শিক্ষাবর্ষের শেষেও খুদে পড়ুয়ারা পোষাক পায়নি

218

মালদা : প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক ও প্রশাসনের টানাপোড়েনে শিক্ষাবর্ষের শেষভাগেও স্কুলড্রেস পায়নি পড়ুয়ারা। শিক্ষকদের অভিযোগ, প্রশাসনিক কর্তারা কাটমানি নিয়ে এবার একটি মাত্র সংস্থাকে ড্রেস তৈরির বরাত দিয়েছে। ওই সংস্থা তাদের নিজেদের ইচ্ছামতো ড্রেস দিতে চাইছে পড়ুয়াদের।

শিক্ষকদের বক্তব্য, বিগত বছরগুলিতে শিক্ষকরা টেন্ডার করে বা স্বয়ম্ভর গোষ্ঠীগুলির মাধ্যমে ড্রেস তৈরি করেছে। সেখান থেকে পড়ুয়াদের দুই জোড়া ড্রেস সহ আরও কিছু দিতে পেরেছে। কিন্তু চলতি শিক্ষাবর্ষে টাকা বরাদ্দ বৃদ্ধি পেলেও শুধুমাত্র ড্রেস দেওয়া হচ্ছে। তাই ইংরেজবাজার ব্লকের প্রাথমিক স্কুলের প্রধান শিক্ষকরা প্রতিবাদ জানিয়ে ড্রেস নেওয়া বন্ধ রাখেন। শিক্ষাবর্ষ শেষ হতে চললেও সমস্যার সমাধান না হওয়ায় শনিবার ইংরেজবাজার ব্লকের সমস্ত প্রাথমিক স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের নিয়ে একটি বৈঠক করেন ব্লক প্রশাসনের কর্তারা। এই বৈঠকে স্কুলগুলিকে ড্রেস নিতে পদক্ষেপ করতে বলা হয়েছে। শিক্ষকদের দাবি, প্রশাসনের কর্তারা কাটমানি খেয়ে আমাদের ওপর জোরজুলুম করছেন। বাধ্য হয়ে আমাদের প্রশাসনিক নির্দেশ মানতে হচ্ছে। ইংরেবাজারের বিডিও সৌগত চৌধুরি বলেন, আগামী ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে সমস্ত স্কুলের পড়ুয়াদের ড্রেস দিতে হবে। যদি কোনো স্কুল এই নির্দেশ না মানে, তবে তাদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা হবে। এবার সরকারি নির্দেশিকায় পরিবর্তন করা হয়েছে। প্রশাসনের তরফে যে নিয়মে ড্রেস দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, সেই নিয়মেই দেওয়া হচ্ছে।

জেলা স্কুল শিক্ষা দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, বিগত আর্থিক বছরগুলিতে দুই জোড়া ড্রেস কেনার জন্য ছাত্রপিছু স্কুলগুলিকে ৪০০ টাকা দেওয়া হত। স্কুলগুলি টেন্ডার ডেকে বা কোনো স্বয়ম্ভর গোষ্ঠীর মাধ্যমে ড্রেস নিত। এই ক্ষেত্রে স্কুলগুলি কিছু টাকা বাঁচিয়ে পড়ুয়াদের ব্যাজ, বেল্ট বা ব্যাগও কিনে দিত। চলতি মরশুমে টাকার বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। ছাত্রপিছু ৬০০ টাকা করে দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের তরফে সমস্ত স্কুলের ড্রেস একটি মাত্র সংস্থা থেকে নেওয়া হচ্ছে। বরাতপ্রাপ্ত সংস্থার কর্তারা জানাচ্ছে, তারা পড়ুয়াদের দুই জোড়া ড্রেস ছাড়া আর কিছুই দেবে না। কিন্তু শিক্ষকদের দাবি, আগে কম টাকায় তাঁরা দুই জোড়া ড্রেস সহ অন্যান্য জিনিস কিনতে পেরেছেন। শিক্ষকদের অভিযোগ, কাটমানি দিয়ে এই সংস্থা কাজের বরাদ নিয়েছে। এরই প্রতিবাদে ড্রেস নেওয়া বন্ধ থাকে। দেবদুলাল বড়ুয়া নামে এক শিক্ষক বলেন, আমরা পরিস্থিতির শিকার। টাকা নিয়ে নয়ছয় করা হচ্ছে। আমরা এই নির্দেশিকা মানছি না। প্রশান্ত মিশ্র নামে আরেক শিক্ষক বলেন, আমরা শুনেছি ওই সংস্থা বরাদ্দ পাওয়ার জন্য কাটমানি দিয়েছে। এর সঙ্গে প্রশাসনের কর্তারা জড়িত রয়েছেন। আমরা চাই, শিশুদের ন্যায্য অধিকার। কিন্তু প্রশাসন আমাদের ওপর এখন জোর করে সব কিছু চাপিয়ে দিচ্ছে।