করলায় দূষণ কমেছে, নদীয়ালি মাছ বাড়ছে

313

জ্যোতি সরকার, জলপাইগুড়ি : জলপাইগুড়ি শহর এবং সংলগ্ন এলাকার মানুষের পাতে এবার নদীয়ালি মাছের বিভিন্ন পদ রান্না করে দেওয়া সম্ভব হবে। লকডাউনের জন্য দূষণের মাত্রা কমে যাওয়ায় করলা নদীতে নদীয়ালি মাছের বংশবৃদ্ধি হচ্ছে। পাশাপাশি নদীতে জলজ উদ্ভিদ বেড়ে যাওয়ায় মাছের খাদ্যেরও অভাব হচ্ছে না। এপ্রিল মাস ছিল নদীয়ালি মাছের ডিম পাড়ার  আদর্শ সময়। অন্য বছর নদীতে দূষণ থাকায় ডিম নষ্ট হয়ে য়েত। এবার সহজেই ডিম থেকে মাছের পোনা নদীর জলে বিচরণ করার সুযোগ পাবে। ফলে করলা নদীতে সরপুঁটি, টাকি, ট্যাংরা, বোয়াল, রুই, কাতলা, চিতল, বোরোলি, ফলি, চিংড়ি মাছ যথেষ্ট পরিমাণে পাওয়া যাবে। ইতিমধ্যেই মৎস্যজীবীরা নদীয়ালি মাছ করলা নদী থেকে অন্য বছরের তুলনায় বেশি পরিমাণে পাচ্ছেন। এর আগে ২০১১ সালের নভেম্বরে করলা নদীতে বিষক্রিয়ায় প্রচুর মাছ মারা যায়। তারপর থেকেই এই নদীতে মাছ উৎপাদনের ক্ষেত্রে খরা দেখা দেয়। লকডাউনে নদীতে দূষণ হ্রাস পাওয়ায় মাছ উৎপাদনের ছবি পালটাতে শুরু করেছে। সহকারী মৎস্য অধিকর্তা সুব্রত সরকার বলেন, করলা নদীতে নদীয়ালি মাছের সংখ্যা হ্রাস পাওয়ায় আমরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলাম। দীর্ঘদিন ধরে নদীয়ালি মাছের বংশবৃদ্ধির চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। নদীতে মাছের চারাপোনা ছাড়া হয়। এবার লকডাউনে নদী দূষণের পরিমাণ হ্রাস পাওয়ায় মাছের বংশবৃদ্ধি নির্বিঘ্নে হচ্ছে।

জলপাইগুড়ি জেলায় ৪২টি নদী রয়েছে। মৎস্য দপ্তর আশা করছে এবার ৪০টি নদীতে প্রচুর পরিমাণ নদীয়ালি মাছ পাওয়া যাবে। করলা নদীতে চিংড়ি মাছের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীর পাড়ে দলে দলে পরিয়াযী পাখি আসছে। জলপাইগুড়ি সায়েন্স অ্যান্ড নেচার ক্লাবের সম্পাদক ডঃ রাজা রাউত বলেন, ২০১১ সালে করলা নদীতে বিষক্রিয়ার পর মাছের বংশবৃদ্ধির কমে গিয়েছিল। দূষণ হ্রাস পাওয়ায় নদী তার পুরোনো ছন্দে ফিরতে শুরু করেছে। মৎস্যজীবী নিপুণ শা বলেন,করলা নদীতে দীর্ঘদিন ধরে মাছ ধরে বিক্রি করছি। এবারে মাছ বাড়ায় রোজগারে সুবিধা হবে।

- Advertisement -