মানসিক শান্তি মিলেছে, খুশি জকোভিচ

নিউ ইয়র্ক : ১৮ বছরের পেশাদার কেরিয়ারে এভাবে আত্মসমর্পণ করেছেন কি না জানেন না অনুরাগীরা। তবে ২০২১ ইউএস ওপেনের ফাইনাল হেরেও খুশি নোভাক জকোভিচ। কারণ ম্যাচের ফল যাই হোক, ম্যাচ শেষ হওয়ার পর মানসিকভাবে শান্তি পেয়েছেন জোকার।

চলতি বছরে বাকি তিনটি মেজর জিতে ফ্ল্যাশিং মিডোয় পা রেখেছিলেন জকোভিচ। রজার ফেডেরার, রাফায়েল নাদালের অনুপস্থিতি এবং নিজের দুরন্ত ফর্ম- দুইয়ের বিচারে ইউএস ওপেন জয়ের ক্ষেত্রেও ফেভারিট ছিলেন তিনিই। আর জিতলেই ক্যালেন্ডার স্ল্যামের বিরল নজির গড়তেন জোকার। ১৯৮৮ সালে স্টেফি গ্রাফ শেষবার এই তালিকায় নাম তুলেছিলেন। পুরুষদের সিঙ্গলসে ১৯৬৯ সালে রড লেভারের পর জোকারই প্রথম ক্যালেন্ডার স্লামের তালিকায় নাম তুলতেন। নিজেদের সেরা সময়ে যা পারেননি ফেডেরার, নাদাল বা সেরেনা উইলিয়ামসও। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ড্যানিল মেদভেদেভের কাছে হারলেন ৪-৬, ৪-৬, ৪-৬ স্ট্রেট সেটে।

- Advertisement -

এই কৃতিত্বের সামনে দাঁড়িয়ে বিপুল স্নায়ুর চাপে ছিলেন ঠাণ্ডা মাথার জকোভিচও। ম্যাচ শেষে বললেন, আমি স্বস্তি পেলাম। ম্যাচটা শেষ হয়েছে, তাতেই খুশি। আসলে এই প্রতিযোগিতা নিয়ে প্রত্যাশা মানসিকভাবে আমাকে চাপে ফেলছিল। গত দুসপ্তাহ এই চাপেই কেটেছে। এটা সামলানো সহজ কাজ ছিল না। আমি খুশি যে শেষ পর্যন্ত বিষয়টি শেষ হয়েছে। তবে ম্যাচটা জিতলে বেশি খুশি হতেন জোকার, একই সময়ে আমি কিছুটা দুঃখী, হতাশ। তবে পাশে থেকে সমর্থনের জন্য দর্শকদের ধন্যবাদ।

শুধু ক্যালেন্ডার স্ল্যামই নয়, মোট মেজরের সংখ্যায় রাফা-রজারকে পেছনে ফেলার সুযোগও হাতছাড়া করলেন জকোভিচ। এ প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, এভাবে শেষ ধাপে এসে হার মেনে নেওয়া সহজ নয়। তবে অন্যদিকে এই অনুভূতি একেবারেই অচেনা। আগে কোনওদিন এমন কিছু অনুভব করিনি। এদিন হারের মুখে দাঁড়িয়ে থাকা জোকারের হয়ে গলা ফাটিয়েছেন দর্শকরা। যা নিয়ে তিনি বলেন, নিউ ইয়র্কের দর্শকরা নিজেকে বিশেষ একজন ভাবতে বাধ্য করেছেন। তাঁদের এই সমর্থন ভোলা সম্ভব নয়।