কৃষি জমিই শুধু নয়, নদীগ্রাসে চা বাগানও, মাথায় হাত মালিকদের

318

জামালদহ: সম্প্রতি অতি বর্ষণের জেরে কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ ব্লকের জামালদহ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় ব্যাপক হারে সুটুঙ্গা নদীর ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে বিঘার পর বিঘা কৃষিজমি সহ এবার চা বাগানের একাংশও নদীর গর্ভে চলে গিয়েছে। শুধু তাই নয়, ভাঙন ক্রমশ ভয়াল আকার ধারণ করে বসতি এলাকার দিকে ধেয়ে আসছে। ফলে আতঙ্কে রাতের ঘুম উবে গিয়েছে শিকারপুর, মোকরারি, জামালদহ সহ নানা এলাকার কৃষকদের।

যতই বৃষ্টি হচ্ছে, নদী ক্রমশ গতিপথ পরিবর্তন করে ওইসব এলাকায় কৃষিজমি গ্রাস করছে বলে স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছেন। কৃষকদের পাশাপাশি সম্প্রতি নদী ভাঙ্গন চা বাগানের মালিকদের কপালেও ব্যাপক চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। ইতিমধ্যে জামালদহ এগ্রো টি প্রজেক্টের ‘এ’ ডিভিশনের বহু চা বাগান সুটুঙ্গার গর্ভে চলে গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সরকারি উদ্যোগে খুব শীঘ্রই নদী ভাঙন ঠেকানো না গেলে চা বাগানের মালিক ও কৃষকদের পথে বসতে হবে বলে তাঁরা জানিয়েছেন।

- Advertisement -

জামালদহের সুটুঙ্গা নদী তীরের বাসিন্দা জগদীশ বর্মন, প্রভাত বর্মন, সত্যেন বর্মন প্রমুখেরা বলেন, কৃষি জমি গ্রাস করে বসতবাড়ির দিকে ভাঙ্গন এগিয়ে আসছে। আর কিছুদিন পরে ঘরবাড়ি ভেঙ্গে এলাকার মানুষদের ভিটেছাড়া হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য অগেন বর্মনও জানিয়েছেন, বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়েছে একাধিক বার। আশ্বাসও মিলেছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছু হচ্ছে না।

অন্যদিকে, এলাকার বাসিন্দারা ক্ষোভের সুরে জানিয়েছেন, ভোটের আগে অনেক নেতানেত্রী নদী ভাঙন প্রত্যক্ষ করে ভোটের পর এখানে বাঁধ দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু ভোটের পর তাদের টিঁকিটিরও দেখা নেই। যেভাবে নদী ভাঙন চলছে তাতে এই এলাকার কৃষকরা সর্বহারার মুখে। যে কৃষিজমির ওপর নির্ভর করে কৃষক পরিবারগুলির অন্য সংস্থান সহ যাবতীয় চাহিদা পূরণ হয় সেই কৃষিজমি রক্ষা করতে না পারলে এলাকায় হাহাকার সৃষ্টি হবে। বিষয়টি নিয়ে বারবার প্রশাসনের নজরে এনেও কোনোরূপ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ।

যদিও এ ব্যাপারে সেচ দপ্তরের এক আধিকারিক অবশ্য জানিয়েছেন, মেখলিগঞ্জ ব্লকের কোথায় কোথায় ভাঙন প্রতিরোধের কাজ দ্রুত করা দরকার আছে, সে বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

জামালদহ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান গীতা বর্মন জানিয়েছেন, গ্রাম পঞ্চায়েতের সামর্থ্য নেই এতবড় কাজে উদ্যোগ নেওয়ার।তবে বিষয়টি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে জানানো হবে।