লকডাউন শিথিল হতেই রাজ্যে বিয়ের হিড়িক

কলকাতা : সামাজিক অনুষ্ঠানের ছাড়পত্র পাওয়া মাত্র দশদিনে রাজ্যে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলেন প্রায় ৪ হাজার যুগল। ওয়েস্ট বেঙ্গল ম্যারেজ রেজিস্ট্রারের হিসাব অনুযায়ী, ৮ থেকে ১৮ জুনের মধ্যে সরকারিভাবে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে খাতায় নাম তুলেছেন ৩৮১৯ জন। ২৫ মার্চ থেকে টানা লকডাউনে বিয়ের রেজিস্ট্রেশন বন্ধ ছিল। তবে এই সময়ে কিন্তু আবেদন জমা বন্ধ হয়নি। এপ্রিল ও মে মাসে মোট ৫৭৫২ জন বিয়ের রেজিস্ট্রেশনের জন্য আবেদন করেছিলেন। পরবর্তীকালে আরও ৩০১১টি আবেদন জমা পড়ে। লকডাউনে সামাজিক অনুষ্ঠান বন্ধ ছিল। ফলে আগে ঠিক করা থাকলেও বহু বিয়ে বাতিল করতে হয়। পরবর্তীকালে যাঁদের বিয়ের পরিকল্পনা ছিল, তাঁরাও অনিশ্চয়তায় ভুগছিলেন। লকডাউন বেড়ে চলায় অনেকেই বেশ অসুবিধায় পড়েছিলেন। অবশেষে ১ জুন রাজ্য সরকার ঘোষণা করে ৮ জুন থেকে সামাজিক অনুষ্ঠান হতে পারে। যদিও নিমন্ত্রিতের তালিকা শ্রাদ্ধবাড়ি ও বিয়েবাড়ির ক্ষেত্রে ২৫ জন বেঁধে দেওয়া হয়।

লকডাউনে দীর্ঘদিন ব্যবসা বন্ধ ছিল। বহু মানুষের চাকরি গিয়েছে। তাই ম্যারেজ রেজিস্ট্রেশন দপ্তরের অনেকেই ভেবেছিলেন, আর্থিক মন্দার কারণে বিয়ের সংখ্যা কমবে। কিন্তু বাস্তবে উলটো ঘটনাই ঘটেছে। আবার লকডাউন হতে পারে, এমন আশঙ্কায় অনেকে তড়িঘড়ি বিয়ে সেরে নিচ্ছেন। অনেকে আবার মনে করছেন, এখন বিয়ে করলে ২৫ জনের বেশি লোককে নিমন্ত্রণ করার দরকার হবে না। তাই অল্প খরচে আপাতত বিয়েটা সেরে ফেলা যাবে। ম্যারেজ রেজিস্ট্রেশন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, সিংহভাগ বিয়ের রেজিস্ট্রি হয়েছে হিন্দু ম্যারেজ অ্যাক্ট ও স্পেশাল ম্যারেজ অ্যাক্ট অনুসারে। ম্যারেজ অফিসার রাধাগোবিন্দ পাল জানিয়েছেন, প্রথম ১০ দিনে যত বিয়ে হয়েছে, লকডাউনের আগের মাসেও তত হয়নি। ওয়েস্ট বেঙ্গল ম্যারেজ অফিসার অর্গানাইজেশনের কর্তা জয়ন্ত মিত্র বলেন, লকডাউনের পর প্রথমদিকে বিয়ের সংখ্যা কম থাকলেও এখন তা অনেকটাই বেড়েছে। জুন মাসে প্রচুর বিয়ে হচ্ছে।

- Advertisement -

বিয়ে হলেও অনেকেই মধুচন্দ্রিমা স্থগিত রেখেছেন। আপাতত মাস্ক-স্যানিটাইজার সঙ্গী করে ঘরে সময় কাটছে। তবে বিপাকে পড়েছেন কার্ড ব্যবসায়ীরা। তাঁরা বলছেন, বহু বিয়ে বাতিল হয়েছে। পরবর্তীকালে নমো-নমো করে কোনওমতে বিয়ে হলেও কার্ড দিয়ে নিমন্ত্রণের পরিস্থিতি নেই। তাই অগ্রিম বরাত দিয়ে অনেকে পরবর্তীকালে আর কার্ড নেননি। এরকম হাজার হাজার কার্ড মহাত্মা গান্ধি রোডের কার্ডের দোকানগুলিতে পড়ে রয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, অনেকে আড়াইশো-তিনশো কার্ডের বরাত দিয়ে সামান্য অগ্রিম টাকা দিয়েছিলেন। সেই অনুযায়ী কার্ড বানানো হয়ে গিয়েছে। এদিকে এখন অনেকে ফোন করে বলছেন, বিয়ে হয়ে গিয়েছে। আমরা সমস্যায় পড়েছি। এই কার্ড এখন পুরোনো কাগজের দোকানে ওজন দরে বিক্রি করা ছাড়া আর কোনও উপায় নেই।