বন্যা বিপর্যয় রুখতে তৈরি উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেল

241

তপন কুমার বিশ্বাস, ইসলামপুর: এবার বর্ষায় যে কোনও বিপর্যয়ের মোকাবিলা করতে তৈরি উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেল। প্রায় তিন বছর আগে প্রবল বৃষ্টিতে সুধানীর কাছে অঝরেলে রেলের ব্রিজ ভেঙে যাওয়ায় দীর্ঘ চার মাস ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়েছিল। রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হন। প্রচুর আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয় রেল। তাই এই বছর বর্ষার মোকাবিলায় আগেভাগেই বিশেষ প্রস্তুতি সেরে রাখার কথা জানিয়েছে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেল।

উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক সুহানন চন্দ জানান, প্রাক বর্ষার প্রস্তুতি হিসাবে সেতুসমূহের জলের বিপদসীমা চিহ্নিতকরণ করা হয়েছে। এছাড়া রেল লাইনের নিরাপত্তার স্বার্থে প্রহরীদল গঠন করা হয়েছে। প্রত্যেক দলে দু’জন ২৪ ঘন্টা লাইন প্রহরার কাজ করছেন। প্রহরার কাজ চলবে অক্টোবর মাস পর্যন্ত।

- Advertisement -

রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, বন্যা ও ধসপ্রবণ এলাকাগুলিকে আলাদা করে চিহ্নিত করে সেখানে বিশেষ নজরদারি চালানো হবে। রাতে এবং বিশেষত বৃষ্টির পরে কোথায় কীভাবে জলস্তর বাড়ছে, তা লক্ষ্য রাখতে বিশেষ দলও তৈরি করেছে রেল। দিনরাত ওই দল নজরদারি চালাবে। পাশপাশি কোথাও অস্বাভাবিক কিছু দেখলেই তা রেলের কন্ট্রোল রুমকে জানাবে। সেইসঙ্গে যে কোনও সময় বর্ষার জলে বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে ছোট খাল বা নদী। সেখানে বিপদসীমা চিহ্নিত করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি রেলওয়ে ট্র্যাক এবং ছোট ব্রিজগুলির নিকটবর্তী বোল্ডার মজুত করে রাখার কথাও জানানো হয়েছে। তবে এরপরও কোনও রকম অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে শতাধিক স্থানে রোল্ড স্টিল জয়েস্ট (আরএসজে) তৈরি রাখছে রেল কর্তৃপক্ষ। যাতে প্রয়োজনের সময় দ্রুত সেতু তৈরি করা যায়। প্রচুর অতিরিক্ত সামগ্রী মজুত করে রাখা হয়েছে।

পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে গত কয়েক মাস ধরে রেলের প্রত্যেকটি জোন এবং ডিভিশনকে আলাদা করে আবহাওয়ার পূর্বাভাস জানানোর ব্যবস্থা করেছে দিল্লির মৌসম ভবন। ওই তথ্য নিয়মিত আধিকারিকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।

উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেল কর্তৃপক্ষ সূত্রে খবর, এই সমস্ত তথ্যের হিসেব কষেই লামডিং ডিভিশনে বিশেষ কিছু জায়গাকে আলাদা করে বিপজ্জনক বলে চিহ্নিত করে নজরদারি চালানো হচ্ছে।ওই এলাকায় এরকম বিপজ্জনক জায়গায় স্টেশনারি ওয়াচম্যান দিয়ে নজরদারি চালানো হচ্ছে। রেলের ওই ডিভিশন সূত্রে খবর, বন্যার জলে ব্রিজের স্তম্ভ ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেখানে বিশেষ স্টিলের কাঠামো তৈরি করে রাখা হচ্ছে। ইস্পাতের সেই কাঠামো একটি স্তম্ভের চারপাশে লাগিয়ে তার ভার বহন ক্ষমতা বাড়ানো হবে। একইভাবে পূর্ব রেলের মালদা এবং উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের কাটিহার ডিভিশনেও সমন্বয় রেখে কাজ করবে বলে খবর। তেলতা সংলগ্ন অঝরেল ব্রিজসহ একাধিক ব্রিজকে ওই নজরদারির আওতায় রাখা হচ্ছে।

উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের মুখ্যজনসংযোগ আধিকারিক সুহানন চন্দ আরও বলেন, ‘বর্ষার মরশুমে ভূমিধস, বাঁধ ভেঙে যাওয়া এবং সেতুসমূহ বন্যার জলে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনাগুলির মোকাবিলা করাটা রেলের কাছে রীতিমতো বিরাট চ্যালেঞ্জ। আমাদের অধীন প্রায় ৬,৪০০ কিলোমিটার রেলপথ সুরক্ষিত রাখতে আমরা তৈরি। আমাদের মুখ্য উদ্দেশ্য যাত্রীদের নিরাপত্তা সুরক্ষিত করা। নিরাপত্তার স্বার্থে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের পাঁচটি ডিভিশনের সঙ্গে প্রধান কার্যালয় সমন্বয় রেখে কাজ করে আসছে।’