হাসপাতালে নেই এক্স-রে প্লেট, ক্ষোভ রোগীর পরিজনদের

63

রায়গঞ্জ: দেড় মাস ধরে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে এক্স-রে প্লেট নেই। ফলে রোগীর চিকিৎসার প্রয়োজনে বাইরে থেকে এক্স-রে করাতে হচ্ছে বলে অভিযোগ। এতে চরম হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে রোগীর পরিজনদের। রায়গঞ্জ থানার বাহিন এলাকার বাসিন্দা আখতার আলি পথ দুর্ঘটনায় জখম হয়ে হাসপাতালের মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন। তাঁর ডান পা ভেঙে যায়। কর্তব্যরত ও অস্থি রোগ বিশেষজ্ঞ এক্স-রে করার পরামর্শ দেন। হাসপাতলে এক্স-রে প্লেট না থাকায় বাধ্য হয়ে একটি বেসরকারি ক্লিনিক থেকে এক্স-রে করাতে হয়। দিন তিনেক আগে এক গাড়ি চালককে একদল দুষ্কৃতী বেধড়ক মারধর করে পা ভেঙে দেয়। তাঁকেও বাইরে থেকে মোটা টাকার বিনিময়ে এক্স-রে করাতে হয়। হেমতাবাদের বাসিন্দা জয়ন্ত রায় ট্র্যাক্টরের ধাক্কায় গুরুতর জখম হয়ে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজে ভর্তি হলে তাঁকেও এক্স-রে করার পরামর্শ দেন চিকিৎসক।

জয়ন্ত রায় বলেন, ‘শল্য বিভাগ থেকে হুইলচেয়ারে লিফট দিয়ে আমাকে নামানো হয়। তার জন্য ২০০ টাকা দিতে হয়। সেখান থেকে টোটো ভাড়া করে উকিল পাড়ার একটি বেসরকারি প্যাথলজি সেন্টারে গিয়ে এক্স-রে করালে ৪০০ টাকা নেয়। সব মিলিয়ে ৮৩০ টাকা খরচ হয়। কেউ কেউ টাকা খরচ করে এক্স-রে করাতে পারলেও অনেকে আবার টাকার অভাবে এক্স-রেই করাতে পারেনি।’ রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যক্ষ প্রিয়ঙ্কর রায় জানান, যত দ্রুত সম্ভব এক্স-রে প্লেট আনার জন্য স্বাস্থ্য ভবনকে জানানো হয়েছে।

- Advertisement -

মেডিকেল কলেজ সূত্রে জানা গিয়েছে, একটি সরকারি এজেন্সি এক্স-রে প্লেট সরবরাহ করে। গত দেড় মাস ধরে তারা সরবরাহ করছে না। বাইরে থেকে প্লেট কিনে পরিষেবা সচল রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু স্টক একেবারেই শেষ হয়ে গিয়েছে বলেই সমস্যা হয়েছে। প্রসঙ্গত, রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে প্রতিদিন হাজার থেকে ১২০০ জন রোগী চিকিৎসা করাতে আসেন।

উত্তর দিনাজপুর জেলার নাগরিক কমিটির সম্পাদক তপন চৌধুরী জানান, বিভিন্ন প্যাথলজি ল্যাবের দালালরা হাসপাতালের মূল ফটকের সামনে দাঁড়িয়ে থাকছে। দুর্ঘটনায় বা অন্য কোনও কারণে হাত-পা ভেঙে গেলে সেই সমস্ত রোগীকে বাইরে থেকে এক্স-রে করাতে নিয়ে যাচ্ছে। বিনিময়ে কমিশন পাচ্ছে। মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ প্রশাসনের বিষয়টি দেখা উচিত।