পদক নিশ্চিত করে গীতার বাণী আইএএস সুহাসের মুখে

টোকিও : ফাইনালে ওঠার পদক নিশ্চিত হয়েছে আগেই। রবিবার বোঝা যাবে, আরও একটি সোনা আসবে না রুপো। তবে শনিবার ম্যাচ শেষে সুহাস লালিনাকেরে ইয়াথিরাজের মুখে গীতার বাণী- ফলের চিন্তা না করে কর্ম কর।

তবে সুহাসের পরিচয় শুধুমাত্র কোনও সাধারণ প্যারা অ্যাথলিট নয়। তিনি উত্তরপ্রদেশের গৌতম বুদ্ধ নগরের জেলাশাসক। তিনি ভারতের প্রথম আইএএস অফিসার যিনি প্যারালিম্পিকে পদক জিততে চলেছেন। ৩৮ বছরের সুহাস কর্নাটকের বাসিন্দা। সেই রাজ্যের এনআইটি থেকে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনার পর ২০০৭ সালে আইএএস হন তিনি। এরপর একে একে প্রয়াগরাজ, আগ্রা, আজমগড়, জৌনপুর, শোনভদ্রের জেলাশাসক পদে কাটিয়েছেন। বর্তমানে আছেন গৌতম বুদ্ধ নগরে। এই জেলাতেই রয়েছে উত্তর প্রদেশ তথা দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মহানগর নয়ডা।

- Advertisement -

বর্তমানে এসএল৪ ক্যাটেগরিতে বিশ্বের ৩ নম্বর সুহাস। টোকিওয় রয়েছেন দুরন্ত ফর্মে। প্রথম দুরাউন্ডে জিতেছেন মাত্র ২০ মিনিটে। শনিবার সেমিফাইনালে ইন্দোনেশিয়ার ফ্রেডি সেতিয়াওনকে ২১-৯, ২১-১৫ পয়েন্টে হারাতে সময় নিয়েছেন ৩১ মিনিট। জেলাশাসক হিসেবে চাপ সামলাতে অভ্যস্ত হওয়ায় কোর্টের চাপ গায়ে লাগে না সুহাসের। গত বছর করোনা সংক্রমণের মধ্যেই ৩০ মার্চ উত্তর ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শহর নয়ডার দায়িত্ব পান। করোনা যোদ্ধা হিসেবে দায়িত্ব সামলেই খেলা চালিয়ে গিয়েছেন। তাঁর কথায়, আমি রাত ১০টা থেকে ২ ঘণ্টা অনুশীলন করেছি। গত কয়েক বছর ধরেই প্রশাসক ও খেলোয়াড় হিসেবে কাজ চালাচ্ছি।

২০১৬ সালে আজমগড়ের জেলাশাসক পদে থাকাকালীন পেশাদার শাটলারে পরিণত হন সুহাস। এলাকায় আয়োজিত একটি ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতায় অতিথি হিসেবে ডাক পেয়েছিলেন। তার আগে অবশ্য নিয়মিত অনুশীলন করতেনই। তবে ওই প্রতিযোগিতায় গিয়ে খেলোয়াড় হিসেবে নামতে অনুরোধ জানান আয়োজকদের। তাঁর কথায়, একটি প্রতিযোগিতায় উদ্বোধনে আমন্ত্রণ পেয়েছিলাম। সেখানে গিয়ে হঠাত্ই খেলতে ইচ্ছে করে। এমনিতে নিয়মিত অনুশীলন করতাম। তবে সেদিন রাজ্যস্তরের শাটলারদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সুযোগ পাই। সেখানে ম্যাচ জিতে দেশের এক নম্বর প্যারা ব্যাডমিন্টন কোচ গৌরব খান্নার নজরে পড়েন সুহাস। তাঁর জোরাজুরিতেই ৩৪ বছর বয়সে রাজ্য সামলানোর পাশাপাশি খেলায় মন দেন।

২০১৬ সালেই বেজিংয়ে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নেন সুহাস। প্রথম অবাঁছাই (নন-র‌্যাঙ্কড) শাটলার হিসেবে সোনা জেতার রেকর্ড গড়েন। করোনা সংক্রমণের আগে প্রথমসারীর তিনটি আন্তর্জাতিক ইভেন্টে সোনা জিতেছেন সুহাস। টোকিওয় পারফরমেন্স প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, আমি দেখেছি সামান্য ব্যবধান বড় পার্থক্য গড়ে দেয়। আমি মিলিমিটারের দূরত্বে ম্যাচ হেরেছি, সেন্টিমিটারের ব্যবধানে জিতেছি। এখানে সকলেই পদক জিততে এসেছে। এখানেই গীতার বাণী পাথেয় সুহাসের, নিজের কাজটা কর, ফল মিলবেই। আমি নিজেকে চাপ দিচ্ছি না। ঈশ্বর আমাকে এই পর্যন্ত এনেছেন। বাকিটা আমি করতে চাই।

রবিবার আর একটা ম্যাচ জিতুন সুহাস, চাইছে ভারত।