সারা পৃথিবীতেই বিমানবন্দরের নিরাপত্তা সরকারের মাথাব্যথার কারণ। এই মাথাব্যথা বেড়েছে ২০০১ সালে আমেরিকার টুইন টাওয়ারে জঙ্গি হামলার পর থেকে। সবসময় ভয়, এই বুঝি জঙ্গি ঢুকে গেল, এই বুঝি বিস্ফোরক পাচার হয়ে গেল। এই সব ঠেকানোর চেষ্টায় দেশে দেশে হরেক রকমের ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা। অনেক ধরনের গবেষণা। লন্ডনে এক অনুষ্ঠানে এমনই কিছু গবেষণার ফল দেখানো হয়েছে। সেখানে এমন একটি প্যাড দেখানো হয়েছে যা জুতোর মধ্যে লুকিয়ে রাখা বিস্ফোরক চিহ্নিত করতে পারবে। অর্থাৎ, নিরাপত্তা যাচাইয়ের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন, এমন কারোর জুতোয় যদি বিস্ফোরক লুকোনো থাকে, তাহলে ওই প্যাড সহজেই তা চিহ্নিত করতে পারবে। এই প্রদর্শনী ছিল ব্রিটিশ সরকারের ফিউচার এভিয়েশন সিকিওরিটি সলিউশনস কর্মসূচির অঙ্গ। এই শু স্ক্যানারটি তৈরি করেছে স্ক্যানা নামে একটি সংস্থা। যখন যন্ত্রটি দেখবে কারো জুতোর মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যা থাকা উচিত নয়, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে তা নিরাপত্তারক্ষীদের সতর্ক করতে বার্তা দেবে। বিস্ফোরক চিহ্নিত করতে এই স্ক্যানারের কয়েক সেকেন্ড সময় লাগবে। ফলে এই স্ক্যানারটিকে ফুল বডি স্ক্যানারের সঙ্গে সংযোগ করার কথা ভাবা হচ্ছে। এই বছরের মধ্যেই প্রযুক্তিগত পরীক্ষানিরীক্ষা শেষ হয়ে যাবে।
কার্ডিফ বিমানবন্দরে তো কিছুকাল আগে এমন একটি স্ক্যানার নিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা শুরু হয় যা কয়েক যোজন দূরের আলোকেও চিহ্নিত করতে পারবে। প্রকৃতপক্ষে মহাকাশে বিভিন্ন কার্যকলাপের উপর নজরদারির জন্যই অমন একটি যন্ত্র তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। এখন তাকে বিমানবন্দরের নিরাপত্তার কাজে লাগানোর চেষ্টা হচ্ছে। নিরাপত্তার জন্য প্রযুক্তির উপর নির্ভর করা ছাড়া গতি নেই। কারণ আগামী এক দশকে বিমানযাত্রীর সংখ্যা যে কত গুণ বাড়বে তার ইয়ত্তা নেই।