পাঁচ বছর আগে কল বসলেও জল নেই মহাকালগুড়িতে

319

নীরেন্দ্রনারায়ণ দাশ, শামুকতলা : আলিপুরদুয়ার-২ ব্লকের মহাকালগুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের বিস্তীর্ণ এলাকা পানীয় জলের সমস্যায় জর্জরিত। দক্ষিণ মহাকালগুড়ি, উত্তর মহাকালগুড়ি সহ একাধিক এলাকার বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরেই পানীয় জল থেকে বঞ্চিত। বহু বছর আগে মহাকালগুড়ির চৌকিরবসে পিএইচইর জলপ্রকল্পের কাজ হয়। চৌকিরবসে একটি পাম্পহাউস ও জলাধার তৈরি হয়। জলের পাইপও বসানো হয়। ৩০টি কলও বসে। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, দীর্ঘ পাঁচ বছর হয়ে গেলেও কলগুলোতে একদিনের জন্য জল আসেনি। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অধিকাংশ পাইপ ফেটে গিয়েছে। অধিকাংশ কলও নষ্ট হয়ে গিয়েছে। বেশ কিছু জায়গায় কলের চিহ্নমাত্র নেই। অবিলম্বে পানীয় জল সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। অবশ্য পঞ্চায়েত প্রধান ও জনস্বাস্থ্য কারিগরি বিভাগের আধিকারিকদের দাবি, স্থানীয় বাসিন্দারা এ বিষয়ে তাঁদের কাছে কোনও অভিযোগই দায়ের করেননি।

মহাকালগুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েত আলিপুরদুয়ার জেলার একটি প্রত্যন্ত এলাকা। আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় দারিদ্র‌্যের ছাপ স্পষ্ট। এলাকার অধিকাংশ মানুষের জল কিনে খাওয়ার ক্ষমতা নেই। ফলে অধিকাংশ গ্রামবাসী নলকূপের জলই খান। সেই জলেও প্রচুর আয়রন রয়েছে। দক্ষিণ মহাকালগুড়ির বাসিন্দা উৎপল দেবনাথ বলেন, পরিস্রুত পানীয় জল না থাকায় এলাকার লোকদের পেটের সমস্যা লেগেই আছে। এখানকার জলে আয়রনও প্রচুর। তাই নলকূপ বা কুয়োর জল পানের অযোগ্য। প্রশাসনের আমাদের সমস্যার বিষয়টি দেখা উচিত। আরেক বাসিন্দা দিলীপ দেবনাথ বলেন, ২০১৪ সালে জলের পাইপ বসানো হয়। তারপর পাঁচ বছর কেটে গেলেও একদিনের জন্যেও আমরা জল পাইনি। অনেকবার বিষয়টি প্রশাসনকে জানিয়েছি। কিন্তু কোনও কাজ হয়নি। উত্তর মহাকালগুড়ির বাসিন্দা উপানন্দ পাল ও নির্মল পাল জানান, বিপুল সরকারি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি নির্মিত হয়েছে। কিন্তু জল সরবরাহ চালু না হওয়ায় সরকারি টাকা অকারণে নষ্ট হচ্ছে। অবিলম্বে জল সরবরাহ চালু করা হোক।

- Advertisement -

মহাকালগুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান অঞ্জলি বিশ্বাস বলেন, বিষয়টি আমাদের দপ্তরের অন্তর্গত নয়। তাই আমি কিছু বলতে পারব না। পিএইচইর আলিপুরদুয়ারের অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার তরুব্রত রায় বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি। পিএইচইর আলিপুরদুয়ারের এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার সুব্রত ধর বলেন, এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে গ্রামবাসীরা বা পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ আমাকে কোনও অভিযোগ জানায়নি। সংশ্লিষ্ট পাম্প স্টেশনেও সমস্যার কথা জানাননি। তবে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।