নদীগুলিতে বিপজ্জনকভাবে মাছ কমে যাচ্ছে, উদ্বিগ্ন মৎস্য দপ্তর

173

প্রণব সূত্রধর, আলিপুরদুয়ার : আলিপুরদুয়ার শহর ও শহর সংলগ্ন নদীগুলিতে রেকর্ড পরিমাণ মাছ কমছে। চিন্তায় পড়েছে মৎস্য দপ্তর। গত এক দশক ধরে থেকে নদীগুলি থেকে হারিয়ে যাচ্ছে মাছ। কালজানি, ডিমা, গরম, নোনাই, চেকো সহ অন্যান্য নদীগুলিতে মাছের পরিমাণ কমে যাচ্ছে। প্রতিটি নদীতেই দিনদিন খরা জালের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সারাবছর ধরে নদীগুলিতে এভাবেই মাছ ধরা হয়। খরা জালে সব মাছই ধরা পড়ে। ফলে মাছ বড়ো হওয়ার আগে অনেক মাছ তুলে নেওয়া হয়। বিশেষ করে নদীগুলিতে নজরদারি না থাকায় এই প্রবণতা বাড়ছে। ফলে শুধু শহর নয়, শহরের বাইরে থেকে বিশেষ করে রায়ডাক সহ অন্যান্য জায়গা থেকে ফাঁস জাল, ছাপি দিয়ে মাছ ধরার অভিযোগও রয়েছে। ফলে আলিপুরদুযার শহর সংলগ্ন নদীগুলিতে নদীয়ালি মাছের সংখ্যাও কমছে। মৎস্যজীবীরা জানান, এক দশকের মধ্যে নদীতে বর্জ্য পদার্থের পরিমাণ বেড়েছে। বিশেষ করে কালজানি নদীতে ভোর থেকে বর্জ্য ফেলা হচ্ছে বলে তাঁদের অভিযোগ। এছাড়া মৃত জীবজন্তু ফেলার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া নদীগর্ভ  ভরাট হয়ে যাওয়ায় মাছের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। এছাড়াও নদীগুলিতে বিষ প্রয়োগ করেও মাছ মেরে ফেলা হচ্ছে। অনেক সময় ইলেক্ট্রিক শক দিযে মাছ মেরে ফেলার অভিযোগ রয়েছে। সচেতনতার অভাব একটা বড় সমস্যা হযে দাঁড়িয়েছে।

কালজানি নদীতে একাধিক খরা জাল পেতে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ। এছাড়া শহর সংলগ্ন প্রতিটি নদীতেই জায়গায় জায়গায় খরা জালে মাছ ধরার প্রবণতা বেড়েই চলেছে বলে অভিযোগ। মৎস্য দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, নদীতে মাছের সংখ্যা পর্যাপ্ত রাখতে মৎস্য সঞ্চার প্রকল্প চালু করা হয়েছে। সরকারিভাবে বছরের বিভিন্ন সময়ে মাছের পোনা এনে নদীতে ছাড়া হয়। সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী নদীতে জলের প্রবাহে বাধা তৈরি করে মাছ ধরা নিষিদ্ধ রয়েছে। বিশেষ করে নদী সম্পূর্ণভাবে আটকানো যাবে না। কৃষি ও চা বাগানে কীটনাশকের ব্যবহারের ফলে মাছের সংখ্যা কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ বলে মনে করছে মৎস্য দপ্তর। তবে নদীতে বিভিন্ন জাতের যে মাছ পাওয়া যেত তার সংখ্যা কমেছে। জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলা পরিষদ ও মৎস্য দপ্তর থেকে মৎস্যজীবীদের নিযে বিভিন্ন সময় সেমিনার করা হযয়। বর্ষাকালের শুরুতে যাতে পোনা মাছ ধরা না হয় তার জন্য প্রচার চালানো হয়। বিষ প্রয়োগ বা ইলেক্ট্রিক শক দিযে যাতে মাছ না ধরা হয় তার প্রচার চালানো হয়।

- Advertisement -

জেলা পরিষদের সভাধিপতি শীলা দাসসরকার বলেন, বিষ প্রয়োগ করে বা ইলেক্ট্রিক শক দিয়ে যাতে মাছ ধরা না হয় তার জন্য প্রচার চালানো হয়। এগুলি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এছাড়া বর্ষার শুরুতে মাছের পোনা ধরা নিষিদ্ধ করা হয়। অবৈজ্ঞানিক প্রথায় মাছ ধরার ফলে মাছের সংখ্যা কমছে। ভারপ্রাপ্ত জেলা মৎস্য আধিকারিক বিজয়কুমার গড়াই বলেন, নদীগুলিতে মাছের সংখ্যা কমছে। কৃষিকাজ ও চা বাগান এলাকায় কীটনাশকের প্রভাবে মাছের সংখ্যা সাধারণত কমে থাকে। বেআইনিভাবে নদী থেকে  মাছ ধরা হলে আইনত ব্যবস্থাও নেওয়া হয়।