শহরের বুকেই স্কুলে শৌচাগার নেই

154

হরষিত সিংহ, মালদা : ঢাকঢোল পিটিয়ে জেলা জুড়ে পালিত হয়েছে নির্মল বিদ্যালয় সপ্তাহ। পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে ছাত্রছাত্রী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষকে গুরুগম্ভীর জ্ঞান বিতরণ করেছেন প্রশাসনিক কর্তারা। কিন্তু শহরের বুকে একটি প্রাথমিক স্কুলে এখনও কোনো শৌচাগার গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। ইংরেজবাজারের মাধবনগর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শৌচাগার না থাকায় সমস্যায় পড়তে হয় পড়ুয়া থেকে শুরু করে শিক্ষকদের। স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি, সমস্যার কথা বহুবার প্রশাসনের বিভিন্ন মহলে জানানো হয়েছে। কিন্তু দেখছি দেখব করেই দায় সেরেছেন সকলে।

ইংরেজবাজার শহরের মাধবনগর এলাকায় ফার্মের কাছে ২ নম্বর ওয়ার্ডে রয়েছে মাধবনগর প্রাথমিক বিদ্যালয়। আগে স্কুলটি ফার্মের মধ্যে ছিল। কিন্তু সেখানে কৃষিদপ্তরের ভবন তৈরি হওয়ায় সেখান থেকে স্কুলটি সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। ফার্মের জায়গাতেই নতুন করে স্কুল ভবন তৈরি করা হয়। ২০১৬ সালে নতুন ভবনে শুরু হয় পঠনপাঠন। প্রথমদিকে শুধুমাত্র তিনটি ক্লাস ছিল। গত চার বছরে স্কুলে পানীয় জল ও বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা হয়েযে। তৈরি হয়েছে সীমানা প্রাচীরও। কিন্তু এখনও স্কুলে কোনো শৌচাগার তৈরি হয়নি। স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে স্কুলের পড়ুয়ার সংখ্যা ৮৪ জন। শহরের ১ নম্বর ও ২ নম্বর ওয়ার্ডের ছেলেমেয়েরাই এই স্কুলে পড়াশোনা করে। শৌচাগার না থাকায় চরম সমস্যায় পড়তে হয় পড়ুয়াদের। সীমানা প্রাচীরের ধারেই ছাত্রদের প্রস্রাব করতে হয়। শৌচকর্মের প্রয়োজন পড়লে পড়ুয়াদের বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়। অনেক খুদে পড়ুয়া একা বাড়ি যেতে না পারলে শিক্ষকরাই তাদের বাড়ি পৌঁছে দেন। আবার অনেক সময় বাড়িতে ফোন করে জানালে অভিভাবকরাই সন্তানদের বাড়ি নিয়ে যান। শৌচাগারের অভাবে শুধু পড়ুয়ারাই নয়, সমস্যার মধ্যে পড়েন দুইজন শিক্ষকও।

প্রধান শিক্ষক প্রশান্ত মিশ্র বলেন, স্কুলের শৌচাগার তৈরির জন্য প্রথম থেকেই আবেদন জানিয়ে আসছি। শিক্ষাদপ্তরের কর্তারা একাধিকবার পরিস্থিতি দেখে গিয়েছেন। কিন্তু এখনও শৌচাগার তৈরিতে কেউ উদ্যোগী হয়নি। এই বিষয়ে এক নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার রাজীব চম্পটি বলেন, স্কুলটি ২ নম্বর ওয়ার্ডে। কিন্তু পড়ুয়াদের মধ্যে ১ নম্বর ওয়ার্ডের শিশুর সংখ্যাই বেশি। স্কুলে শৌচাগার না থাকায় খুব সমস্যা হচ্ছে শিশুদের। প্রশাসনের উচিত দ্রুত শৌচাগার তৈরি করা। মালদা জেলা সমগ্র শিক্ষা অভিযানের প্রকল্প আধিকারিক কৌশিক রায় বলেন, বিষয়টি আমরা দেখছি।