স্থানীয়রা আগলে রাখায় পরিযায়ীর ভিড় ইসলামপুরে

118

তপনকুমার বিশ্বাস, ইসলামপুর : ভিনদেশি অতিথি তারা। স্থানীয়রা কেউই ওদের উত্ত্যক্ত করেন না। ইসলামপুর শহরে চোপড়াঝাড়ের জীবন মোড়ের বাসিন্দাদের আদর-আপ্যায়নে শীতের অতিথিরা মহানন্দে ঘুরে বেড়ায়। কেউ ওড়ে খাবারের খোঁজে। কেউ ব্যস্ত থাকে জলকেলিতে। শহরের চোপড়াঝাড়ের একটি জলাশয়ে এখন ওদের আবাস। বঙ্গে শীতের আমেজ মালুম হতে না হতে বিদেশ থেকে এখানে উড়ে আসে পাখির ঝাঁক। এ বছরও তার অন্যথা হয়নি। শীতের অতিথিদের নিরাপদ আশ্রয়ে ব্যবস্থা করতে কোমর বেঁধেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

সুন্দর প্রাকৃতিক পরিবেশ থাকায় অনেকেই এখানে শীতের সময়ে পাখি দেখতে আসেন। আগে অনেক শিশু খেলার ছলে পাখিদের ইট, পাটকেল ছুড়ত। ফলে অনেক পাখি ইটের ঘায়ে আহত হত, বিঘ্নিত হত তাদের থাকার পরিবেশ। একটা সময় এই অত্যাচারের ফলে পাখির সংখ্যা কমতে শুরু করে। গত কয়েক বছর ধরে অবশ্য পাখিদের রক্ষা করতে উদ্যোগী হন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁরা জানান, পাখিদের উত্ত্যক্ত না করার জন্য এলাকার শিশুদের সচেতন করা হয়েছে। বর্ষাকালে পুকুরটি কচুরিপানায় ভরে যায়। সেটিও তাঁরা নিজেদের উদ্যোগে পরিষ্কার করেন। কেউ যাতে ওই জলাশয়ে থার্মোকলের থালা, প্লেট বা অন্য বর্জ্য না ফেলেন, সেদিকেও নজর রাখেন জীবন মোড়ের বাসিন্দারা।

- Advertisement -

কয়েক বছর আগেও অনেক পাখিশিকারি শীতের সময় সেখানে শিকার করতে আসত। স্থানীয় বাসিন্দাদের হস্তক্ষেপে পাখি শিকার এখন আর হয় না। এলাকার এক যুবক বলেন, প্রতি বছর শীতে আমাদের এখানে কত সুন্দর সুন্দর পাখি আসে। ওরা আমাদের শহরের গর্ব। তাই পাখিদের নিরাপদে রাখা আমাদের দায়িত্ব। প্রতি বছর শীতের শুরুতে নানা জায়গা থেকে পরিযায়ী পাখিরা ওই জলাশয়ে আসে। আবার গরমের শুরুতে তারা ফিরে যায়। এবার শীত পড়ার অনেক আগেই পরিযায়ী পাখিরা ওই জলাশয়ে ভিড় জমিয়েছিল। দীর্ঘ লকডাউনের ফলে দূষণ কম থাকায় পাখিরা তাড়াতাড়ি এসে গিয়েছে বলে এলাকাবাসীর অনুমান। এবার জুলাই-অগাস্ট মাস থেকেই অনেক পাখি জলাশয়ে আসতে শুরু করে। পরিযায়ী পাখিদের পাশাপাশি ওই জলাশয়ে চড়াই, ঘুঘু, দোয়েল, শালিকের মতো স্থানীয় পাখিরও দেখা মেলে। চোপড়াঝাড়ের বাসিন্দা বিবেকানন্দ দাস বলেন, ঠান্ডার সময় পর্যাপ্ত খাবার রয়েছে এমন নিরুপদ্রব স্থান পরিযায়ী পাখিরা বেছে নেয়। ডিজে, মাইক বা বাজি-পটকার আওয়াজ তাদের একেবারে পছন্দ নয়। জোরালো শব্দে পাখিরা ভয় পায়, বিশ্রামেও ব্যাঘাত ঘটে। শীতের অতিথিদের কথা ভেবে এলাকার সকলে শব্দবিধি মেনে চলেন। শহরবাসী এবং পাখিপ্রেমীদের আশা, চোপড়াঝাড় এখন অনেক নিরাপদ হওয়ায় পরিযায়ী পাখির সংখ্যা ভবিষ্যতে আরও বাড়বে।