‘নো ভোট ফর বিজেপি’ স্লোগানে সরব কৃষক নেতারা

141

গাজোল: দিল্লি সীমান্তে আন্দোলনরত কৃষকদের পক্ষে দেশের মানুষকে একজোট করার লক্ষ্যে পশ্চিমবাংলায় ছুটে বেড়াচ্ছে কৃষক আন্দোলনের নেতৃত্বরা। উত্তরবঙ্গ কৃষক মহা পঞ্চায়েতের ব্যানার লাগিয়ে বিভিন্ন জায়গায় জনসভা করছেন তাঁরা। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গাজোলের দেওতলায় সভা করল উত্তরবঙ্গ কৃষক মহা পঞ্চায়েত। সভা থেকে একটাই ডাক দেওয়া হচ্ছে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবাংলার ভোটে বিজেপি যেন কোনওভাবেই জিততে না পারে। কৃষক নেতৃত্বের দাবি পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির ভরাডুবি ঘটলে তার প্রভাব পড়বে আগামী বছর উত্তরপ্রদেশ নির্বাচনে। এরপর লোকসভা নির্বাচনেও এর প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়বে। তাই সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে কৃষক নেতাদের বক্তব্য, নো ভোট ফর বিজেপি, কমল কা ফুল সবসে বড়া ভুল, নরেন্দ্র মোদি-কিসান বিরোধী। এই তিনটি স্লোগানকে সামনে রেখে সভায় বক্তব্য রাখেন কৃষক নেতারা। ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন সমাজকর্মী মেধা পাটেকর, কৃষক নেতা যোগেন্দ্র যাদব, রাব্বুল রাবস, ড. সুনিলম, তেজেন্দ্র সিং ভিরখ, তেজিন্দর সিং বল, অভীক সাহা প্রমুখ। কৃষক নেতাদের বক্তব্য শুনতে সভায় যথেষ্ট ভিড় হয়েছিল।

কৃষক নেতা ড. সুনিলম বলেন, ‘দেশের গরীব মানুষদের প্রতি মোদি এবং অমিত শার কোনও সহানুভুতি নেই। গোটা দেশে মানুষ কাজ হারাচ্ছে। বেকারত্ব বাড়ছে। কৃষক ও শ্রমিকদের উপর অত্যাচার নামিয়ে আনা হচ্ছে। এসময় আমরা দেখতে পাচ্ছি ওদের দুজনের শ্লোগান ‘হাম দো, হামারা দো’। মোদি বাবুদের ওই দুজন হচ্ছে আদানি আর আম্বানি। তিনি স্লোগান তোলেন, ‘বিজেপিকে হারাও, দেশ বাঁচাও-বাংলা বাঁচাও।’ কৃষক নেতা তেজিন্দর সিং বল বলেন, ‘আমাদের দেশের বেশিরভাগ মানুষই কৃষি কাজের সঙ্গে যুক্ত। এরাজ্যেও রয়েছেন প্রায় ৪ কোটি কৃষক। আমরা গোটা দেশের কৃষকদের উৎপাদিত ফসলের নূন্যতম সহায়ক মূল্য ধার্য্য করার দাবি নিয়ে আন্দোলনে নেমেছি।’

- Advertisement -

সমাজকর্মী মেধা পাটেকর বলেন, ‘মালদা জেলায় গঙ্গা ভাঙন একটা বড় সমস্যা। কিন্তু এই সমস্যার সমাধান না করে এই বিষয়টিকে নিয়ে শুধু রাজনীতি হয়েছে। গঙ্গা ভাঙন নিয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ নিতে হবে কেন্দ্রীয় সরকারকেই। আমি ইতিমধ্যেই গঙ্গাকে নিয়ে অনেক আন্দোলন করেছি। নমামি গঙ্গে প্রকল্প কয়েক হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। গুজরাটের সবরমতী আশ্রম এবং দিল্লির লালকেল্লাও বেসরকারি হাতে তুলে দিয়েছে এই মোদি। গুজরাটের কৃষিব্যবস্থা আদানি এবং আম্বানিদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। করোনার সময় হঠাৎ করে লকডাউন ঘোষণা করে দেশের কোটি কোটি মানুষকে বিপদে ফেলে ছিল নরেন্দ্র মোদি সরকার। কৃষকদের বিরুদ্ধে মোদি সরকার যে তিনটি কালাকানুন এনেছে তা প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত কৃষকদের আন্দোলন চলতেই থাকবে। আপনাদের সমর্থন এই কৃষকদের পাশে থাকবে এই আবেদন আমরা রাখছি।’

কৃষক নেতা অভীক সাহা বলেন, ‘বিজেপিকে এই বাংলা থেকে না হারালে নরেন্দ্র মোদির অহংকার চূর্ণ হবে না। বিজেপি হারলে বন্ধ হবে শোষণ, শ্রমিকের বিরুদ্ধে আনা কালাকানুন রদ করা হবে, রদ করা হবে কৃষকদের বিরুদ্ধে আনা কালাকানুন। গোটা দেশ তাকিয়ে আছে বাংলার দিকে। এবারের নির্বাচনে বাংলায় বিজেপি হারবে।’