টোকিওয় কোন ভল্ট, ঠিক করেননি প্রণতি

কলকাতা : পশ্চিম মেদিনীপুরের কড়কাই গ্রাম থেকে টোকিওর আরিয়াকে জিমন্যাস্টিক্স সেন্টার। মানচিত্রের হিসেবে দূরত্ব প্রায় ৫,২৩৫ কিলোমিটার।

বছর ছাব্বিশের প্রণতি নায়েকের কাছে অবশ্য দূরত্বটা প্রায় দুই দশকের। আট বছর বয়সে জিমন্যাস্টিক্স শুরু। এরপর রাজ্য ও দেশের গণ্ডি পার হয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে পরিচিতি পেয়েছেন। অবশেষে ক্রীড়া জগতের সবচেয়ে বড় মঞ্চ অলিম্পিকে নামার সুযোগ পেয়েছেন বাংলার ঘরের মেয়ে।

- Advertisement -

করোনার জন্য প্রায় একটা বছর গ্রামের বাড়িতেই কাটিয়েছেন প্রণতি। তবে সুযোগের অপেক্ষায় বসে থাকেননি। গ্রামের বাড়িতে অনলাইনে কোচ লক্ষণ শর্মা ও সতীর্থদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে নিয়মিত অনুশীলন চালিয়ে গিয়েছেন। এরপর গতবছর ডিসেম্বরে কোচের ডাকে কলকাতা চলে আসেন। যদিও সল্টলেকের সাই সেন্টারে অনুশীলনের সুযোগ পাননি। কলকাতা এবং সংলগ্ন এলাকার বিভিন্ন ক্লাবে তাঁদের নিয়ে গিয়ে অনুশীলন করিয়েছেন কোচ।

প্রণতির কথায়, মাস চারেক বিভিন্ন ক্লাবে অনুশীলন করেছি। মার্চের শেষদিকে সাইয়ে অনুশীলনের সুযোগ মেলে। কিন্তু তিন সপ্তাহের মধ্যে করোনা সংক্রমণ ছড়ানোর জন্য সাই ছাড়তে হয়। তবে স্যার বলেছিলেন অনুশীলন করাবেন। তাই আমি যেন কলকাতাতেই থাকি। তাই আমি দমদমে ঘর ভাড়া নিয়েছি। আমার অফিস ডানকুনিতে। দমদমে থেকে অফিস ও অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছি। বর্তমানে অবশ্য দিল্লি থেকে বিশেষ অনুমতি আনিয়ে সল্টলেক সাই সেন্টারে ক্যাম্প করছেন তাঁরা।

অলিম্পিকে সুযোগটা অবশ্য পড়ে পাওয়া চৌদ্দ আনার মতোই পেয়েছেন প্রণতি। করোনার জন্য অলিম্পিকের যোগ্যতা অর্জনের বিভিন্ন ইভেন্ট বাতিল হওয়ায় গেমসের একটি কোটা পায় ভারত। প্রণতি ২০১৯ সালে জার্মানিতে একটি প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন। সেখানে ভারতীয়দের মধ্যে তাঁর পারফরমেন্স সবচেয়ে ভালো ছিল। সেই সুবাদেই টোকিওর টিকিট পেয়েছেন ২০১৯ সালে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে ভল্টে ব্রোঞ্জজয়ী এই তারকা অ্যাথলিট। পারিবারিত অনুষ্ঠানে যোগ দিতে সেদিনই বাড়ি ফিরেছিলেন। সুখবর পাওয়ার পরই পরিবারের অন্যদের সঙ্গে আনন্দে মেতে ওঠেন।

বিশ্ব জিমন্যাস্টিক্সে ভারতীয়দের যাবতীয় সাফল্য ভল্টে। প্রণতির নিজেরও বড় শক্তি ভল্ট। তাঁর কথায়, বিম, ফ্লোর বা আনইভেন বারের তুলনায় ভল্টে আমরা ভালো পারফর্ম করি। অলিম্পিকেও আমি ভল্টের দিকেই নজর দেব। তবে দীর্ঘদিন স্বাভাবিক অনুশীলন না করায় এখনই অলিম্পিকে কোন ভল্ট পারফর্ম করবেন, তা ঠিক করেননি। তিনি বলেন, আমি এখনও জানি না কোন ভল্ট দেব। যে কোনও ভল্ট দেওয়ার জন্য টানা অনুশীলন করতে হয়। আমার কাছে প্রস্তুতির জন্য আর ২ মাস আছে। এরমধ্যেই সব চূড়ান্ত করব।

অলিম্পিকের টিকিট পাওয়ার পরই পূর্বসূরী তথা আইডল জিমন্যাস্ট দীপা কর্মকারের সঙ্গে কথা বলেছেন। শুভেচ্ছাবার্তার পাশাপাশি দীপার থেকে বিভিন্ন পরামর্শও পেয়েছেন। সেই পরামর্শ মেনেই নিজেকে টোকিওর জন্য প্রস্তুত করছেন প্রণতি।