বিতাড়িত বধূর পাশে মানবিক নার্স

216

চাঁচল : স্বামীর ঘর থেকে সন্তান সহ বিতাড়িত এক মহিলার পাশে দাঁড়ালেন চাঁচল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের এক নার্স। তাঁর প্রচেষ্টাতেই বর্তমানে বিতাড়িত ওই মহিলা কোলের সন্তান নিয়ে ঠাঁই পেয়েছেন হাসপাতালে। নির্যাতিতাকে ঘরে ফেরাতেও উদ্যোগী হয়েছেন তিনি। তাঁর ব্যবস্থাপনায় মঙ্গলবার ওই মহিলার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে জেলার একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা।

স্বামীর ঘর থেকে বিতাড়িত মহিলার নাম তসলিমা বিবি। বয়স ২৩ বছর। চাঁচল থানার অর্বরা গ্রামে তাঁর বাড়ি। ছেলেবেলাতেই বাবা ও মা এক দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছেন। বছর ছয়েক আগে এলাকার দারকিনারা গ্রামের যুবক মানোয়ারুল ইসলামের সঙ্গে প্রেম হয় তসলিমার। বছর তিনেক আগে মানোয়ারুলের সঙ্গে বিয়ে হয় তাঁর। তাঁদের দেড় বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। তাকে কোলে নিয়ে গত ২০ দিন ধরে চাঁচলের রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন তসলিমা।

তসলিমা বলেন, বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই শ্বশুরবাড়িতে আমার ওপর শুরু হয় অত্যাচার। শুধু স্বামী নয়, শ্বশুর এবং শাশুড়িও আমাকে কোনো কারণ ছাড়াই মারধর করত। এনিয়ে গ্রামে বেশ কয়েকবার বিচারও বসে। অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে আমি স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে বধূ নির্যাতনের অভিযোগ জানাই। সেই মামলা তোলার জন্য শ্বশুরবাড়ির লোকজন চাপ দিতে থাকে। মামলা প্রত্যাহার না করলে তারা আমাকে বাড়িতে রাখবে না বলে জানায়। মামলা না তোলায় শেষ পর্যন্ত মেয়ে সহ আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয় শ্বশুরবাড়ির লোকজন। উপায় না দেখে আমি ভাইয়ের বাড়ি যাই। সে আমাকে তার বাড়িতে থাকতে বলে। কিন্তু তার দুই স্ত্রী আমাকে সেখানে থাকতে দিতে চায়নি। তারপর থেকে আমি মেয়েকে নিয়ে রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছি। অবশেষে সোমবার আমি চাঁচল হাসপাতালের এক পরিচিত নার্সের সঙ্গে যোগাযোগ করি। সব শুনে তিনি আমাকে হাসপাতালে ভরতি করে নেন। এখন আমি শুধু নিজের থাকা আর খাওয়ার ব্যবস্থা চাই।

চাঁচল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের নার্স লাবণ্য সান্যাল বলেন, তসলিমা আমার কাছে ইনজেকশন নিতে আসতেন। তখনই তাঁর সঙ্গে আমার পরিচয় হয়। গতকাল তিনি হঠাৎ আমার কাছে আসেন। তিনি জানান, বাড়িতে খুব ঝামেলা চলছে। স্বামী তাঁকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে। গত ২০ দিন ধরে তিনি মেয়েকে নিয়ে এদিক ওদিক ঘুরে বেড়াচ্ছেন। আমি প্রথমেই তাঁকে হাসপাতালে ভরতি করার ব্যবস্থা করি। একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সঙ্গেও যোগাযোগ করি। ওই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সম্পাদক বিশ্বজিৎ ঘোষ আমাকে জানান, আপাতত যেন আমি তাঁকে হাসপাতালে ভরতি করে নিই। অবশেষে গতকাল বিকেল ৪টে নাগাদ তাঁকে হাসপাতালে ভরতি করা হয়। আমিও চাই, তসলিমার থাকা-খাওয়ার কোনো বন্দোবস্ত হোক।