স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস, উত্তরবঙ্গে বর্ষা ৭ জুন

231

নয়াদিল্লি : করোনার জেরে এখন গোটা দেশে শ্মশানের নিস্তব্ধতা। স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রচুর ক্ষতি হচ্ছে জীবন-জীবিকার। এর মধ্যে আশার আলো দেখা গেল কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তরের (আইএমডি) ঘোষণায়। বুধবার আইএমডি জানিয়েছে, এ বছর দেশে স্বাভাবিক বৃষ্টি হবে। ভূবিজ্ঞান মন্ত্রকের সচিব মাধবন রাজীবন বুধবার জানান, ২০২০ সালে যে পরিমাণ বৃষ্টিপাত হওয়ার কথা, তার ১০০ শতাংশ হবে। খুব বেশি হলে ৫ শতাংশ কম-বেশি হতে পারে।

পুনের ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অফ ট্রপিক্যাল মেটিওরলজির বিশেষজ্ঞ রক্সি ম্যাথুর পূর্বাভাস একই। এটা ভারতীয় কৃষকদের কাছে অবশ্যই সুখবর। জুন থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে বৃষ্টিপাতের ৭০ শতাংশ পাওয়া যায়। ভালো বৃষ্টি হলে চাল, গম, তেল, আখ ও অন্যান্য শস্যের ভালো ফলন আশা করা যায়। মোট অর্থনীতির ১৫ শতাংশ আসে এই কৃষি থেকে, যা থেকে ৫০ শতাংশ মানুষের জীবিকা নির্বাহ হয়। বর্ষাকালে ভালো বৃষ্টি হলে খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

- Advertisement -

ভারতের কোথায় কবে বর্ষা ঢুকবে, সেই বিষয়ে পূর্বাভাস দিয়েছে আইএমডি। মূলত ১৯৬১ সাল থেকে যে তথ্য বৈজ্ঞানিকদের কাছে আছে, সেটি ব্যবহার করেই এই পূর্বাভাস দেওয়া হয়ে থাকে। আইএমডি জানিয়েছে, কলকাতায় বর্ষা শুরু হতে পারে ১১ জুন থেকে। চলবে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত। উত্তরবঙ্গে তার দিনচারেক আগে বর্ষা ঢুকবে। শিলিগুড়িতে ৮ ও জলপাইগুড়িতে ৭ জুন বর্ষা আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।

এই বছর এল নিনোর প্রভাব অনেকটা কম। তাই স্বাভাবিক সময়ে দেশে বর্ষাকাল শুরু হবে বলে আইএমডির পূর্বাভাস। গত বছর দেরি করে বর্ষা ঢুকেছিল এল নিনোর প্রভাবের জেরে। আইএমডি জানিয়েছে, প্রতিবারের মতোই ১ জুন কেরালায় প্রবেশ করবে বর্ষা। তবে পশ্চিমবঙ্গ সহ বেশ কিছু রাজ্যে এবার একটু আগে ঢুকবে বর্ষা। অন্যদিকে, দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল থেকে স্বাভাবিকের চেয়ে দুসপ্তাহ পরে বিদায় নেবে বর্ষাকাল।

জোনভিত্তিক পূর্বাভাস আগামী মাসে প্রকাশ করা হবে। সূত্রের খবর, এখনও পর্যন্ত প্রাক বর্ষাকালে যে বৃষ্টিপাত, সেটিও স্বাভাবিকের থেকে বেশি হয়েছে এবার। এতে ফলনে সুবিধা হবে বলেই জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। এর মধ্যেই একটা সতর্ক বার্তাও তাঁরা দিয়েছেন। ভারত মহাসাগর ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। এর জেরে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের ওপর কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে।