থানায় বাড়ছে সংক্রমণ, বন্দিদের লকআপে রাখা নিয়ে প্রশ্ন

211

রাহুল মজুমদার, শিলিগুড়ি : ছোট একটা অন্ধকার ঘর। ঘরের মধ্যেই এক কোণায় বাথরুম। গাদাগাদি করে ওই ঘরেই বসে বেশ কয়েজন। একই বাথরুমও ব্যবহার করছেন সকলে। ওই ঘরের মধ্যেই আবার খাবার খেতেও হচ্ছে। করোনার আবহে থানার লকআপে বন্দিদের সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। শিলিগুড়ির বিভিন্ন থানার পুলিশ আধিকারিকরা ইতিমধ্যেই করোনা সংক্রামিত হয়েছেন। ফলে থানাগুলিতে পুলিশ হেপাজতে যে সব বন্দিরা থাকছে, তাদের মধ্যে যে কেউ সংক্রামিত হতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। গাদাগাদি করে থাকার ফলে অন্য বন্দিদের মধ্যেও সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে। বন্দিদের থেকে পুলিশকর্মীরাও সংক্রামিত হতে পারে বলে আশঙ্কা। ফলে এই নিয়ে চিন্তায় রয়েছেন শিলিগুড়ি কমিশনারেটের পুলিশকর্মীরাও। পুলিশে যে হারে সংক্রমণ বাড়ছে, তাতে আগামীতে কী হবে তা নিয়ে চিন্তায় তাঁরা। যদিও বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কোনও পুলিশকর্তাই মন্তব্য করতে চাননি। কমিশনারেটের কর্তাদের দাবি, বন্দিদের প্রতিদিন স্বাস্থ্য পরীক্ষার পাশাপাশি বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশের ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (জোন-১) নিমা নরবু ভুটিয়ার সঙ্গে একাধিকবার ফোন যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন না ধরায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

শিলিগুড়িতে ভক্তিনগর থানার আইসি সহ কয়েকজন পুলিশকর্মী সংক্রামিত হয়ে এখনও চিকিৎসাধীন। প্রধাননগর থানা ও শিলিগুড়ি থানার বেশ কয়েকজন পুলিশকর্মীও সংক্রামিত হয়ে সুস্থ হয়ে ফিরেছেন। এর মধ্যেই গত বুধবার নিউ জলপাইগুড়ি থানার এক এএসআইয়ের করোনা রিপোর্ট পজিটিভ আসে। ওই থানার এক পুলিশকর্মী আপাতত কোয়ারান্টিনে আছেন। এভাবে পুলিশকর্মীরা সংক্রামিত হতে শুরু হওয়ায় শিলিগুড়ির পুলিশকর্তারা। শিলিগুড়ির কোনও না কোনও থানায় এক-দুজন করে বন্দিকে নিয়ে আসা হচ্ছে। আদালত যাদের পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দিচ্ছে, তাদেরও বেশ কয়েকদিন থানার লকআপে থাকতে হচ্ছে। অন্যদিকে, রাতে যাদের গ্রেপ্তার করা হয়, তাদেরও একরাত থানাতেই রাখতে হচ্ছে। পুলিশের দাবি, লকআপে ঢোকানোর আগে বন্দিদের স্বাস্থ্যপরীক্ষা করা হচ্ছে। স্বাস্থ্যপরীক্ষায় জ্বর, সর্দি, কাশি রয়েছে কিনা বোঝা গেলেও কারও উপসর্গহীন করোনা সংক্রমণ রয়েছে কিনা তা কীভাবে বোঝা যাবে, তা নিয়ে অবশ্য কোনও পুলিশকর্তাই মন্তব্য করতে চাননি। অন্যদিকে, লকআপেও ভিতরেও শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার কোনও ব্যবস্থা না থাকায় সেখানেও সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা থাকছে। বিষয়টি নিয়ে গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা সমিতির সম্পাদক অভিরঞ্জন ভাদুড়ি বলেন,এটা একদমই অনুচিত কাজ। করোনা সংক্রমণ রুখতে সংশোধনাগার থেকেও সাজাপ্রাপ্ত বন্দিদের ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। থানা থেকে বন্দিদের আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময়ও দূরত্ব বজায় রাখা হচ্ছে না। ফলে তখনও সংক্রমণ ছড়ানোর সম্ভাবনা থাকছে।

- Advertisement -