দশ বছরে একটাও বন্ধ কারখানা খোলেনি, দু’দিন ১১০ পুজোর উদ্বোধন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী: দেবশ্রী চৌধুরী

0
505
- Advertisement -

রায়গঞ্জ: দুঃস্থদের মধ্যে বস্ত্রবিলি করতে এসে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেসকে করা ভাষায় আক্রামণ করলেন রায়গঞ্জের সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় শিশু ও নারী কল্যাণ দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী দেবশ্রী চৌধুরী। রবিবার তিনি বলেন, গত দশ বছরে বন্ধ কলকারখানা খোলার জন্য মুখ্যমন্ত্রী একটাও ফিতে না কাটলেও করোনা কালে  গত দু’দিনে ১১০টি ফিতে কেটে পুজোর উদ্বোধন করেছেন।

দেবশ্রীর আরও অভিযোগ, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী প্রায় বলে থাকেন অভাব চলছে। অথচ সেই দেউলিয়া সরকার ক্লাবগুলিকে ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। এমনকী, ঠিক কী কারনে ক্লাব গুলিকে টাকা দেওযা হল সে বিষয়টিও স্পষ্ট করেন নি।  ভোটের আগে এভাবে দানছত্র খুবই নিকৃষ্ট রাজনৈতিক খেলা। পশ্চিমবঙ্গকে আরও দেউলিয়ার পথে নিয়ে যাওয়া।

আগামী দিনে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বর্তমান রাজ্য সরকারকে ক্ষমা করবেন না। কারণ, তৃণমূল সরকার নিজের ভোটব্যাঙ্ক তৈরির জন্য মমতা লুঠপাট, খেলা,মেলা করে ইতিহাসকে কলঙ্কিত করছেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ঋণের ভারে জর্জরিত করছেন। দেবশ্রী দেবী বলেন, পশ্চিমবঙ্গের আইনশৃঙ্খলা বলে কিছু নেই। প্রতিদিন বিজেপির কার্যকর্তাদের খুন করা হচ্ছে। বিরোধী কোনো মুখ উঠে আসলেই তার উপর পুলিশি নির্যাতন বেড়ে যায়। তাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়া হয়।

উত্তর দিনাজপুরের ইটাহারের অনুপ ও পাশকুড়ায় একজনকে পুলিশি লকআপে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে। গত ৮ অক্টোবর নবান্ন অভিযানে পুলিশ দমনপীড়ন চালিয়েছে। কোনো গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় এই ধরনের দমনপীড়ন চলে না বলেও তিনি জানান। তিনি বলেন, শাসকদল থেকে কেউ বিজেপি বা অন্য কোনো বিরোধী দলে যোগ দিলে তাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে পুলিশি লকআপে ভরে দেওয়া হচ্ছে। যাকে খুশি তাকে তুলে নিচ্ছে। সাধারণ মানুষ বলছে এই অবস্থা চললে শান্তিপূর্ণ ভাবে ভোট সম্ভব নয়। কেউ ভোট দিতে পারবে না। তাই আমরা একটা কথা বলতে চাই, কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষণের অধীনে রেখে কেন্দ্রীয় প্রশাসক নিয়োগ করে যে কোনো ভাবে পশ্চিমবঙ্গের নিরাপত্তাকে সুরক্ষিত করে জনগণকে ভোট দিতে হবে। তবে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষণ মানে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি নয়। তবে পশ্চিমবঙ্গের সাড়ে নয় কোটি মানুষের সুরক্ষিত হওয়ার সময় এসেছে।

একই সঙ্গে বলেন, নির্বাচন কমিশন গোটা ভারতবর্ষের নির্বাচন পরিচালনা করে। পশ্চিমবঙ্গ যে একটি ব্যাতিক্রমী রাজ্য তা আমরা নির্বাচন কমিশনকে বোঝাতে অক্ষম হয়েছি। তবে আশাকরি, গত ২০১৯ লোকসভা নির্বাচন ও বিধানসভা উপনির্বাচন নিয়ে নির্বাচন কমিশনের উপলব্ধি হয়েছে। তারা বুঝতে পেরেছে। এখানে শুধু কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে নিরপেক্ষ ভোট করা যায় না। তার উপরে অনেক কিছু হয়। লোকসভা ও বিধানসভা উপনির্বাচনে নির্বাচনে গুলি বোমা চলেছে,ছাপ্পা হয়েছে।

যদিও জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব মন্ত্রীর অভিযোগকে গুরুত্ব দিতে চাননি। তাদের দাবি,কেন্দ্রীয় বাহিনী বুথে বুথে রাখলেও আবার তৃণমূল ক্ষমতায় আসবে। তৃণমূল কংগ্রেসের রায়গঞ্জ বিধানসভার কো-অর্ডিনেটর অরিন্দম সরকার বলেন, বিজেপি বাংলার মানুষের সুখে দু:খে নেই। তাদের উদ্দেশ্য পিছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতা দখল। তাই তারা রাষ্ট্রপতি শাসন জারির কথা বলছেন। মিলিটারি নামিয়ে ভোট করলেও আবার তৃণমূল আসবে। রাজ্যের আইন শৃঙ্খলা বিজেপি শাসিত রাজ্যের চেয়ে শতগুনে ভালো। তাই এই সমস্ত মিথ্যা অপবাদ দিয়ে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করার চেষ্টা করলে মানুষ মেনে নেবে না। পাশাপাশি পুজো নিয়ে যে অভিযোগ বিজেপি করছে তাও ভিত্তিহীন। কারণ, করোনা আবহে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের চাঁদার হাত থেকে রেহাই দিতেই মুখ্যমন্ত্রী ক্লাব গুলিকে অনুদান দিয়েছেন।

- Advertisement -