বর্ষা পেরোতেই খাঁখাঁ করছে খাল

মনজুর আলম, চোপড়া : চোপড়া ব্লকের বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় পর্যাপ্ত সেচের ব্যবস্থা না থাকায় সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে চাষিদের। বর্ষা পেরোতেই খাঁখাঁ করছে তিস্তা প্রকল্পের বিভিন্ন সাব-ক্যানাল। কৃষিকাজের জন্য একফোঁটা জলও না পেয়ে ক্ষোভে ফুঁসছেন চাষিরা। অন্যদিকে এলাকার অধিকাংশ গ্রাম পঞ্চায়েতে গভীর নলকূপের ব্যবস্থা নেই। কোথাও গভীর নলকূপ থাকলেও তা দীর্ঘদিন ধরে অকেজো। সংশ্লিষ্ট দপ্তর অথবা প্রশাসনের তরফে এ বিষয়ে কোনওরকম ভ্রূক্ষেপ নেই বলে অভিযোগ। বিভিন্ন এলাকায় তিস্তা খালের বিভিন্ন শাখা দীর্ঘদিন ধরে বেহাল রয়েছে। তিস্তা প্রকল্পের হাপতিয়াগছ ডিভিশন সূত্রে অবশ্য জানানো হয়েছে, তিস্তার মেইন ক্যানালে সব সময় জল থাকে। ডিভিশনভিত্তিক বিষয়টি দেখা হচ্ছে।

মাঝিয়ালি, চুটিয়াখোর ও লক্ষ্মীপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় তিস্তার সাব-ক্যানাল থাকা সত্ত্বেও সেচের কাজে লাগছে না বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। দাসপাড়া, ঘিরনিগাঁও, সোনাপুর, লক্ষ্মীপুর ও চুটিয়াখোর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় পর্যাপ্ত সেচের ব্যবস্থা না থাকায় সমস্যায় পড়েছেন চাষিরা। ঘিরনিগাঁও এলাকার কৃষক আলতাফ হুসেন জানান, সেচের ব্যবস্থা না থাকায় মরশুমি চাষে সমস্যা দেখা দিচ্ছে। অনেকেই আবাদি জমিতে চা চাষে ঝুঁকেছেন। সেচের সমস্যায় বর্ষা ছাড়া অন্য সময়ে জমি ফেলে রাখতে হচ্ছে বলে চাষিরা জানিয়েছেন। বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন গভীর নলকূপ অকেজো হয়ে পড়ে থাকলেও প্রশাসনের ভ্রূক্ষেপ নেই বলে অভিযোগ। ঘিরনিগাঁও গ্রাম পঞ্চায়েতের বাতাসুগছ ও দোয়ানজাগির এলাকায় দীর্ঘদিন গভীর নলকূপ অকেজো রয়েছে। কিন্তু প্রশাসনের কাছে চাষিরা অভিযোগ জানালেও সংস্কারের ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। মাঝিয়ালি, সোনাপুর ও দাসপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের চাষিদের অভিযোগ, বর্ষায় বন্যা হয়ে ফসলের ক্ষতি হয়। অন্যদিকে সেচের অভাবে শীতকালীন ফসল চাষ করা সম্ভব হচ্ছে না।

- Advertisement -

চুটিয়াখোর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান কামালউদ্দিন বলেন, এলাকার ওপর দিয়ে তিস্তার সাব-ক্যানাল লক্ষ্মীপুর গ্রাম পঞ্চায়েত পর্যন্ত গিয়েছে। কিন্তু বছরের অন্য সময় নিয়মিত জল না পাওয়ায় চাষিরা বঞ্চিত হচ্ছেন। পর্যাপ্ত সেচের অভাব রয়েছে। কোথাও গভীর নলকূপের ব্যবস্থা নেই। চাষিদের অনেকেই ব্যক্তিগতভাবে পাম্পসেটের সাহায্যে বোরো ধান চাষ করেন। দাসপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান দুলাল মণ্ডল বলেন, এলাকার কিছু অংশ দিয়ে সেচের খাল গেলেও তার বেহাল দশা। চাষিরা কোনওরকম সুবিধা পাচ্ছেন না। তাছাড়া এলাকায় কোনও গভীর নলকূপের ব্যবস্থা নেই। বিষয়টি জেলা প্রশাসনের নজরে আনা হয়েছে। ৬টি এলাকায় গভীর নলকূপের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

চোপড়া পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মহম্মদ আজহারউদ্দিন বলেন, বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে চাষিদের সেচের কাজের সুবিধার জন্য গভীর নলকূপের প্রস্তাব এসেছে। বিষয়টি জেলা প্রশাসনের নজরে আনা হয়েছে। লক্ষ্মীপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দা তথা জেলা পরিষদ সদস্য আজিজ আহমেদ বলেন, কয়েকটি গ্রামের পাশ দিয়ে তিস্তার সাব-ক্যানাল থাকলেও বর্ষা ছাড়া বছরের অন্য সময় জল থাকে না। তাছাড়া অধিকাংশ ক্যানালের বেহাল দশা। চাকলাগছ এলাকায় গভীর নলকূপ দীর্ঘদিন ধরে অচল রয়েছে বলে জানান তিনি। বিষয়টি জেলা প্রশাসনের নজরে আনা হয়েছে বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।