আলিপুরদুয়ার-১ ব্লকে একাধিক অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে পানীয় জল মিলছে না

316

নয়ন রায়, সোনাপুর : আলিপুরদুয়ার-১ ব্লকের বাবুরহাট বাজার সংলগ্ন আটমাইল গ্রামের ৫৫ নম্বর অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রটি পানীয় জলের সমস্যায় ধুঁকছে। বাচ্চা থেকে শুরু করে প্রসূতি ও গর্ভবতীরা ওই কেন্দ্র থেকে পরিসেবা পেলেও পানীয় জলের কোনো ব্যবস্থা নেই। কেন্দ্রের সহায়িকা থেকে অভিভাবকরা এজন্য প্রশাসনিক উদাসীনতাকেই দায়ী করেছেন। ঘর স্থানান্তরের পর এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে।

৫৫ নম্বর অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র থেকে ৩২ জন বাচ্চা সহ ৪ জন গর্ভবতী ও ৩ জন প্রসূতি পরিসেবা পান। কেন্দ্রটিতে কোনো নলকূপ নেই। ফলে মেলে না পানীয় জল। বহুবার সমস্যার কথা মৌখিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বলা হলেও সমস্যা সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রধান সহায়িকা শান্তি ওরাওঁ বলেন, আমাদের সেন্টারে পানীয় জলের সমস্যার পাশাপাশি রান্নাঘরটিও বেহাল। মৌখিকভাবে সমস্যার কথা সুপারভাইজারকে জানানোও হয়েছিল। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। অন্য এক সহাযিকা মাধবী দাস বলেন, পার্শ্ববর্তী বাড়ি থেকে রান্নার জল বয়ে নিয়ে আসতে হয়। প্রশাসনের উচিত দ্রুত পদক্ষেপ করা। ওই কেন্দ্রের অভিভাবকরাও এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান চেয়েছেন। কেন্দ্রের এক অভিভাবক সঞ্জয় রায় বলেন, আটমাইলের এই কেন্দ্রটি একাধিক সমস্যায় জর্জরিত। প্রশাসনের উচিত দ্রুত পদক্ষেপ করা।

- Advertisement -

পররপার গ্রাম পঞ্চায়েতের পাকুড়িতলার ১৯৪ নম্বর কেন্দ্রটি চলতি বছরের অগাস্ট মাসে নতুন ভবন পেলেও সেখানে পানীয় জলের কোনো ব্যবস্থা নেই। অভিযোগ, নবনির্মিত ভবনে পাইপলাইন এবং একটি নলকূপ থাকলেও জল মেলে না। বর্তমানে ৩০ জন বাচ্চা সহ ১০ জন গর্ভবতী ও প্রসূতি ওই কেন্দ্র থেকে পরিসেবা পান। কেন্দ্রের সহায়িকা দময়ন্তী রায় দাস বলেন, অগাস্ট মাসে নতুন ভবন পেয়েছি। ভবন চত্বরে একটি কল থাকলেও সেটিতে জল মেলে না। বাধ্য হয়ে পাশের বাড়ি থেকে রান্নার জল নিয়ে আসি। বিষয়টি একাধিকবার রিপোর্ট কার্ডে উল্লেখ করা সত্ত্বেও সমস্যার সমাধান হয়নি। ওই কেন্দ্র থেকে পরিসেবা পান সুচিত্রা দাস। তিনি  বলেন, পাইপলাইন থাকলেও জলের ব্যবস্থা নেই এখানে। প্রশাসনের বিষয়টি দেখা উচিত।

আলিপুরদুয়ার-১ ব্লকের শিশু সুরক্ষা আধিকারিক দেবব্রত সরকার বলেন, রাস্তার কাজ শুরু হলে ৫৫ নম্বর কেন্দ্রটি ভাঙা পড়বে। তখন সেটি স্থানান্তর করা হবে। নতুন ভবন তৈরি হলে পানীয় জলের সমস্যারও স্থায়ী সমাধান হবে। ১৯৪ নম্বর কেন্দ্রের নতুন ভবন নির্মাণ ও পানীয় জলের দাযিত্বে রয়েছে সংশ্লিষ্ট গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ। আমি জলের সমস্যার কথা ইতিমধ্যেই গ্রাম পঞ্চায়েকে জানিয়েছি। পররপার গ্রাম পঞ্চায়েতের নির্মাণসহায়ক পয়চাঁদ দে বলেন, আমি এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।