উত্তরবঙ্গ ভুলেছে একমাত্র সোনাজয়ী অলিম্পিয়ানকে

72

ভাস্কর সাহা, শিলিগুড়ি : ১৯৮০ সালের মস্কো অলিম্পিকে ভারত শেষবার হকিতে সোনা জিতেছিল। সোনাজয়ী দলের গোলকিপার কালিম্পংয়ের মানুষ। শিলিগুড়ির চম্পাসারিতে ফ্ল্যাটও রয়েছে তাঁর।  সেই বীরবাহাদুর ছেত্রীকে যেন ভুলেই গিয়েছে শিলিগুড়ি এবং উত্তরবঙ্গ। রাজ্য সরকারের খেলায় শ্রেষ্ঠ পুরস্কার জীবনকৃতী পুরস্কার পেলেন বীরবাহাদুর। কলকাতায় সোমবার যে মঞ্চে মান্তু ঘোষ, ভারতী ঘোষদের পুরস্কার দেওয়া হল, সেখানে শুধু বীরবাহাদুরকেই পুরস্কার তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে। অথচ তিনি তাঁর ঘরেই অবহেলিত। মান্তুরা শিলিগুড়ি ফেরার পরই মঙ্গলবার তাঁদের তিনজনকে সংবর্ধনা দেয় শিলিগুড়ির পাঁচটি সংগঠন। সেখানেও উপেক্ষিত উত্তরবঙ্গের একমাত্র অলিম্পিক সোনাজয়ী বীরবাহাদুর। শিলিগুড়ির অধিকাংশ কর্তারাই জানেন না, তাঁর ফোন নম্বর। তিনি যে এই শহরেই ফ্ল্যাট কিনে থাকেন, সেটাও খেলার কর্তাদের অজানা।

উত্তরবঙ্গের তাঁর প্রতি অবহেলা নিয়ে কী বলছেন বীরবাহাদুর নিজে? বর্তমানে কলকাতার জোকার ডায়মন্ড পার্কে থাকলেও নিয়মিত শিলিগুড়িতে যাতায়াত রয়েছে বীরবাহাদুরের। এখন তিনি কলকাতায়। শিলিগুড়ির ফ্ল্যাট বন্ধ। ফোনে বীরবাহাদুর বললেন, ৪০ বছর আগে অলিম্পিকে সোনা জিতে ফেরার পর শিলিগুড়িতে নেমে কোনও অ্যাসোসিয়েশনের কর্তাদের দেখিনি। কখনও কেউ যোগাযোগও করেননি। এখনও কেউ যোগাযোগ করেন না। খারাপ লাগে, তবে এখন আর সেসব নিয়ে আক্ষেপ করি না।

- Advertisement -

তাঁর আরও সংযোজন, আমি যেসময় অলিম্পিকে সোনা জিতেছি, তখন হকির কোনও প্রচারই ছিল না উত্তরবঙ্গে। হকির পরিকাঠামো তখনও খারাপ ছিল, এখনও রয়েছে। তখন অলিম্পিকে সোনা জয়ের গুরুত্ব কী, সেটা লোকজন বুঝতেই পারেনি। তাই কেউ আমার সঙ্গে যোগাযোগও করেননি। সম্মান, পুরস্কার-এসবের জন্য তো কখনও খেলিনি। হকিকে ভালোবাসতাম। তাই খেলতাম। সোনা জয়ে মুহূর্ত পরিবারের সঙ্গে নিজের মতো করে সেলিব্রেট করেছিলাম।

২০১৬ সালে বাংলার গৌরব হয়েছিলেন বীরবাহাদুর। কিন্তু সেবারও উত্তরবঙ্গে উপেক্ষিত থেকে যান তিনি। মঙ্গলবার দ্বিতীয়বার রাজ্য সরকারের তরফে পুরস্কৃত হওয়ার পর বীরবাহাদুর বলেছেন, রাজ্য সরকার যে আমাকে মনে রেখেছে তাতে আমি খুশি। রোজ রোজ তো এরকম সম্মান পাওয়া যায় না। মুখ্যমন্ত্রী খেলাধুলার স্বার্থে খুব ভালো কাজ করছেন। প্রাক্তন খেলোয়াড়দের সম্মান জানাচ্ছেন। এসব দেখে ভালো লাগছে।

মান্তুদের সংবর্ধনায় ভরিয়ে দিলেও বীরবাহাদুরের খোঁজ যে পাননি তা স্বীকার করে নিয়েছেন মহকুমা ক্রীড়া পরিষদের সচিব কুন্তল গোস্বামী, শিলিগুড়ি জেলা টেবিল টেনিস সংস্থার সচিব অনুপ বসুরা। তাঁদের কথায়, আমরা বীরবাহাদুরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারিনি। ওঁর ফোন নম্বরটাই পাচ্ছি না। ওঁর শিলিগুড়িতে এখন যাতায়াত আছে কি না, সেটাও ট্র‌্যাক করতে পারছি না। পারলে ওঁকেও একই মঞ্চে সংবর্ধনা দিতাম। নম্বর জোগাড় করে আগামীদিনে আমরা ওঁর কাছেও পৌঁছে যাব।