লালা সংগ্রহ কেন্দ্রের পাশে রাত কাটছে রোগীর পরিজনদের

- Advertisement -

বিশ্বজিৎ সরকার, রায়গঞ্জ : রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের যেখানে লালার নমুনা সংগ্রহ করা হয়, সেখানেই রাতের বেলা রোগীর পরিবারের লোকেরা রীতিমতো বিছানা পেতে, মশারি খাটিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। এর ফলে যেকোনও মুহূর্তে রোগীর পরিবারের লোকেদের মধ্যে করোনা সংক্রমণ মহামারির আকার নিতে পারে। যদিও রোগীর পরিবারের লোকেদের অভিযোগ, হাসপাতাল চত্বরে রোগীর পরিবারের লোকেদের জন্য কোনও প্রতীক্ষালয় নেই। ফলে তাঁদের বাধ্য হয়ে হাসপাতালের সামনে ওই এলাকায় রাত কাটাতে হয়।

জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিদিন কয়েকশো রোগী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে আসেন। তাঁদের বাড়ির লোকেরা হাসপাতালের বাইরে যেখানে করোনা রোগীদের লালার নমুনা সংগ্রহ করা হয়, সেখানেই বিছানা পেতে ঘুমোতে বাধ্য হন। হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে অন্তত প্রতিদিন প্রায় কয়েশো রোগী থাকেন। জেলা ছাড়াও বিহার, দক্ষিণ দিনাজপুর ও আরও দূরদূরান্ত থেকে আসা রোগীদের এখানে ভর্তি করা হয়। ওই রোগীদের ভর্তি করার পর পরিবারের লোকেরা উপায়ান্তর না পেয়ে হাসপাতালের সামনেই রাত কাটাতে বাধ্য হন। একটি প্রতীক্ষালয় থাকলেও সেটি এখন করোনা চিকিৎসাকেন্দ্রে পরিণত করা হয়েছে। ফলে চরম বিপাকে রোগীর পরিবারের আত্মীয়রা। রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের অধ্যক্ষ প্রিয়ঙ্কর রায় বলেন, আমরা নিরাপত্তারক্ষীদের বলেছি যাতে রোগীর পরিবারের লোকেরা ওই এলাকায় না ঘুমোন। বিষয়টি আমরা নজরে এনেছি। ওই প্রতীক্ষালয়ে সমস্যা রয়েছে এবং সেটা নিয়ে পরিকল্পনাও করা হয়েছে।

করোনা পরিস্থিতিতে রোগীর পরিবারের লোকেরা আশেপাশের আত্মীয়র বাড়িতে থাকবে তারও উপায় নেই। বর্তমান পরিস্থিতিতে শহরের বাইরে থেকে আসা লোকজনদের আত্মীয়রাও তাঁদের বাড়িতে থাকতে বলেন না। এছাড়া রাতবিরেতে বিভিন্ন প্রয়োজনে রোগীর পরিবারের লোকেদের দরকার হয়। ফলে পরিবারের লোকেদের হাসপাতালের বাইরেই অপেক্ষা করতে হয়। নিরুপায় হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এক থেকে দেড়শো রোগীর আত্মীয়রা এভাবে প্রতিদিন করোনা টেস্টিং সেন্টার লাগোয়া এলাকায় থাকছেন। এমন অবস্থায় সংক্রমণের আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না হাসপাতালের চিকিৎসক থেকে স্বাস্থ্যকর্মীরা। তাঁদের আশঙ্কা, যেকোনও মুহূর্তেই করোনা এখানে মহামারি আকার নিতে পারে। ইটাহারের পোড়সা গ্রাম থেকে আসা রেজাউল হক বলেন, আমার স্ত্রীর প্রসববেদনা হওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি করেছি। কখন কী ওষুধ লাগবে, না লাগবে সেই কারণে হাসপাতালে মশার কামড় খেয়ে বসে রয়েছি।

হেমতাবাদ থানার বাহারাইলের বাসিন্দা নাজিমুল হক বলেন, দুদিন ধরে হাসপাতালে পড়ে রয়েছি। মশারি নিয়ে এসে হাসপাতালেই রাতযাপন করছি। আমার স্ত্রী গাইনি বিভাগে ভর্তি রয়েছে। এত বড় একটা মেডিকেল কলেজে প্রতীক্ষালয় না থাকার জন্য রীতিমতো কষ্টেই রাত কাটাতে হয় রোগীর পরিবার পরিজনদের। প্রিয়ঙ্কর রায় বলেন, রোগীর পরিবার পরিজনদের থাকার জন্য যাতে প্রতীক্ষালয় গড়ে তোলা যায়, তার জন্য রাজ্য স্বাস্থ্য ভবনে আবেদন করা হয়েছে। কলেজের নোডাল অফিসার বিপ্লব হালদার বলেন, যাতে লালা সংগ্রহ কেন্দ্র ও ফিভার ক্লিনিকের পাশে রোগীরা না ঘুমান, সেই ব্যাপারে সচেতন করা হবে। নিরাপত্তারক্ষীদের সুপারভাইজার পাপাই দাস বলেন, রোগীর পরিজনদের কিওস্ক ও ফিভার ক্লিনিকের আশেপাশে ঘুমাতে বারবার মানা করা হয়েছে। তাঁরা না শুনলে কী করব। রোগীর পরিজনদের বক্তব্য, ফিভার ক্লিনিকের আউটডোরের পাশে ফাঁকা জায়গা রয়েছে। তাই সেখানেই ঘুমাতে হয়। এছাড়া আর জায়গা নেই।

- Advertisement -