কুমারগঞ্জে তৈরি হয়ে পড়ে রয়েছে দোতলা ছাত্রাবাস

সাজাহান আলি, কুমারগঞ্জ : মাস কয়েক আগেই নীল-সাদা রংয়ে ঝাঁ চকচকে দোতলা ছাত্রবাসটি তৈরি হয়ে গিয়েছে। কিন্তু ৬০ আসনের এই ছাত্রাবাসে এখনও বিদ্যুৎ সংযোগ হয়নি। এমনকি ছাত্রাবাসের জন্য কোনও আসবাবপত্রও আসেনি। ফলে আজও ছাত্রদের জন্য ছাত্রাবাসটি খুলে দেওয়া যায়নি। কুমারগঞ্জ ব্লকের জয়দেবপুর এফইউও সিনিয়ার মাদ্রাসার পড়ুয়াদের জন্য এই ছাত্রাবাসটি তৈরি করা হয়। রাজ্যের সংখ্যালঘু দপ্তর ও পূর্ত দপ্তরের ডিরেক্টরের তত্ত্বাবধানে ভবনটি তৈরির কাজ শেষ হয়েছে বেশ কয়েক মাস আগে। মাদ্রাসার ছাত্র, অভিভাবক ও শিক্ষক-শিক্ষিকারা চাইছেন, সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে যথাশীঘ্র পরিকাঠামো নির্মাণ সম্পূর্ণ করে নতুন ছাত্রাবাসের উদ্বোধন করা হোক।

কুমারগঞ্জ ব্লকের ডাঙ্গারহাট পার্শ্ববর্তী জয়দেবপুর এফইউও সিনিয়ার মাদ্রাসা একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। প্রথম শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত এখানে শিক্ষালাভের ব্যবস্থা রয়েছে। কুমারগঞ্জ ব্লকের ছাত্রছাত্রীরা সাধারণত এখানে পড়াশোনা করে। সংখ্যালঘু এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠরত ছাত্রদের আবাসিক হিসাবে থেকে লেখাপড়ার সুবিধা দিতে তিন বছর আগে শুরু হয়েছিল ছাত্রাবাস নির্মাণের কাজ। এর জন্য সরকারি তরফে বরাদ্দ হয় ১ কোটি ১১ লক্ষ টাকা। ৬০ আসন বিশিষ্ট এই দ্বিতল ছাত্রাবাস নির্মাণের কাজ কয়েক মাস আগেই শেষ হয়েছে। নীল, সাদা রং-এ শোভা পাচ্ছে এই ছাত্রাবাস ভবন। কিন্তু ভবনের ভেতরে কিছু কাজ এখনো শেষ না হওয়ায় ছাত্রাবাসটি চালু হচ্ছে না। মাদ্রাসার ছাত্র ফরিদ মোল্লা বলেন, ছাত্রাবাসে থেকে পড়াশোনার সুযোগ পেলে আমাদের পক্ষে খুব ভালো হবে। কিন্তু ছাত্রাবাস চালু হতে বিলম্ব হওয়ায় আমাদের খারাপ লাগছে। তাই আমরা চাইছি ছাত্রাবাসের ভেতরের যেসব কাজ বাকি আছে, তা দ্রুত শেষ করে পরিষেবা চালু করা হোক।

- Advertisement -

জয়দেবপুর এফইউও সিনিয়ার মাদ্রাসার টিচার ইনচার্জ বিজয় পাসোয়ান বলেন, ছাত্রাবাসের দ্বিতল ভবন নির্মাণ ও রং করার কাজ কিছুদিন আগেই শেষ হয়েছে। কিন্তু বিদ্যুৎ সংযোগ হয়নি। আসবাবপত্র আনার কাজও এখনো বাকি। বিদ্যুৎ অফিসে কাগজপত্র জমা করা হয়েছে। বাকি প্রক্রিয়া মেনে কিছুদিনের মধ্যেই বিদ্যুৎ সংযোগ হয়ে যাবে বলে আশা করছি। ছাত্রাবাসের ফ্যান, লাইট, বেড, ফ্রিজ, টিভি সহ অন্য আসবাবপত্র চলে আসার কথা। সবকিছু হয়ে গেলে ছাত্রাবাস চালু করতে খুব বেশি সময় লাগবে না। নতুন বছরের শুরুতেই এই ছাত্রাবাসের উদ্বোধন হতে পারে। কুমারগঞ্জের বিধায়ক তোরাফ হোসেন মণ্ডল বলেন, আমি ছাত্রাবাসটি এর আগে গিয়ে দেখে এসেছি। কাজ প্রায় শেষের পথে। যেটুকু কাজ বাকি আছে, তা জেলা সংখ্যালঘু আধিকারিকের সঙ্গে দেখা করে দ্রুত শেষ করার জন্য বলব। ছাত্রাবাস যাতে তাড়াতাড়ি উদ্বোধন করা যায়, সেই ব্যাপারেও আমি কথা বলব।