হাতের নাগালে উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যভাণ্ডার

109

শুভঙ্কর চক্রবর্তী, শিলিগুড়ি : সর্বসাধারণের জন্য খুলে গেল উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে তথ্যভাণ্ডার। বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্ত গবেষণাপত্র থেকে বিভাগীয় জার্নাল, ১৯৬৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম বার্ষিক সমাবর্তনে তৎকালীন আচার্য পদ্মজা নাইডুর বক্তৃতার ক্লিপিং থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মসমিতি ও কোর্টের সমস্ত সিদ্ধান্ত, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে থাকা প্রায় ৩ লক্ষ বইয়ের যাবতীয় তথ্য এবার থেকে মাউসের এক ক্লিকেই পেয়ে যেতে পারেন যে কেউ। পড়ুয়া, গবেষক বা তথ্যানুসন্ধানী যে কোনও ব্যক্তি খুব সহজে প্রয়োজনীয় পুস্তক বা নথি ঘরে বসেই সংগ্রহ করতে পারবেন।

লকডাউনের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মী-আধিকারিকরাই অত্যাধুনিক ব্যবস্থাপনাকে কাজে লাগিয়ে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ওয়েবসাইটকে নতুনভাবে সাজিয়ে যাবতীয় তথ্য সেখানে আপলোড করা হয়েছে। চলতি মাস থেকেই প্রতিটি সুবিধা ভোগ করতে পারবেন পড়ুয়া, গবেষকরা। শিক্ষা দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে রাজ্যে বিদ্যাসাগর ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া অন্য কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ে এই ব্যবস্থাপনা চালু নেই। উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে নতুন পদক্ষেপ উত্তরবঙ্গের পড়ুয়া, গবেষকদের অত্যন্ত সহায়ক হবে বলেই মনে করছে শিক্ষামহল।

- Advertisement -

বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে কয়েক বছর আগেই একটি আর্কাইভ চালু করা হয়েছিল। তবে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সেটি কার্যত অকেজো অবস্থাতেই পড়েছিল। সেই আর্কাইভের যাবতীয় তথ্য এখন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ওয়েবসাইটেই পাওয়া যাবে। ১৯৬৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয় চালুর পর থেকে এখনও পর্যন্ত বিভিন্ন বিভাগে ১৯০০টির বেশি বিষয় নিয়ে গবেষণা হয়েছে। প্রতিটি গবেষণাপত্র যেভাবে গৃহীত হয়েছে ঠিক সেভাবেই ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে। ইচ্ছে অনুসারে যে কেউ সেই গবেষণাপত্র ডাউনলোড করেও নিতে পারবেন। ওয়েবসাইটে ৩২টি ই-জার্নাল রয়েছে। সেই জার্নালগুলিতে লক্ষ লক্ষ বই আছে। রিমোট অ্যাক্সেস ব্যবস্থাপনায় ইউজার নেম ও পাসওয়ার্ড দিয়ে ছাত্রছাত্রী বা গবেষকরা ঘরে বসেই সেগুলি ব্যবহার ও সংগ্রহ করতে পারবেন। যে কোনও ছাত্রছাত্রী বা গবেষক কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করলেই ইউজার নেম ও পাসওয়ার্ড পেয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের আধিকারিকরা।

সূত্রের খবর, গ্রন্থাগারে ৬৫০টি এমন দুষ্প্রাপ্য বই রয়েছে, যেগুলির ক্ষেত্রে কপিরাইট সংক্রান্ত সমস্যা নেই। সেই বইগুলি ডিজিটাল পদ্ধতির সাহায্যে সংরক্ষণ করে সকলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিটি বিভাগেরই নিজস্ব জার্নাল আছে। বিভাগীয় যাবতীয় প্রকাশনা ও কাজকর্ম সেখানে নথিভুক্ত হয়। সেই জার্নালগুলিও এখন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ওয়েবসাইটে গিয়ে যে কেউ সংগ্রহ করতে পারবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া ও গবেষকদের অনেক আগেই বারকোডযুক্ত ডিজিটাল কার্ড ইস্যু করেছিল গ্রন্থাগার কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি, গ্রন্থাগারে থাকা প্রায় ৩ লক্ষ বইতে বারকোড লাগানো হয়েছিল। এখন থেকে ঘরে বসেই পড়ুয়ারা জানতে পারবেন তাঁদের যে বইটি প্রয়োজন সেটা গ্রন্থাগারে আছে কি না বা কাউকে সেই বইটি ইস্যু করা হয়েছে কি না। ঘরে বসেই তাঁরা প্রয়োজনীয় বইটি বুকিং করতে পারবেন। ফলে গ্রন্থাগারে গিয়ে হয়রানির শিকার হতে হবে না কাউকেই।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ইনফরমেশন সায়েন্টিস্ট মানস এস বলেন, কিছু কাজ এখনও বাকি আছে। সেগুলি পদ্ধতি মেনে ওয়েবসাইটে যুক্ত করা হচ্ছে। বিভিন্ন সালের বিভাগীয় প্রশ্নপত্রগুলিও আমরা ধীরে ধীরে আপলোড করব। গবেষক অনুস্মিতা ভট্টাচার্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যেভাবে সমস্ত তথ্য আমাদের নাগালে এনে দিয়েছে তাতে অনেক জটিলতা দূর হয়ে গিয়েছে। বহু সমস্যার সমাধান হয়ে গিয়েছে। কম্পিউটার আর প্রিন্টারের সাহায্যে ঘরে বসেই অনেক কিছু আমরা হাতে পেয়ে যাচ্ছি। কর্তৃপক্ষকে অসংখ্য ধন্যবাদ।