তৃণমূলের পাঁচ হেভিওয়েট নেতার মনোনয়ন নিশ্চিত

167

গৌরহরি দাস, কোচবিহার : তৃণমূলের পাঁচ হেভিওয়েট নেতা প্রার্থী হচ্ছেন এবার কোচবিহারে। এঁরা হলেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ, অনগ্রসর শ্রেণিকল্যাণমন্ত্রী বিনয়কৃষ্ণ বর্মন, দলের জেলা সভাপতি পার্থপ্রতিম রায়, বিধায়ক উদয়ন গুহ ও বিধায়ক জগদীশ বর্মাবসুনিয়া। কলকাতায় বৈঠকের পরে এই পাঁচজনের নাম চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে। শেষ মুহূর্তে বড়সড়ো কোনও রদবদল না হলে এঁরা টিকিট পাচ্ছেন তা কার্যত নিশ্চিত।

সূত্রের খবর, এঁদের মধ্যে মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ, বিধায়ক উদয়ন গুহ ও বিধায়ক জগদীশ বর্মাবসুনিয়া তাঁদের নিজেদের কেন্দ্রে টিকিট পাচ্ছেন। অর্থাৎ রবি ঘোষ নাটাবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রে, উদয়ন গুহ দিনহাটা ও জগদীশ বর্মাবসুনিয়া সিতাই কেন্দ্র থেকেই আবার দাঁড়াচ্ছেন। তবে মন্ত্রী বিনয়কৃষ্ণ বর্মন ও জেলা সভাপতি পার্থপ্রতিম রায় কোন আসন থেকে দাঁড়াচ্ছেন তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। মন্ত্রী বিনয়কৃষ্ণ বর্মন তাঁর নিজের বিধানসভা কেন্দ্র মাথাভাঙ্গা অথবা কোচবিহার উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রর মধ্যে একটি থেকে দাঁড়াবেন। অপরদিকে, দলের জেলা সভাপতি পার্থপ্রতিম রায় কোচবিহার দক্ষিণ অথবা শীতলকুচি বিধানসভা কেন্দ্র এই দুটির মধ্যে একটি থেকে দাঁড়াবেন। ভোট ঘোষণা হওয়ার পরই তৃণমূল তাদের প্রার্থীতালিকা ঘোষণা করবে। কোচবিহার জেলায় মোট নয়টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে গত বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল একমাত্র কোচবিহার উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রটি বাদে বাকি সব আসনেই জয় পেয়েছে। তবে গত লোকসভা নির্বাচনে কোচবিহারে বিজেপি জয় পাওয়ার পর থেকেই জেলায় রাজনৈতিক পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন ঘটেছে।

- Advertisement -

লোকসভা নির্বাচনের পর থেকেই গোটা রাজ্যের পাশাপাশি কোচবিহারেও বিজেপি তাদের সাংগঠনিক শক্তি বাড়িয়েছে। সম্প্রতি  কোচবিহার দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক মিহির গোস্বামী তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ায় কোচবিহারে বিজেপির নেতা-কর্মীরা আরও উজ্জীবিত হয়ে উঠেছেন। অপরদিকে, দলে কিছুটা গোষ্ঠীকোন্দল থাকলেও নির্বাচনে বিজেপিকে এক ইঞ্চি জমি ছেড়ে দিতে রাজি নয় কোচবিহার জেলা তৃণমূল। কোচবিহারে ক্ষমতা ধরে রাখতে তারাও মরিয়া। এই অবস্থায় নির্বাচনে দুই দলের কাছেই সঠিক প্রার্থী মনোনয়ন একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা। ফলে বিধানসভা নির্বাচনে কোচবিহারে তৃণমূলের প্রার্থী কারা হবেন, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই জেলার মানুষের মধ্যে একটা কৌতূহল ছিল।

পার্থপ্রতিম রায়ের দাঁড়ানোর সম্ভাবনা কোচবিহার দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্র থেকেই বেশি। তবে দল এই কেন্দ্রটির জন্য অরাজনৈতিক কোনও পরিচিত ডাক্তার বা শিক্ষককেও প্রার্থী হিসাবে ভাবতে পারে। সেক্ষেত্রে এই আসনে কোনও অরাজনৈতিক ব্যক্তিকে তৃণমূল দাঁড় করালে পার্থকে শীতলকুচি থেকে দাঁড় করানো হবে। এরকম হলে শীতলকুচির বিধায়ক হিতেন বর্মনের টিকিট পাওয়া নিয়ে সমস্যা দেখা দিতে পারে। অপরদিকে, মন্ত্রী বিনয়কৃষ্ণ বর্মন কোনও কারণে মাথাভাঙ্গায় না হলে তাঁকে কোচবিহার উত্তর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে দাঁড় করানো হবে। সেক্ষেত্রে মাথাভাঙ্গা কেন্দ্রে গিরিনচন্দ্র বর্মন ও শিলিগুড়ি-জলপাইগুড়ি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বিজয়চন্দ্র বর্মনের টিকিট পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

দলীয় সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, মেখলিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রটিতে তৃণমূল নেতা পরেশচন্দ্র অধিকারী ও বিধায়ক অর্ঘ্য রায়প্রধানের টিকিট পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। অর্ঘ্য রায়প্রধান মেখলিগঞ্জ থেকে টিকিট না পেলে তাঁকে জলপাইগুড়ি বা অন্য কোনও কেন্দ্র থেকেও দাঁড় করানো হতে পারে। এছাড়া গ্রেটার নেতা বংশীবদন বর্মনকে কোচবিহারে না হলেও উত্তরবঙ্গে  যেখানে রাজবংশী ভোটার বেশি, তেমন কোনও কেন্দ্র থেকে দাঁড় করানোর পরিকল্পনা রয়েছে। মন্ত্রী বিনয়কৃষ্ণ বর্মন কোচবিহার উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রে না দাঁড়ালে সেখানেও বংশীবদন বর্মনকে দাঁড় করানো হতে পারে। আবার বিনয়কৃষ্ণ বর্মন মাথাভাঙ্গা থেকে না দাঁড়ালে সেখানেও বংশীবদনের সম্ভাবনা রয়েছে। তুফানগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে সম্ভবত বিধায়ক ফজল করিম মিয়াঁ এবার টিকিট পাচ্ছেন না। সেখানে সেলেব্রিটি কাউকে দাঁড় করানোর কথা ভাবছে তৃণমূল। কোনও কারণে তা না হলে সেখানে মেখলিগঞ্জের বিধায়ক অর্ঘ্য রায়প্রধান কিম্বা তৃণমূল নেতা আব্দুল জলিল আহমেদকেও দাঁড় করানো হতে পারে।

কলকাতায় সম্প্রতি এক বৈঠকে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়েছে। ভোটে দাঁড়ানোর প্রস্তুতি নিতে দলের জেলা সভাপতি পার্থপ্রতিম রায় দলের পতাকা, স্টিকার ইতিমধ্যেই কেনা শুরু করে দিয়েছেন। ফ্লেক্স, ফেস্টুনের জন্যও অর্ডার দেওয়া হবে। পার্থ বলেন, নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যাঁকে  যেখানে দাঁড় করাবেন আমরা তাঁকেই প্রার্থী হিসাবে সকলে মেনে নিয়ে একসঙ্গে লড়াই করব। এখানে আমাদের নিজস্ব কোনও মতামতের বিষয় নেই। ফ্ল্যাগ সহ নানা ধরনের জিনিস আমরা মাঝেমধ্যেই কিনি। এরসঙ্গে প্রার্থী হওয়ার সম্পর্ক নেই।