো ও রক্ষণাবেক্ষণণের দায়িত্ব স্থানীয় কর্তৃপক্ষের। আগে এমনটাই নিয়ম ছিল। এখন যা নিয়ম হয়েছে তাতে আমরা সেতু তৈরি করলেও আলো লাগানোর জন্য তা আলাদাভাবে স্যাংশন করাতে হয়।

পূর্ত দপ্তরের (সড়ক) এগ্জিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার জ্যোতির্ময় মজুমদার বলেন, আমরা সেতু তৈরি করলেও তাতে আলো লাগানোর বিষয়টি আমাদের দায়িত্বে নেই। এনিয়ে বেশ কয়েকটি বৈঠকে আলোচনাও হয়েছে। উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন, সেতুতে আলো জ্বালানোর মতো স্থানীয় কর্তৃপক্ষগুলির হাতে আর্থিক ক্ষমতা নেই। কর্তৃপক্ষগুলি আলোর রক্ষণাবেক্ষণ করতে পারে। বিষয়টি পূর্ত দপ্তরকেই করতে হবে। প্রয়োজনে তারা সৌর আলোর ব্যবস্থা করুক। তাহলে একবারের খরচেই সমস্যা মিটে যাবে।