উত্তরবঙ্গের সাত সরকারি নার্সিং স্কুলের হস্টেলে ওয়ার্ডেন নেই

123

ভাস্কর শর্মা, আলিপুরদুয়ার : উত্তরবঙ্গের সাতটি সরকারি নার্সিং ট্রেনিং স্কুলের হস্টেলের একটিতেও ওয়ার্ডেন নেই বলে অভিযোগ। ওয়ার্ডেন না থাকায় ছাত্রীদের সুবিধা-অসুবিধা দেখারও কেউ নেই। এমনকি হস্টেলগুলিতে ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে বড়ো প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে। ছাত্রীরা তাঁদের অভাব-অভিযোগ জানাতে হাসপাতালের সুপার কিংবা নার্সিং ইনস্টিটিউটের হেড দিদিমণির মুখাপেক্ষী হয়ে থাকছেন।

এই অবস্থায় হস্টেলগুলিতে নিরাপত্তা সহ অন্য সমস্যা দূর করতে ওয়ার্ডেন নিয়োগের দাবি উঠেছে। সম্প্রতি ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের নার্সিং হস্টেল এবং পূর্ব বর্ধমান জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের একটি নার্সিং ট্রেনিং স্কুলে দুই ছাত্রীর অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনার পর রাজ্যের সব নার্সিং ইনস্টিটিউটগুলির হস্টেলের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এ বিষয়ে ওয়েস্ট বেঙ্গল হেলথ রিক্রুটমেন্ট বোর্ডের চেয়ারম্যান ডাঃ তাপস মণ্ডল বলেন, নার্সিং স্কুলের প্রতিটি হস্টেলেই দ্রুত ওয়ার্ডেন নিয়োগ করা হবে। এর জন্য ১৬৫টির মতো ওয়ার্ডেন পদের অনুমোদনও মিলেছে। জরুরি ভিত্তিতে বোর্ডের একটি মিটিং ডাকা হয়েছে। তারপরেই নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হবে।

স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তরবঙ্গে আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালের স্কুল অফ নার্সিং ইনস্টিটিউট, বালুরঘাট জেলা হাসপাতালের স্কুল অফ নার্সিং ইনস্টিটিউট, দার্জিলিং জেলা হাসপাতাল, জলপাইগুড়ি জেলা হাসপাতালের নার্সিং স্কুল, এমজেএন হাসপাতালের নার্সিং ইনস্টিটিউট, কালিম্পং এবং উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের নার্সিং ইনস্টিটিউট -এই সাতটি সরকারি নার্সিং স্কুল রয়েছে। প্রতিটি নার্সিং ইনস্টিটিউটেই একটি করে হস্টেল রয়েছে। এই সাতটি নার্সিং হস্টেল মিলিয়ে প্রায় একহাজার ছাত্রী থাকেন। স্থানীয় এবং বাইরের ছাত্রীরাও নার্সিং ইনস্টিটিউটের হস্টেলগুলিতে থেকে প্রশিক্ষণ নেন। এই হস্টেলগুলির দেখাশোনা ওয়ার্ডেনের দায়িত্ব। ছাত্রীদের অভাব-অভিযোগ শোনার পাশাপাশি হস্টেলের ভেতরের নিরাপত্তার দিকটিও তাঁদেরই দেখার কথা। কিন্তু অভিযোগ, দীর্ঘদিন থেকেই উত্তরবঙ্গের নার্সিং হস্টেলগুলিতে ওয়ার্ডেন না থাকায় ছাত্রীরা হাজারো সমস্যার সম্মুখীন হয়েও অনেক বিষয়ই কর্তৃপক্ষকে জানাতে পারছেন না।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জলপাইগুড়ি জেলা হাসপাতালের নার্সিং ইনস্টিটিউটের হস্টেলের ছাত্রী বলেন, হস্টেলে কোনো ওয়ার্ডেন নেই। ফলে আমাদের বিভিন্ন সমস্যা সরাসরি হাসপাতালের সুপারকেই জানাতে হয়। তবে কিছু সমস্যা সুপারকেও জানানো সম্ভব না। তাই হস্টেলে ওয়ার্ডেন থাকলে আমাদের সুবিধা হবে। আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালের নার্সিং হস্টেলের এক ছাত্রী বলেন, ওয়ার্ডেন না থাকায় বিশেষ করে রাতের দিকে আমাদের অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। তখন সুপারকেও পাওয়া যায় না। হাসপাতালের অন্য কর্মীরা নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকলেও তা যথেষ্ট নয়। ওয়ার্ডেন থাকলে বিভিন্ন বিষয়ে আমরা তাঁর থেকে সাহায্য পেতে পারি। তবে জানা গিয়েছে, বিভিন্ন নার্সিং হস্টেলে গ্রুপ ডি কর্মীরাই ওয়ার্ডেনের কাজকর্ম করে থাকেন। পাশাপাশি তাঁরা হাসপাতালের কাজও করেন। তাই ছাত্রীদের সুবিধা এবং নিরাপত্তার খাতিরে উত্তরবঙ্গের প্রতিটি নার্সিং ইনস্টিটিউটের হস্টেলেই স্থায়ী ওয়ার্ডেন নিয়োগের দাবি জানিয়েছে বিভিন্ন মহল।

এই প্রসঙ্গে কোচবিহার সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের এমএসভিপি ডাঃ রাজীব প্রসাদ অবশ্য দাবি করেন, কোচবিহার নার্সিং ইনস্টিটিউটের হস্টেলে ওয়ার্ডেন আছে। উনিই কাজকর্ম দেখাশোনা করেন। আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালের নার্সিং ইনস্টিটিউটের হস্টেলের বিষয়ে সুপার চিন্ময় বর্মন বলেন, আমাদের নার্সিং হস্টেলের ওয়ার্ডেন পোস্টটি এখনও ফাঁকা রয়েছে। তবে স্কুলের হেড দিদিমণিরা ছাত্রীদের সব বিষয় দেখাশোনা করছেন। পাশাপাশি নিরাপত্তার জন্য নিরাপত্তারক্ষীও দায়িত্বে রয়েছেন। ওয়েস্ট বেঙ্গল হেলথ রিক্রুটমেন্ট বোর্ডের রাজ্য সরকার মনোনিত সদস্য তথা শ্রম দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী ডাঃ নির্মল মাঝি বলেন, বেশ কিছু কারণে এতদিন ওয়ার্ডেন নিয়োগ বন্ধ ছিল। এবার ওই পদে রাজ্যজুড়ে দ্রুত নিয়োগ করা হবে।