উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়ে মতপার্থক্য তীব্র

649

শিলিগুড়ি : সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশ মেনে কোন পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেওয়া হবে তা নিয়ে তীব্র মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে। সূত্রের খবর, মতানৈক্যের জেরে পরীক্ষা ব্যবস্থাপনা থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন কয়েকজন আধিকারিক। যদিও বিষয়টি নিয়ে কেউই প্রকাশ্যে মুখ খুলতে চাইছেন না। বিশ্ববিদ্যালয়ে রেজিস্ট্রার ডঃ দিলীপকুমার সরকার বলেন, আলোচনা হচ্ছে। বিস্তারিত পরীক্ষা নিয়ামক বলতে পারবেন। পরীক্ষা নিয়ামক দেবাশিস দত্ত বলেন, কোন পদ্ধতিতে পরীক্ষা হবে সেটা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। আলোচনা হচ্ছে। আরও কয়েকটি বৈঠক হবে। তবে কোনও পরীক্ষার্থী কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসবেন না। অনলাইন ব্যবস্থাপনাকে ব্যবহার করেই পরীক্ষা হবে। উত্তরপত্র অনলাইন না অফলাইন কীভাবে জমা হবে সেটা আলোচনা করে ঠিক হবে।  বিশ্ববিদ্যালয়ে আধিকারিকদের একাংশের অভিযোগ, পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিক প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। আলোচনা ছাড়াই সেইসব প্রস্তাব খারিজ করে কলকাতা থেকে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। আর সেই সিদ্ধান্তে সিলমোহর দিতেই লোকদেখানো আলোচনা হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে খবর, সোমবারের ভার্চুয়াল বৈঠক থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, পরীক্ষার দিন নির্দিষ্ট সময়ে আগেই বিশ্ববিদ্যালয়ে ওয়েসাইটে প্রশ্নপত্র আপলোড করে দেওয়া হবে। ছাত্রছাত্রীরা বাড়িতে বসেই উত্তর লিখবেন। পরীক্ষার্থীর অভিভাবকরা কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উত্তরপত্র নিয়ে যাবেন এবং লেখা শেষ হলে তাঁরাই উত্তরপত্র এনে জমা দেবেন। মোটামুটিভাবে এই ব্যবস্থা মেনেই পরীক্ষা হবে। তবে পরীক্ষার্থীদের অনলাইনে উত্তরপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে কি না সেটা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক আধিকারিকই এটা মানতে পারছেন না। যেভাবে পরীক্ষার পরিকল্পনা করা হয়েছে তার বিরুদ্ধে একাধিক যুক্তি দিয়েছেন তাঁরা। তাঁদের বক্তব্য, গ্রামের বহু পরীক্ষার্থীর কাছে অ্যানড্রয়েড ফোন নেই। নেই ইন্টারনেট পরিষেবাও। সেক্ষেত্রে তাঁরা হয়রানির শিকার হবেন। অভিভাবকদের উত্তরপত্র নেওয়া ও জমা দেওয়ার জন্য দুবার করে কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসতে হবে। যান চলাচল এখনও স্বাভাবিক হয়নি। এই পরিস্থিতিতে একই দিনে দুবার কলেজে আসা কতটা বাস্তবসম্মত তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। অনলাইনে উত্তরপত্র আপলোড করলেও সেগুলি ডাউনলোড করে স্ক্রুটিনি করা, খাতা দেখা সহ পদ্ধতিগত সব কাজ শেষ করে ৩১ অক্টোবরের মধ্যে ফলপ্রকাশ সম্ভব নয় বলেই মত বেশিরভাগ অধ্যাপকদের।

- Advertisement -

সংক্রমণ রোখার জন্য পরীক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে আসতে নিষেধ করা হলেও অভিভাবকদের উত্তরপত্র তোলা, জমা দেওয়ার নিদানে ভিড় এড়ানো বাস্তবে কোনওভাবেই সম্ভব হবে না। ফলে অভিভাবকদের মাধ্যমে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে সহজেই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে বলেই মত বিশ্ববিদ্যালয়ে আধিকারিকদের একাংশের। এছাড়া আরও এক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছেন এক আধিকারিক। তিনি বলেন, যে ব্যবস্থাপনায় পরীক্ষা নেওয়ার কথা বলা হচ্ছে, বাস্তবে সেটার বৈধতা নেই। প্রতিটি ক্ষেত্রেই পরীক্ষার গোপনীয়তা নষ্ট হবে। ওই পদ্ধতিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে যদি কেউ আইনি পদক্ষেপ নেন বা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে অভিযোগ জানান, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় বিপাকে পড়বে।  তাই আধিকারিকদের অনেকেই এই পদ্ধতির সঙ্গে নিজেদের যুক্ত করতে চাইছেন না। আন্ডার গ্র‌্যাজুয়েট কাউন্সিলের সচিব নূপুর দাস বলেন, পরীক্ষা নিয়ে যা বলার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষই বলবে। তবে এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি উপাচার্য সুবীরেশ ভট্টাচার্য।