চতুর্থ সিমেস্টারের পরীক্ষার পর তৃতীয়র বিজ্ঞপ্তি

- Advertisement -

প্রকাশ মিশ্র, মালদা : স্নাতকোত্তর স্তরের চতুর্থ সিমেস্টারের পরীক্ষা শেষ। এবার দিতে হবে তৃতীয় সিমেস্টারের পরীক্ষা! এমন আবার হয় নাকি! শুনতে অবাক লাগলেও এমনই বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে মালদা কলেজ। গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের উল্টো পথে হেঁটে স্নাতকোত্তর স্তরের চতুর্থ সিমেস্টারের পরীক্ষা নেওয়ার পরে তৃতীয় সিমেস্টারের পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।

এদিকে, ইউজিসি, সুপ্রিমকোর্ট ও রাজ্য সরকার ৩১ অক্টোবরের মধ্যে ফলাফল ঘোষণার নির্দেশ দিয়েছে। কিন্তু অক্টোবরের পরে তৃতীয় সিমেস্টারের পরীক্ষা হলে এবং সেই পরীক্ষার ফলাফল নভেম্বরে ঘোষিত হলে আদৌ বৈধতা থাকবে কি, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। তবে মালদা কলেজের অধ্যক্ষ মানসকুমার বৈদ্য জানান, আমরা মিস গাইডেড হয়েছি। তৃতীয় ও চতুর্থ সিমেস্টার মিলিয়ে আমরা ফলাফল প্রকাশ করব। ছাত্রছাত্রীদের কোনও অসুবিধা হবে না। মালদা কলেজের প্রশাসক তথা জেলা শাসক রাজর্ষি মিত্রর কোনও প্রতিক্রিয়া অবশ্য পাওয়া যায়নি। এদিকে মালদা কলেজের স্নাতকোত্তর বিভাগ স্বশাসিত হওয়ায় পরীক্ষার ব্যাপারে কোনও দায় নিতে চায়নি গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। গত অগাস্ট মাসে রাজ্য ও ইউজিসির তীব্র টানাপোড়েনের মধ্যেই মালদা কলেজে তৃতীয় সিমেস্টারের পরীক্ষা এমসিকিউ পদ্ধতিতে নেওয়া হয়েছিল।

গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় তাদের হাজার খানেক ছাত্রছাত্রীর স্নাতকোত্তর স্তরের তৃতীয় সিমেস্টারের পরীক্ষা শেষ করে ফলাফল ঘোষণা করেছে। তারপর চতুর্থ সিমেস্টারে ভর্তি করে তবেই পরীক্ষা নিচ্ছে। সেখানে উলটো পথে হাঁটছে মালদা কলেজ। পিজি ফোর্থ সিমেস্টারের পরীক্ষা শেষে নভেম্বরে থার্ড সিমেস্টারের পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। ফলাফলের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে শিক্ষা মহলে। এই পরিস্থিতিতে প্রবল উদ্বেগে রয়েছেন পড়ুয়ারা। শুক্রবার মালদা কলেজের পিজি বিভাগের কন্ট্রোলার নারায়ণচন্দ্র সাও এক বিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন। তাতে বলা হয়েছে, মালদা কলেজের স্নাতকোত্তর বিভাগের দ্বিতীয় ও চতুর্থ পর্যায়ে এবং প্রথম ও তৃতীয় পর্যায়ে (বাংলা, ইংরেজি, ইতিহাস বিভাগ) পরীক্ষা নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে শুরু হবে। বিস্তারিত সূচি পরে দেওয়া হবে। পরীক্ষা অনলাইনে হবে। তৃতীয় পর্যায়ে পাঁচটি পত্রের পরীক্ষার কথা বলা হয়েছে। পূর্ণমান ৪০। ইউজিসি নির্ধারিত সময়ক্রম মেনে পরীক্ষা হবে।

এখানেই আপত্তি পড়ুয়াদের। ছাত্রছাত্রীদের প্রশ্ন, তৃতীয় সিমেস্টারের পরীক্ষা যখন এর আগে নেওয়া হল, তখন ফলাফল ঘোষণা করা হল না কেন? যদিও সেই ফলাফল ঘোষিত হলে তার বৈধতা থাকত না বলে পড়ুয়ারা বলছেন। কেননা ৮০-২০ মোডে মূল্যায়ন পরে বাতিল করেছে ইউজিসি। প্রশ্ন উঠছে, ইউজিসি বাতিল করার পরেও সেই পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেওয়া হল কেন? সেই পরীক্ষা ৮০-২০ মূল্যায়নের ভিত্তিতেই বা নেওয়া হল কেন? আবার তৃতীয় সিমেস্টারের পরীক্ষা দিতে হবে কেন? ছাত্রছাত্রীরা বলছেন, সরকারি নিয়ম মেনে আগে এই পরীক্ষাটা নিয়ে চতুর্থ সিমেস্টারে ভর্তি করে পরীক্ষা নেওয়া উচিত ছিল। ফলে যা হচ্ছে সবই বেআইনি। এই পরীক্ষার কোনও বৈধতা থাকবে না।

মালদা কলেজের অধ্যক্ষ মানসকুমার বৈদ্য বলেন, এর আগে ইউজিসি গাইডলাইন মেনে এই ৮০-২০ কনসেপ্টে এমসিকিউ-এর মাধ্যমে আমরা তৃতীয় সিমেস্টারের পরীক্ষা নিয়েছিলাম। কিন্তু তার ফলাফল প্রকাশিত হয়নি। পরীক্ষার বৈধতা যাতে ঠিক থাকে, তার জন্য তৃতীয় ও চতুর্থ সিমেস্টারের পরীক্ষার মূল্যায়ন মিলিয়ে ফলাফল ঘোষণা করা হবে। তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, ৩১ অক্টোবরের মধ্যে ফলাফল ঘোষণা না হলে তার বৈধতা থাকবে কি? এর উত্তরে অধ্যক্ষ বলেন, আমরা মিস গাইডেড হয়েছি। কোভিড পরিস্থিতিতে সমস্যা হয়েছে। তবে ফলাফল ঘোষণা নিয়ে সমস্যা হবে না। আমরা যত তাড়াতাড়ি পারব, ফলাফল ঘোষণা করব।

এদিকে গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে কন্ট্রোলার বিশ্বরূপ সরকার বলেন, মালদা কলেজের পিজি পাঠক্রম নিয়ে কোনও মন্তব্য করব না। গৌড়বঙ্গের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার বিপ্লব গিরি বলেন, মালদা কলেজের পিজি পাঠক্রম স্বশাসিত। তার ওপরে আমাদের নিয়ন্ত্রণ নেই। ফলে মন্তব্য করা ঠিক হবে না। তবে এটুকু বলতে পারি, আমরা সরকার ও ইউজিসির গাইডলাইন মেনে তৃতীয় সিমেস্টারের পরীক্ষা আগেই নিয়েছি। তার ফলাফল ঘোষণা করেছি। যেহেতু ছাত্রছাত্রীরা গত ছমাস ধরে অনলাইনে পড়াশোনা করেছেন, ফলে তাঁদের পরীক্ষার প্রস্তুতিতে কোনও অসুবিধা হয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কিছু পড়ুয়ার অভিযোগ, গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় প্রায় হাজারখানেক ছাত্রছাত্রী তৃতীয় সিমেস্টারের পরীক্ষা গত ৫ অক্টোবর থেকে শুরু করে ৯ অক্টোবরের মধ্যে শেষ করে। নিয়ম মেনেই তাঁদের ফলাফল ঘোষণা করা হয়। তাঁদেরকে ভার্চুয়ালি চতুর্থ সিমেস্টারে ভর্তি করা হয়। ওই সব পড়ুয়ারা করোনা আবহের মধ্যে চতুর্থ সিমেস্টারের অনলাইন ক্লাস করেছিলেন। পরীক্ষাও শেষ হওয়ার পথে। সরকার নির্ধারিত সময়ে মধ্যেই তাঁদের ফলাফল ঘোষণা হয়ে যাবে। কিন্তু মালদা কলেজ কর্তৃপক্ষ সবার থেকে আলাদা এমন ভাব দেখাতে গিয়ে পিজির প্রায় তিন শতাধিক ছাত্রছাত্রীর বিপদ ডেকে এনেছে।

- Advertisement -