ক্যাগ-এর অডিটে প্রশ্নের মুখে উঃবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়

304

শুভঙ্কর চক্রবর্তী, শিলিগুড়ি : ক্যাগ-এর পারফরমেন্স অডিটে একাধিক প্রশ্নের মুখে উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয় আধিকারিকদের একাংশ মনে করছেন, ক্যাগ-এর তোলা প্রশ্নে ন্যাক-এর মূল্যায়নেও প্রভাব পড়তে পারে। ফলে শীর্ষ অডিট সংস্থার প্রশ্নের মুখে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিপাকে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে খবর, ২০১৪-১৫ থেকে ২০১৮-১৯ সালের বিশ্ববিদ্যালয়ের পারফরমেন্স অডিট সম্প্রতি শেষ হয়েছে। ওই রিপোর্টে ক্যাগ কলা ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগের গবেষণার নানা দুর্বলতার কথা বলেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাক্তনী সংঘের কাজকর্ম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। যেসব বিষয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে সেই বিষয়গুলির ক্ষেত্রে কী পদক্ষেপ করা হয়েছে তা জানতে চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠিও পাঠানো হয়েছে। প্রাক্তনী সংঘকে সক্রিয় করতে কী পদক্ষেপ করা হয়েছে তাও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ডঃ দিলীপকুমার সরকার বলেন, পারফরমেন্স নিয়ে ক্যাগ যেসব বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছে আমরা সেগুলির উত্তর  ইতিমধ্যেই পাঠিয়ে দিয়েছি। প্রাক্তনী সংঘ একটি স্বশাসিত সংগঠন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ওই সংগঠনের কাজকর্মে হস্তক্ষেপ করার কোনও এক্তিয়ার নেই। সংগঠনের পক্ষ থেকে যদি বিশ্ববিদ্যালয়ে কাছে কোনও সহযোগিতা বা পরামর্শ চাওয়া হয় তবেই আমরা সেই অনুসারে তাদের সাহায্য করতে পারি। সংগঠনের পক্ষ থেকে যখন যেভাবে আমাদের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে আমরা সেভাবেই তাদের সাহায্য করেছি। এই বিষয়গুলিকে ক্যাগকে চিঠি দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন চাকরিমুখী কোর্স চালু থাকলেও দীর্ঘদিন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্লেসমেন্ট সেল বন্ধ হয়ে পড়ে রয়েছে। কলা ভবনে একটি বোর্ড ঝোলানো থাকলেও বাস্তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্লেসমেন্ট সেলের কোনও অফিস নেই বলেই অভিযোগ। কেন এই পরিস্থিতি, কেন বছরের পর বছর ধরে প্লেসমেন্ট সেল নিষ্ক্রিয় তা নিয়ে ক্যাগ প্রশ্ন তুলেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে পক্ষ থেকে একজন প্লেসমেন্ট অফিসার রাখা হলেও তিনি কী কাজ করছেন তাও ক্যাগ-এর আধিকারিকরা জানতে চেয়েছেন। গবেষণার ক্ষেত্রে বিজ্ঞান বিভাগ অনেকটাই এগিয়ে থাকলেও কেন সমাজবিজ্ঞান ও কলা বিভাগ পিছনের সারিতে তা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। ঠিক কী কী সমস্যার জন্য ওই দুই বিভাগ পিছিয়ে রয়েছে তা জানতে চাওয়া হয়েছে। সমস্যা খুঁজে বের করে বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে আদৌ কোনও পদক্ষেপ করা হয়েছে কি না ক্যাগ সেই প্রশ্নও তুলেছে। সূত্রের খবর, আরও বেশ কয়েকটি বিভাগ নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। একের পর এক প্রশ্নের মুখে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে আধিকারিকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। ন্যাক-এর মূল্যায়নে প্রাপ্ত গ্রেডের ওপর নির্ভর করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলি বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকারি অনুদান পায়। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) অনুদান দেওয়ার ক্ষেত্রেও ন্যাক-এর মূল্যায়নকেই প্রাধান্য দিয়ে থাকে। ক্যাগ-এর পারফরমেন্স অডিট রিপোর্টকে ন্যাক কর্তৃপক্ষ যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে বলে বিশ্ববিদ্যালয়ে একাধিক আধিকারিক জানিয়েছেন। তাই ন্যাক-এর মূল্যায়নে ভালো গ্রেড পাওয়ার ক্ষেত্রে ক্যাগ-এর পারফরমেন্স রিপোর্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রাক্তনী সংঘের পারফরমেন্সের ওপর ভিত্তি করেও ন্যাক নম্বর দিয়ে থাকে। ফলে ন্যাক-এর মূল্যায়নে ভালো ফল পেতে হলে নিশ্চিতভাবেই যে কোনও বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজের প্রাক্তনী সংঘের সক্রিয়তা অত্যন্ত জরুরি।

- Advertisement -

অন্যদিকে, ক্যাগ প্রশ্ন তোলার পরই প্রাক্তনী সংঘের অভ্যন্তরেও নানা প্রশ্ন উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে খবর, ২০০১ সালে উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় প্রাক্তনী সংঘ তৈরি হয়। তখন থেকেই টানা প্রায় ২০ বছর ধরে সংগঠনের সম্পাদক, সভাপতি ও কোষাধ্যক্ষ পদে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাক্তন রেজিস্ট্রার তাপসকুমার চট্টোপাধ্যায়, প্রাক্তন অধ্যাপক সিতাংশুশেখর করঞ্জাই ও প্রাক্তন কর্মী ফজলুর রহমান রয়েছেন। কেন এতদিন ধরে সুনির্দিষ্ট তিনজনই সংগঠনের শীর্ষপদে রয়েছেন তা নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ না খুললেও প্রাক্তনী সংঘের অনেকেই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন। এদিকে, কারা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাক্তনী সেই প্রশ্ন নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। তাঁদের নিয়ম অনুসারে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যাঁরা স্নাতকোত্তর ও তার পরবর্তী উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেছেন শুধুমাত্র তাঁরাই প্রাক্তনী হিসাবে বিবেচিত হবেন বলে ফজলুর রহমান জানিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন বিভিন্ন কলেজ থেকে স্নাতকস্তরে যাঁরা পড়াশোনা শেষ করেছেন কেন তাঁরা প্রাক্তনী সংঘের সদস্য হবেন না সেই প্রশ্নও উঠেছে। তাপসবাবু বলেন, পারফরমেন্স অডিটের ব্যাপারে কিছু জানা নেই। আমরা সারাবছর ধরে বিভিন্ন কাজকর্ম করছি। বহু সেমিনার করা হয়েছে। তবে আমাদের খানিকটা দুর্বলতা আছে। ভোটাভুটির মাধ্যমেই আমরা দীর্ঘদিন থেকে নির্বাচিত হয়ে আসছি। যেসব প্রশ্ন তোলা হয়েছে তার কোনও ভিত্তি নেই।