বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের চণ্ডীপাঠ শুনতে রেডিয়ো আঁকড়ে বিশ্বনাথবাবুরা

দিলীপকুমার তালুকদার, বুনিয়াদপুর : মাঝে মাত্র আর একটা রাত। শনিবার ভোর থেকেই শুরু হচ্ছে মাতৃপক্ষ। এদিন সকালটা শুরু হয় চণ্ডীপাঠের মধ্য দিয়ে একটা সময় ছিল যখন কাকভোরে উঠে বাড়ির বড়োদের সঙ্গে বসে রেডিয়োতে প্রবাদপ্রতীম বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠে চণ্ডীপাঠ শোনার রেওয়াজ। কিন্তু ইনটারনেট, টেলিভিশনের দাপটে হাল আমলের প্রজন্ম ভুলতে বসেছে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রকে। কিন্তু এখনও কিছু মানুষ আছেন, যাঁরা সারাটা বছর এই দিনের জন্য অপেক্ষা করে থাকেন। বাড়িতে সযত্নে তুলে রাখা রেডিয়ো পরিষ্কার, পরিচ্ছন্ন করেন। লক্ষ্য একটাই, মাতৃপক্ষের শুরুতে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠে মহালয়া শোনা। এমনই এক বয়ঃবৃদ্ধ বুনিয়াদপুরের ধূমপাড়ার বাসিন্দা বিশ্বনাথ চ্যাটার্জি।

বিশ্বনাথবাবুকে প্রশ্ন করতেই উঠে এল অতীতের স্মৃতি। তাঁর কথায়, যতই টিভির বিভিন্ন চ্যানেলে মহালয়ার অনুষ্ঠান হোক না কেন, আকাশবাণী কলকাতা থেকে প্রচারিত মহালয়ার অনুষ্ঠানের ধারে-কাছে যেতে পারে না। আহা, বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠে উচ্চারিত চণ্ডীপাঠ কি ভোলা যায়! রেডিয়োতে মহালয়ার অনুষ্ঠান শোনার মজাই আলাদা। সারাবছর রেডিয়ো বস্তাবন্দি হয়ে থাকলেও প্রতি বছর মহালয়ার আগে রেডিয়ো সচল করা চাই-ই চাই। আমার মতো অনেকেই রেডিয়োতে মহালয়ার অনুষ্ঠান বিশেষত বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের চণ্ডীপাঠ শুনতে রেডিয়োকেই আঁকড়ে ধরবেন, তা বলাই বাহুল্য। প্রয়াত বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র ও মহালয়া তার সুললিত কণ্ঠ মিশ্রিত চণ্ডীপাঠের গুনে একাকার হয়ে গেছে। এই একটা দিন পূণ্য মহালয়ার ভোরে রেডিয়োতে মহালয়ার অনুষ্ঠান শুনতে অনেকেই এখনও রেডিয়োকে আঁকড়ে ধরে রাখেন।

- Advertisement -

আর এক বয়ঃবৃদ্ধ আশিস তালুকদার বলেন, টেলিভিশনের পর্দায় যতই আধুনিক মহালয়া হোক না কেন বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠে চণ্ডীপাঠ শোনার আবেগটাই আলাদা। তাই মহালয়ার আগেই রেডিয়ো ঝেড়েমুছে পরিষ্কার করে রাখি। বাজার থেকে কিনে আনি ব্যাটারি। বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠে মহালয়া না শুনলে জীবনটাই বৃথা। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই এই অভ্যাস থাকবে আমার। বুনিয়াদপুর শহরের রেডিয়ো সারানো মিস্ত্রি গোপাল দাস। এখনও তাঁর দোকানে এই সময়টাই অনেকেই রেডিয়ো সারাতে নিয়ে আসেন। গোপালবাবুর কথায়, আগে রেডিয়ো নিতে পারতাম না। আর এখন এই সময়টা দুএকজন রেডিয়ো সারাতে নিয়ে আসেন। তবে যাই হোক না কেন এখনও বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠে চণ্ডীপাঠের গুরুত্ব একেবারেই আলাদা।