করোনার দাপটে ভিড় কমেছে মায়ের রান্নাঘরে

76

মণীন্দ্রনারায়ণ সিংহ, আলিপুরদুয়ার : যেখানে একটা ডিমেরই দাম পাঁচ টাকার বেশি সেখানে এই টাকায় ডিমভাত পেলে কেউই না করবেন না। করছিলেনও না। রাজ্যের অন্যান্য প্রান্তের মতো আলিপুরদুয়ারেও মায়ের রান্নাঘরে পাঁচ টাকার ডিমভাত খেতে বেশ ভিড় হচ্ছিল। হালে আলিপুরদুয়ারে রাজ্য সরকারের এই কর্মসূচিতে ভিড় অনেকটাই কমেছে। করোনা ভাইরাসের দাপট এড়াতেই অনেকে সেখানে যাচ্ছেন না বলে মনে করা হচ্ছে।

স্বনির্ভর দলের মহিলারা এই কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। দিনকে দিন ভিড় কমায় তাঁদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। এই কর্মসূচি বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে তাঁদের মধ্যে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আলিপুরদুয়ার পুরসভার প্রশাসকমণ্ডলীর চেয়ারম্যান মিহির দত্ত অবশ্য বলেছেন, করোনা পরিস্থিতির জেরে হয়তো বর্তমানে ভিড় কিছুটা কমতে পারে। কিন্তু মানুষকে পরিষেবা দিতে সরকারি এই উদ্যোগ বজায় থাকবে।

- Advertisement -

বিধানসভা ভোট ঘোষণার আগে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গরিব মানুষের জন্য পাঁচ টাকায় দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করেন। শুরুতে আলিপুরদুয়ারে এই খাবার খেতে রোজ ২২৫-২৫০ জনের ভিড় হচ্ছিল। তবে সপ্তাহখানেক ধরে ভিড় অনেকটাই কমেছে। কী কারণে এমনটা হচ্ছে, তা স্পষ্টভাবে বোঝা না গেলেও করোনার ভ্রূকুটিকেই এর অন্যতম কারণ হিসাবে মনে করা হচ্ছে। ভাইরাসের দাপট এড়াতে সপ্তাহখানেক ধরে গ্রামগঞ্জ থেকে বাসিন্দারা সেভাবে আলিপুরদুয়ার শহরমুখী হচ্ছেন না। এর জেরে বিভিন্ন হোটেল, রেস্তোরাঁর ব্যবসায় প্রভাব পড়েছে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে কয়েক মাস আগেই আলিপুরদুয়ার শহরের কলেজ হল্ট এলাকায় মায়ের রান্নাঘরের সূচনা হয়েছিল। পুরসভাকে এটি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়। রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগে নিম্ন আয়ের অনেকেই উপকৃত হন। তবে চালুর কিছুদিন পর কেন্দ্রটিতে বসে খাওয়া বন্ধ করে দেওয়ায় বিতর্ক শুরু হয়। যাঁরা খেতে আসছিলেন তাঁদের দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে খেতে হচ্ছিল। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসার পর সমস্যা মেটে। ১০ এপ্রিল ভোটের দিন পর্যন্ত আলিপুরদুয়ারে মায়ের রান্নাঘরে ভালোই ভিড় হয়েছিল।

কিন্তু ভোটের পর থেকেই আলিপুরদুয়ারে রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগে তেমন ভিড় নেই। করোনার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় শহরে আসা নির্মাণশ্রমিক থেকে দিনমজুরদের অনেকেই সেভাবে কাজ পাচ্ছেন না। ফলে নির্মাণশ্রমিক, দিনমজুররা সেভাবে শহরমুখী হচ্ছেন না। যানবাহনগুলিতে ভিড়ভাট্টা কমেছে। পরিবহণকর্মীরাও সেভাবে শহরে আসছেন না। শুরুতে আলিপুরদুয়ারে এই খাবার খেতে রোজ যেখানে ২২৫-২৫০ জনের ভিড় হচ্ছিল, সেই ভিড় কমে বর্তমানে গড়ে ১৫০ জনের মতো হয়েছে।