কেন্দ্রীয় দলের রিপোর্টের জেরেই রেড জোনে উত্তরের তিন জেলা

493

রণজিৎ ঘোষ, শিলিগুড়ি: অরেঞ্জ এবং গ্রিন জোন থেকে রাতারাতি রেড জোনে কালিম্পং, জলপাইগুড়ি এবং দার্জিলিং জেলা। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের সচিব প্রীতি সুদান গতকাল, বৃহস্পতিবার যে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন, সেখানে এই তিন জেলাকেই অরেঞ্জ জোন থেকে রেড জোনে রাখা হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, এই তিন জেলায় করোনা পরিস্থিতি ক্রমশ উন্নতির দিকে গেলেও কেন কেন্দ্র জেলাগুলিকে রেড জোনে অন্তর্ভুক্ত করল?

অরেঞ্জ জোনে থাকা শিলিগুড়িতে গত ২২ এপ্রিল একটি শিশুর শরীরে করোনার সংক্রমন পাওয়া গিয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের সরকারের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো জেলায় টানা ১৪ দিন নতুন করে কোনো সংক্রমণ না পাওয়া গেলে, সেই জেলা ১৫ তম দিন থেকে গ্রিন হয়ে যাবে। অর্থাৎ দার্জিলিং জেলা অন্তত ৫ মে পর্যন্ত অরেঞ্জ জোনে থাকার কথা।

- Advertisement -

অন্যদিকে, জলপাইগুড়ি এবং কালিম্পংয়ে ৫ এপ্রিলের পরে আর করোনার সংক্রমণ পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ, অরেঞ্জ জোনে থাকা এই জেলা দুটিও দ্রুত গ্রিন হওয়ার কথা। কিন্তু, তা না হয়ে লাফিয়ে রেড হওয়ার ঘটনা নিয়ে প্রশাসনিক মহলেও হইচই পড়েছে।

ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে, এই তিন জেলার ওঠানামার পুরো বিষয়টিই কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দলের রিপোর্টের ভিত্তিতে ঠিক হচ্ছে। সেক্ষেত্রে এই অঞ্চলে নতুন করে করোনার সংক্রমন না থাকলেও, এবং অন্য জায়গার তুলনায় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার হার বেশি থাকায় তত্ব কোনো কাজে আসছে না। রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে অসহযোগিতা, লকডাউন না মানার অভিযোগ করেছে উত্তরবঙ্গে আসা কেন্দ্রীয় দল। বার বার বলেও এই তিন জেলায় লকডাউনকে কড়াকড়ি করতে রাজ্য সরকার কোনো পদক্ষেপ করছে না বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এমন অবস্থায় এই কেন্দ্রীয় দলকে শিলিগুড়িতে আরও কয়েকদিন রেখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। অর্থাৎ দার্জিলিং, কালিম্পং এবং জলপাইগুড়ি নিয়ে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদল বার বার অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। তাঁদের রিপোর্ট-এর ভিত্তিতেই এই তিন জেলা রেড জোনে এসেছে বলে মনে করা হচ্ছে।