ব্রাহ্মণ পুরুষ নন, উত্তরবঙ্গে বিয়ে দিলেন মহিলা পুরোহিত

207

পঙ্কজ ঘোষ, গাজোল : ব্রাহ্মণ্যবাদের বেড়া ভেঙে অন্য এক ইতিহাস হয়ত লেখা হয়ে গেল রায়গঞ্জে। যদিদং হৃদয়ং মম, তদিদং হৃদয়ং তব, বিয়ের অনুষ্ঠানে বিয়ের এই মন্ত্র পড়লেন এমন একজন যিনি পুরুষ নন। ব্রাহ্মণও নন। গত বছর সরস্বতী পুজোয় বাগদেবীর আরাধনা করতে দেখা গিয়েছিল গঙ্গারামপুরের সুলেতা মণ্ডলকে। তার আগে ২০১৯ সালে মালদা কলেজে সরস্বতী পুজো করে তিনি মালদাবাসীর নজর কেড়েছিলেন। এবার পুজো নয়, তিনি এবার একটি বিয়েবাড়িতে পুরোহিত হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন। সুলেতা মণ্ডল এবার বিয়ে দিলেন উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জের কনেকে। বর এলেন হেমতাবাদ থেকে। বিয়ে হল সোমবার সন্ধ্যায়। এদিন সন্ধেয় উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জে মিউনিসিপ্যালিটি পাড়ায় একটি লজে ঋতুপর্ণা রায় ও রাজা দের বিয়েতে পুরোহিত ছিলেন সুলেতা মণ্ডল। সুলেতা মণ্ডলের বাড়ি গঙ্গারামপুরের বাতাসকুড়ি গ্রামে। এর আগে তিনি সরস্বতী পুজো ছাড়াও দুর্গাপুজো, কালীপুজো, শ্রাদ্ধানুষ্ঠান সহ বহুক্ষেত্রে পুরোহিত হয়েছেন। দুর্গাপুজো করেছেন কাঁথিতে গিয়ে।

গতবছর সুলেতা মণ্ডল গাজোলের তালতলা এলাকায় নর্থ মালদা টিচার্স ট্রেনিং কলেজে সরস্বতী পুজো করেছিলেন। তারপর ব্লক দপ্তরের সামনে অভিযাত্রী ক্লাবের সরস্বতী পুজোও করেন তিনি। তাঁর পুজো দেখতে সেদিন পুজো প্রাঙ্গণে ভিড় জমিয়েছিলেন বহু মানুষ। সুলেতা মণ্ডল বলেন, বেশ কিছু বছর ধরে আমি পুজো করছি। বাড়িতে তো বহুদিন ধরেই পুজো করি। একসময় ভাবলাম, আমি তো বিভিন্ন ধরনের পুজো করতে পারি। এরপর বছর দুয়েক আগে থেকে বাড়ির বাইরে পুজো শুরু করি। শুরু হয় সরস্বতী পুজো দিয়ে এইভাবে মালদায় পুজো করেছি। মালদার বাইরেও পুজো করেছি। কনের পিসতুতো দিদি মৌসুমী সরকার বলেন, কয়েক বছর ধরে আমি জানতাম সুলেতা মণ্ডল বিভিন্নরকম পুজো করছেন। আমি ভাবলাম মেয়েরা এখন অনেকটাই এগিয়ে তাহলে একটি মেয়ে কেন বিয়ের মন্ত্র পড়তে পারবে না? তাঁকে বলতেই তিনি রাজি হয়ে যান। তাই বোনের বিয়েতে তাঁকেই পুরোহিত হিসেবে ঠিক করা হয়েছে। ভীষণ ভালো লাগছে, এই প্রথম গোটা উত্তরবঙ্গে কোনও মহিলা বিয়ে মন্ত্র পড়ে বর-কনের বিয়ে দিলেন।

- Advertisement -

এ বিষয়ে কী বলছেন শাস্ত্র বিশেষজ্ঞরা? একদা মালদার বাসিন্দা বর্তমানে কলকাতা নিবাসী লেখক রামকৃষ্ণ ভট্টাচার্য সান্যাল বলেন, আমি তো বিয়েবাড়িতে বাংলায় মন্ত্র পড়ে বিয়ে দিই। আমি যতটুকু শাস্ত্র পড়েছি, তাতে কোথাও দেখিনি লেখা আছে পুজোয় ব্রাহ্মণ পুরুষকেই পুরোহিত হতে হবে। এটা হল ব্রাহ্মণ্যবাদী সমাজের বিধান। মেয়েরা তো বাড়িতে লক্ষ্মীর পাঁচালি পড়েন। সেখানে কোনও বাধা নেই তো? তাহলে? সংস্কৃতে মন্ত্র পড়ারও কোনও প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না। আমরা তো বিপদে পড়লে বাংলাতেই বলি, মা কালী বাঁচাও।