লালার নমুনা পরীক্ষা কমিয়ে দেওয়ায় বিপদের আশঙ্কা

126

রণজিৎ ঘোষ, শিলিগুড়ি : কোনও ব্যক্তি করোনা পজিটিভ কি না তা যাচাই করতে তাঁর লালার নমুনা পরীক্ষাই হল মূল অস্ত্র। কিন্তু গত কয়েক মাস ধরে যেভাবে লালার নমুনা পরীক্ষা কমেছে তাতে স্বাস্থ্য দপ্তরের চিন্তা বাড়ছে। আদৌ সংক্রমণ কমেছে কি না তা নিয়ে খোদ স্বাস্থ্য দপ্তরই ধন্দে রয়েছে। যেভাবে নমুনা পরীক্ষা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে তাতে ভবিষ্যতের জন্য তা আশঙ্কার কারণ হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন। করোনা নিয়ে উত্তরবঙ্গের দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ সুশান্ত রায় বলেন, করোনার সংক্রমণ কমার পিছনে ঠিক কী কারণ রয়েছে তা জানতে আমাদের ফেব্রুয়ারি মাসের দিকে লক্ষ রাখতে হবে। জানুয়ারির মতো ফেব্রুয়ারিতেও যদি সংক্রমণের হার কম থাকে তা হলে বুঝতে হবে ভাইরাস তার শক্তি হারিয়েছে। তবে লালার নমুনা পরীক্ষা যাতে বাড়ানো হয়, সেজন্য জেলার পরীক্ষাকেন্দ্রগুলিকে বলেছি। দার্জিলিংয়ে মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ প্রলয় আচার্য বলেন, সরকারি নির্দেশেই লালার নমুনা পরীক্ষার হার কমেছে। যাঁরা নিজের ইচ্ছেয় হাসপাতালে আসছেন, প্রয়োজন হলে তবেই চিকিৎসকরা তাঁদের করোনা পরীক্ষা করাতে বলছেন।
করোনায় সংক্রমণের সঠিক তথ্য পেতে প্রতিটি জেলায় যে সমীক্ষা চলছে, তাতে গত বছরের শেষের দিকেও প্রতিদিন প্রায় ৫০-৬০ জন করোনা সংক্রামিতকে চিহ্নিত করা যাচ্ছিল। তবে ডিসেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহ থেকেই সংক্রমণের হার ক্রমশ নিম্নমুখী হতে শুরু করেছে। গত ২৩ এবং ২৬ জানুয়ারি শিলিগুড়ি পুরনিগম এলাকায় কোনও সংক্রমণের খবর পাওয়া যায়নি। বাস্তবে এটা স্বস্তির খবর বলে মনে হলেও চিকিত্সকদের একাংশ অন্য কিছু ভাবছেন। উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ভাইরাস রিসার্চ অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক ল্যাবরেটরি (ভিআরডিএল)-এর ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক ডাঃ শান্তনু হাজরা বলেন, সংক্রমণ কমে যাওয়ায় খুশি হওয়ার কিছু নেই। দার্জিলিং সহ বিভিন্ন জেলায় নমুনা পরীক্ষা অনেকটা কমে গিয়েছে। মাঝখানে যেভাব লালা পরীক্ষার জন্য সরকারিভাবে তৎপরতা দেখা গিয়েছিল, এখন তার বিন্দুমাত্রও নেই। অনেকে ইচ্ছাকৃতভাবেও পরীক্ষা করাতে চাইছেন না। আগে যেখানে দৈনিক ১,২০০-১,৫০০, এমনকি তারও বেশি নমুনা সংগ্রহ করা হত, এখন তা কমে ৩০০-৪০০তে এসে ঠেকেছে। তাই খাতায়-কলমে সংক্রমণের হার কমলেও স্বাস্থ্যবিধি না মানলে ভবিষ্যতে সমস্যা হতে পারে বলে চিকিৎসকদের একাংশ আশঙ্কা করছেন। উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসার ডাঃ কল্যাণ খান বলেন, সংক্রমণ কমছে ভেবে আমরা যদি স্বাস্থ্যবিধি ভুলে যাই, মাস্ক না পরি, ভিড়ের মধ্যে যাই সেটা খুবই ভুল হবে। কারণ, এই ধরনের ভাইরাস প্রতি মুহূর্তে চরিত্র বদল করে। কাজেই সচেতনতা ও সতর্কতার সঙ্গে কোনওভাবেই আপস নয়।