দুই বছর ধরে ১০০ দিনের কাজ বন্ধ, বঞ্চিত সাধারণ মানুষ

267

জগন্নাথ রায়, ময়নাগুড়ি : ময়নাগুড়ি ব্লকের চূড়াভাণ্ডার গ্রাম পঞ্চায়েতের ভাঙ্গারহাট-২ বুথে দুই বছরের ওপর ১০০ দিনের প্রকল্পের কাজ না মেলায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাসিন্দারা। গ্রাম পঞ্চায়েত সূত্রে জানা গিয়েছে, ভাঙ্গারহাট-২ বুথে প্রায় ৩৫০ জনের ১০০ দিনের কাজের জব কার্ড রয়েছে। এই বাসিন্দাদের অভিযোগ, ওই বুথে দুই বছরের বেশি সময় ধরে ১০০ দিনের প্রকল্পের কোনও কাজ করানো হয়নি। ফলে তাঁরা যেমন কাজ পাননি, তেমনই গ্রামের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ একেবারেই হয়নি বলে অভিযোগ।

কী কারণে ওই বুথে ১০০ দিনের প্রকল্পের কাজ বন্ধ, তার খোঁজ নিতে গিয়ে জানা গিয়েছে, গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে ভাঙ্গারহাট-২ বুথে বিজেপির প্রার্থী পঞ্চায়েত সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। তারপর থেকেই ওই বুথে ১০০ দিনের প্রকল্পের কাজ দেওয়া নিয়ে বিজেপি ও তণমূলের মধ্যে মতানৈক্য দেখা দেয়। দুই দলই দাবি করে, তাদের সমর্থকদের বেশি করে কাজ দিতে হবে। দুই রাজনৈতিক দলের নেতা-নেত্রীরা একই দাবি নিয়ে থাকায় লকডাউনের মধ্যেও সাধারণ মানুষ ১০০ দিনের প্রকল্পের সুবিধা পাননি। এভাবেই রাজনৈতিক চাপানউতোরের মাঝে পড়ে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। ১০০ দিনের জব কার্ডধারী নিতাই মণ্ডল, দুধকুমার রায়, স্বর্ণ রায়, ফুলকান্ত রায়, মংলা অধিকারীদের অভিযোগ, করোনা পরিস্থিতিতে পার্শ্ববর্তী বুথগুলিতে পুরোদমে ১০০ দিনের প্রকল্পের কাজ চললেও তাঁদের বুথে দুই বছরের বেশি সময় ধরে একটিও কাজ হয়নি। দুই দলের নেতারা কাজ নিয়ে রেষারেষি শুরু করেছেন। লকডাউন চলাকালীন বাসিন্দাদের কষ্ট করে সংসার চালাতে হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কাজ পেলে উপকার হবে বলে জানিয়েছেন তাঁরা। পরিযায়ী শ্রমিক নিরঞ্জন রায় বলেন, লকডাউনের আগে বাড়ি এসেছিলাম। লকডাউনের জন্য পরে আর কাজে যেতে পারিনি। ১০০ দিনের কাজও পাইনি। আমরা কাজের দাবি জানাচ্ছি। ভাঙ্গারহাট বুথের ১০০ দিনের প্রকল্পের কাজের সুপারভাইজার ভবেন রায় বলেন, উভয় দল থেকে আমরা সমান সংখ্যক শ্রমিক নিয়ে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছিলাম। কিন্তু পঞ্চায়েত সদস্য তা মেনে নেননি। তিনি এই শর্তে রাজি থাকলে আমরা দ্রুত কাজ শুরু করার ব্যবস্থা করব। পঞ্চায়েত সদস্য নরেশ রায় বলেন, গ্রাম পঞ্চায়েতের কোনও কাজেই বিজেপি পঞ্চায়েত সদস্যদের গুরুত্ব দেওয়া হয় না। পঞ্চায়ে সদস্য হিসাবে ১০০ দিনের কাজের জন্য পঞ্চায়েত অফিসে আমি একটা ডিমান্ড জমা করলে বিরোধীরা অন্য ডিমান্ড জমা করেন। এই সমস্যার জন্য প্রায় দুই বছরের বেশি সময় ধরে আমার বুথে একটিও কাজ হয়নি। বিষয়টি নিয়ে আমি আবার প্রাধানের কাছে যাব। চূড়াভাণ্ডার গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান কাকলি বৈদ্য বলেন, ওই বুথের পঞ্চায়েত সদস্যকে বারবার বলা সত্ত্বেও তিনি কাজ করাতে পারেননি। তার জন্য সেখানকার সাধারণ মানুষ বঞ্চিত হচ্ছেন। এখন ভারী বৃষ্টি ও কর্মক্ষেত্রের অভাবে কাজ করানো যাচ্ছে না।

- Advertisement -