শিলিগুড়িতে দ্রুত বাড়ছে সংক্রমণ, আগামী সপ্তাহ থেকে বিধান মার্কেট বন্ধ থাকার সম্ভাবনা

674
শিলিগুড়ির বিধান মার্কেট।

শমিদীপ দত্ত, শিলিগুড়ি: শিলিগুড়িতে করোনা সংক্রামিতের সংখ্যা লাফিয়ে বাড়ছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ বিধান মার্কেটেও করোনার থাবা পড়তে শুরু করেছে। মার্কেট কমিটির থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মার্কেটের সঙ্গে যোগসূত্র রয়েছে এমন ছ’জনের শরীরে করোনা সংক্রমণ পাওয়া গিয়েছে। যার মধ্যে একজন ব্যবসায়ী সমিতির সদস্যও রয়েছেন। করোনা আক্রান্ত হয়ে মার্কেটের একজনের মৃত্যু পর্যন্ত হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত ব্যবসায়ীরা এদিন নির্ধারিত সময়ের তিন ঘন্টা আগে সন্ধ্যা ছ’টা নাগাদ মার্কেট বন্ধ করে দেন। আগামী সপ্তাহ থেকে আপাতত কিছুদিনের জন্য মার্কেট বন্ধ রাখারও পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে মার্কেট কমিটির সূত্রে জানা গিয়েছে। আগামী সোমবার এবিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া বলে ব্যবসায়ী সমিতি জানিয়েছে।

- Advertisement -

স্থানীয় তথা ১১ নম্বর ওয়ার্ডের বিদায়ী কাউন্সিলার মঞ্জুশ্রী পাল বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা আগামী সপ্তাহ থেকে মার্কেট বন্ধ রাখার পরিকল্পনার বিষয়টি আমাকে জানিয়েছেন। যে হারে সংক্রমণ বাড়ছে তাতে ওঁনাদের এই পরিকল্পনাকে সমর্থন জানিয়েছি।’

শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত বিধান মার্কেটে জামাকাপড় থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামগ্রীর প্রায় ৩৫০০ দোকান রয়েছে। শহরের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী এলাকার সবমিলিয়ে প্রায় চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ হাজার মানুষ রোজগারের জন্য এই মার্কেটের উপর নির্ভরশীল।

মার্কেট সূত্রে জানা গিয়েছে, সরকারি তরফে ছাড়পত্র মিলতেই মার্কেট পুরোপুরি খুলে যায়। এমনকি প্রথমদিকে সকাল থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত মার্কেট খোলা রাখা হলেও চলতি মাসের ৯ তারিখ থেকে মার্কেট খোলার সময়সীমা আরও তিন ঘণ্টা বাড়ানো হয়। যদিও গত কিছুদিন ধরে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে।

মার্কেট কমিটি সূত্রে জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত ব্যবসায়ী সমিতির এক সদস্য সহ মার্কেটের মোট ছ’জনের শরীরে করোনা সংক্রমণ ধরা পড়েছে। তাঁদের মধ্যে একজন মারা যাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই চিন্তিত ব্যবসায়ীরা। পরিস্থিতি এমনই হয়েছে, যে এদিন নির্ধারিত সময়ের তিন ঘণ্টা আগেই মার্কেটের সমস্ত দোকান বন্ধ করে দেওয়া হয়।

অসিত দে নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘আমরা এদিন স্বেচ্ছায় দোকান বন্ধ করেছি। পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে। এমন পরিস্থিতিতে আমরা নিজেদের স্বার্থে আপাতত মার্কেট সম্পূর্ণভাবে বন্ধের রাখার পক্ষে মতপ্রকাশ করেছি।‘

মার্কেট কমিটির সম্পাদক বাপি সাহা বলেন, ‘সোমবার সকলের সঙ্গে বসে কথা বলে আমরা এবিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব।‘