পঞ্চায়েতের গাফিলতিতে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স নষ্ট হচ্ছে

101

হরষিত সিংহ, মালদা : পঞ্চায়ের দপ্তরের গাফিলতিতে প্রায় দুই বছর ধরে পড়ে রয়েছে মাতৃযান। দীর্ঘদিন অ্যাম্বুলেন্সটি পড়ে থাকায় যন্ত্রাংশগুলি অকেজো হতে শুরু করেছে। মরচে পড়ছে গাড়িটিতে, আগাছায় ঢাকতে শুরু করেছে গাড়িটি। ইংরেজবাজার ব্লকের নরহাট্টা পঞ্চায়েত দপ্তরে গাড়িটি পড়ে থাকলেও এখনও সেটি চালু করার কোনো উদ্যোগ নিচ্ছেন না কর্তারা। এদিকে এলাকার একমাত্র সরকারি মাতৃযান পরিসেবা বন্ধ থাকায় সমস্যায় পড়তে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। প্রসূতিদের হাসপাতাল নিয়ে যেতে সমস্যায় পড়ছেন তাঁরা।

ইংরেজবাজার ব্লকের নরহাট্টা গ্রাম পঞ্চায়েতের গ্রামগুলি থেকে মালদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের দূরত্ব ২০ থেকে ২৫ কিলোমিটার। পঞ্চায়েতের তরফে মাতৃযান পরিসেবা চালু থাকায় দিনের যেকোনো সময় প্রসূতিদের হাসপাতালে সহজে নিয়ে যেতে পারতেন গ্রামের বাসিন্দারা। কিন্তু প্রায় দুই বছর আগে হঠাৎ করেই বন্ধ হয়ে যায় এই পরিসেবা। শুধু প্রসূতিদের নয়, নরহাট্টা পঞ্চায়েতের এক অ্যাম্বুলেন্সে অন্য রোগীদেরও হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া হত। পঞ্চায়েতের অ্যাম্বুলেন্স পরিসেবা বন্ধ হয়ে পড়ায় এখন এলাকার বাসিন্দাদের নির্ভর করতে হচ্ছে শহরের অ্যাম্বুলেন্সের ওপর। হঠাৎ কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে বা প্রসূতিদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার প্রযোজন পড়লে অপেক্ষা করতে হয় শহরের অ্যাম্বুলেন্সের জন্য। অনেক সময় অ্যাম্বুলেন্স না মেলায় গ্রামের কোনো গাড়িতে প্রসূতি ও রোগীদের নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের বেলায় তেমন কোনো সমস্যা না হলেও রাতে চরম সমস্যায় পড়তে হচ্ছে মুমূর্ষু রোগী ও প্রসূতিদের নিয়ে। কারণ রাতে সহজে গাড়ি পাওয়া যায় না। তাই এলাকার বাসিন্দারা পঞ্চায়েতে পড়ে থাকা অ্যাম্বুলেন্সটি দ্রুত চালুর দাবি জানাচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দা জাকির হোসেন জানান, অ্যাম্বুলেন্সটি চালু থাকায় আমরা উপকৃত হচ্ছিলাম। আমাদের বিনামূল্যে পরিসেবা দেওয়া হত। জানি না কেন এই জরুরি পরিসেবা বন্ধ করে দিল পঞ্চায়েত। আমরা চাই, এটি আবার চালু হোক।

নরহাট্টা পঞ্চায়েত সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৮ সাল নাগাদ অ্যাম্বুলেন্সটির ইনসুরেন্স শেষ হয়ে গিয়েছে। তারপর অ্যাম্বুলেন্সটির ইনসুরেন্সের কাগজপত্র ঠিক করার কোনো উদ্যোগ নেননি তৎকালীন প্রধান। দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় বর্তমানে অ্যাম্বুলেন্সটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। গাড়িটির যান্ত্রাংশ বেহাল। এমনকি গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশে মরচে পড়ে গিয়েছে। এই অবস্থাতেই পঞ্চায়েত অফিসের সামনে দিনের পর দিন পড়ে রয়েছে গাড়িটি। জানা গিয়েছে, নরহাট্টা পঞ্চায়েতকে এই অ্যাম্বুলেন্সটি ইংরেজবাজার ব্লক থেকে প্রদান করা হয়েছিল। রক্ষণাবেক্ষণ ও চালানোর দায়িত্বও পঞ্চায়েতকে দেওয়া হয়েচিল। পঞ্চায়েত দপ্তর থেকে একজন চালক নিয়োগ করে বিনামূল্যে এলাকার প্রসূতিদের পরিসেবা দেওয়া হত। এবিষয়ে পঞ্চায়েতের বর্তমান প্রধান তজিবুর রহমান জানান, আমি প্রধান হওয়ার আগে থেকে অ্যাম্বুলেন্সটি পড়ে রয়েছে। মাতৃযান হিসাবে গাড়িটি চালানো হত। গাড়ি ঠিক করতে অর্থের প্রয়োজন। আমরা এই গাড়িটি মেরামত করার চেষ্টা করছি। গাড়িটির ইন্সুরেন্স শেষ হয়ে গিয়েছে। আমরা নতুন করে সমস্ত কিছু করে শীঘ্রই গাড়িটি চালু করার উদ্যোগ নেব।