বেরুবাড়িতে শিল্পের জমিতে এখন গোরু চরে

237

পূর্ণেন্দু সরকার, জলপাইগুড়ি : জমি তৈরি। তৈরি সীমানাপ্রাচীরও। তবু একজন বিনিয়োগকারীরও দেখা নেই। দীর্ঘ আট বছরে পাঁচবার টেন্ডার ডেকেও কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপনে একজন শিল্পোদ্যোগীকেও উত্সাহিত করতে পারেনি  শিলিগুড়ি-জলপাইগুড়ি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এসজেডিএ)। বাধ্য হয়ে ষষ্ঠবার টেন্ডার ডাকল এসজেডিএ। আট বছর আগে শিলান্যাস করা জলপাইগুড়ির বেরুবাড়িতে প্রসেসিং অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার ফর টম্যাটো পাউডার অ্যান্ড অ্যালয়েড প্রোডাক্টের শিল্প ইউনিট আজও তৈরি হয়নি। সীমানাপ্রাচীর দেওয়া এই কৃষিভিত্তিক শিল্পের জন্য নেওয়া ১০ একর জমি গোচারণভূমিতে পরিণত হয়েছে। রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় সরকারের ১৭ কোটি ৫৫ লক্ষ ৪৬ হাজার টাকার এই কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপনের স্বপ্ন অধরাই রয়ে গিয়েছে। বিনিয়োগকারী না পেলে এই জমিতে বিকল্প কিছু করার চিন্তাভাবনা করা হবে বলে জানিয়েছেন এসজেডিএর চেয়ারম্যান। বর্তমান পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেব এসজেডিএর চেয়ারম্যান থাকাকালীন ২০১২ সালে জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের জলপাইগুড়ি-হলদিবাড়ি রাজ্য সড়কের ধারে বেরুবাড়িতে এই প্রকল্পের শিলান্যাস করেছিলেন। এসজেডিএ থেকে ঘোষণা করা হয়েছিল, এক বছরের মধ্যে এই প্রকল্পের কাজ শেষ করা হবে। প্রথম পর্যায়ে কাজে জমির উন্নয়ন ও সীমানাপ্রাচীর দেওয়া, দুই লেনের অ্যাপ্রোচ রাস্তা, অফিস, এটিএম, কনফারেন্স রুম প্রভতি তৈরির কথা ছিল। পাশাপাশি প্রোডাক্ট ডিসপ্লে এরিয়া, গেস্ট রুম, রেস্তোরাঁ তৈরি করা, সবজির প্রশিক্ষণকেন্দ্র, চারটি চেম্বারযুক্ত সবজির মজুত ঘর, লোডিং ও আনলোডিং পরিসেবার জায়গা তৈরিরও কথা ছিল। ট্রাক পার্কিং এলাকা, কালভার্ট সমেত অভ্যন্তরীণ রাস্তা, নিকাশিনালা এবং শৌচালয় নির্মাণ, গভীর নলকূপ তৈরি, নিরাপত্তারক্ষীর রুম, জেনারেটর পাওয়ার ইউনিট, বৈদ্যুতিক পরিসেবা তৈরি, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা রাখা, টম্যাটো প্রক্রিয়াকরণ প্রযুক্তি, ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট  প্রভৃতি কাজও প্রথম পর্যায়ে তালিকায় রাখা ছিল।

এই রাজ্যে টম্যাটো প্রচুর পরিমাণে উত্পাদন হলেও ফসল তোলার পর তা ঠান্ডা ঘরে মজুত রাখার ব্যবস্থা নেই। ফলে উত্পাদিত টম্যাটোর ৫০ শতাংশই পরিবহণ, রপ্তানির সময় নষ্ট হয়। এই কারণে রাজ্য সরকারের শিল্প বাণিজ্য দপ্তরের সহয়োগিতায় এবং কেন্দ্রের অ্যাসিস্ট্যান্স টু স্টেট ফর ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট ফর এক্সপোর্ট (এএসআইডিই)-র অর্থের সাহায্যে এই শিল্প গড়ার পরিকল্পনা নিয়েছিল এসজেডিএ। প্রকল্পে জমির পরিকাঠামো উন্নয়নে বরাদ্দ হয়েছিল আড়াই কোটি টাকার বেশি, সিভিল কনস্ট্রাকশন তৈরিতে ৮ কোটি ৩৫ লক্ষ ৮২ হাজার টাকা, মেশিন এবং ইলেকট্রিসিটির জন্য ৫ কোটি ৭৫ লক্ষ ৬৬ হাজার টাকা এবং কনসালটেন্সি ও সরকারি ফি বাবদ খরচ ধরা হয়েছিল ৯৩ লক্ষ ৩৪ হাজার টাকা। মোট প্রকল্প খরচের মধ্যে রাজ্য সরকারের ভাগে ১ কোটি ৪০ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা, কেন্দ্রের অনুমোদিত অর্থের পরিমাণ ছিল ১৪ কোটি ২৯ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা এবং প্রোমোটারের বিনিয়োগ ছিল ২ কোটি ৫৬ লক্ষ ৯৫ হাজার টাকা।

- Advertisement -

উত্তরবঙ্গের মধ্যে সবচেয়ে বেশি টম্যাটো উত্পাদন হয় কোচবিহারের হলদিবাড়ি ব্লকে। জলপাইগুড়ি ও কোচবিহার জেলায় সার্বিকভাবে টম্যাটো উত্পাদন ভালো। একাধিকবার কৃষকরা ন্যায্য দাম না পেয়ে রাস্তায় টম্যাটো ফেলে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। তাই খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প ইউনিটের শিলান্যাসে আশার আলো দেখেছিলেন কৃষকরা। কিন্তু বর্তমানে প্রকল্পের এই হালে মুষড়ে পড়েছেন তাঁরা।

এই বিষয়ে শিলিগুড়ি জলপাইগুড়ি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রাক্তন  চেয়ারম্যান সৌরভ চক্রবর্তী বলেন, আমি থাকাকালীন দুবার টেন্ডার ডেকে চেষ্টা করেছিলাম কিন্তু। কেউ এগিয়ে আসেননি। সরকার নাকি পিপিপি মডেলে প্রকল্প করা হবে, তা খতিয়ে দেখার আগেই আমি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব থেকে সরে য়াই। বর্তমান এসজেডিএর চেয়ারম্যান বিজয়চন্দ্র বর্মন বলেন, হলদিবাড়িতে জযী সেতু হচ্ছে তিস্তা নদীর উপর। হলদিবাড়ি-চিলাহাটি রেলপথ চালুর সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। সেদিক থেকে প্রকল্পটির গুরুত্ব আছে। আমি দায়িত্ব নিয়ে ফের ইউনিভারসাল ভেজিটেবল প্রোসেসিং ট্রেনিং সেন্টার ফর টম্যাটো অ্যান্ড আদার অ্যালয়েড প্রোডাক্টের জন্য বিনিয়োগ চেয়ে টেন্ডার ডেকেছি। এইভাবে অধিগৃহীত জমি ফেলে রাখা যাবে না। এবার বিনিয়োগকারী না এলে বিকল্প কিছু করার চিন্তাভাবনা করতে হবে।